প্রস্তাবিত ‘বড়নগর ইউনিয়ন’ ১২ বছরেও হয়নি বাস্তবায়ন

আগের সংবাদ

যানজটে ক্ষতির আর্থিক মূল্য

পরের সংবাদ

বাঁশখালীতে হাজারো শিক্ষার্থীর যাতায়াতে ভোগান্তি দূর করুন

প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২২ , ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২৬, ২০২২ , ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

বিভিন্ন সময়ে জলোচ্ছ¡াস ও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন। তন্মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো হচ্ছে- প্রেমাশিয়া, রায়ছটা, কদমরসুল, খানখানাবাদ। কিন্তু এসব গ্রামে এখনো আশানুরূপ উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এখনো বেড়িবাঁধ নির্মাণে ও উপকূলীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে পদক্ষেপ নেয়নি। এখানকার মানুষ যুদ্ধ করেই বেঁচে আছে। তারা আতঙ্কগ্রস্ত। বর্তমানে তারা ১৯৫৯ থেকে ৬০, ৬৮, ৯১, ৯৭ সাল পর্যন্ত একাধিক মহাপ্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকার ১৩ ইউনিয়নের মধ্যে ৭টি ইউনিয়নের জনগণ ক্ষয়-ক্ষতির হিসাব করে আসছে। এখানে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার লোনা জোয়ারের পানি ঢুকে বাঁশখালী বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকার মৎস্য চাষের ক্ষতিসহ বহু বসতঘর তলিয়ে যাচ্ছে। এখনো কদমরসুল, তেচ্ছিপাড়া, পশ্চিম বৈলগাঁও এলাকাসহ বেড়িবাঁধ না থাকা এলাকার মানুষ সাগরে জলোচ্ছ¡াস ও ঘূর্ণিঝড় শুরু হলে বাঁশখালীবাসীর হৃদয়ের কম্পন শুরু হয়। কখন এসে হানা দেয় বঙ্গোপসাগরের অথৈই ঢেউ।
এদিকে বিগত দিনে দফায় দফায় সংস্কার কাজ করেও ভাঙন থেকে রক্ষা করা যায়নি। প্রেমাশিয়া রায়ছটা, ঈশ্বরবাবু পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার উপকূলীয় সংযোগ সড়কটি এবং প্রেমাশিয়া আবদুর রশীদ সিকদার রোডটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় দিনের পর দিন এটি ভেঙে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ, সিনিয়র মাদ্রাসার হাজারো কোমলমতি শিক্ষার্থী প্রতিনিয়ত যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়ছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত শহরে চিকিৎসা কর্মে ও উপজেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সংক্রান্ত যাতায়াত, জরুরি কাজে উপজেলা সদরে গমনাগমন এবং রোগী পরিবহনের জন্য অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। বর্তমানে সড়কটি যান ও মানুষ চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিনিয়ত ঐতিহ্যবাহী বাণীগ্রাম, সাধনপুর হাইস্কুল, সাধনপুর পল্লী মঙ্গল হাইস্কুল, রায়ছটা, প্রেমাশিয়া হাইস্কুল, ডোংরা বিবি চৌধুরী হাইস্কুল, রায়ছটা জাতানুরাইন সিনিয়র আলিয়া মাদ্রাসা, কদমরসুল হামেদিয়া মাদ্রাসা, প্রেমাশিয়া রেজভিয়া ছিদ্দিকীয়া সুন্নীয়া মাদ্রাসা ও পূর্ব ও পশ্চিম রায়ছটা সরকারি প্রাথমিকের হাজারো শিক্ষার্থীর যাতায়াতে ভোগান্তির শেষ নেই। উপকূলীয় এলাকার ৪ লক্ষাধিক মানুষ বঙ্গোপসাগরের লবণাক্ত পানির সঙ্গে দীর্ঘ ৫ যুগের অধিককাল কয়েকটি পাড়ার বাসিন্দাদের বর্ষাকালে রাতের ঘুম হয় না। তারপরও মৃত্যুকে সঙ্গী করে এরা বেঁচে আছে আগামীতে একদিন স্বপ্নের বেড়িবাঁধ হবে, তাতে তারা ফিরে পাবে হারানো বসতঘর। বিশেষ করে প্রেমাশিয়া নয়াহাট থেকে ঈশ্বরবাবুর হাট পর্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় সংযোগ সড়কটি ভঙ্গুর অবস্থায় বিধায় প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের জনদুর্ভোগ অবর্ণনীয়। এগুলো অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে জরুরি সংস্কার জনস্বার্থে অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। স্মৃতি রক্ষার্থে উক্ত রাস্তাটি প্রেমাশিয়ার কৃতী পুরুষ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সৈনিক মো. রুহুল আমিনের নামে নামকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধামন্ত্রী, সাংসদসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

এস এম ফরিদুল আলম : প্রেমাশিয়া, বাঁশখালী
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়