ভোরের কাগজের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে লোহাগাড়ায় মানববন্ধন

আগের সংবাদ

পড়ন্ত বিকালে ডি সিলভাকে থামালেন সাকিব

পরের সংবাদ

গোবিন্দগঞ্জে ইপিজেড নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি সাঁওতালদের

প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২২ , ৫:৫৯ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ২৭, ২০২২ , ৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ

তিন ফসলি জমিতে ইপিজেড নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন সাঁওতালরা। বুধবার (২৫ মে) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সেই বিক্ষোভকে অবদমিত করা যায়নি। রংপুর ইপিজেডের জরিপ কাজ বন্ধের দাবিতে উপজেলার বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভ মিছিল করেন দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এই আদিবাসিরা।

মিছিলে তারা শ্লোগান দেয়, জীবন দেবো, তবু ছাড়বো না রক্তেভেজা জমি। ইপিজেডের জন্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকায় বেপজার জরিপ করার খবর শুনে সাঁওতালরা এই কর্মসূচি পালন করেন। সকাল সাড়ে নয়টা থেকে তারা ব্যানার, ফেস্টুন, তীর ও ধনুক হাতে উপজেলার কাটামোড় এলাকায় অবস্থান নেন। সাঁওতালদের বিক্ষোভ কর্মসূচির কারণে বেপজার জরিপ কাজ সম্পন্ন হয়নি।

এর আগে সাঁওতালরা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাঁওতালপল্লী মাদারপুর ও জয়পুর গ্রাম থেকে মিছিল নিয়ে কাটামোড়ে আসেন। এখান থেকে বাগদা বাজার পর্যন্ত কয়েক দফা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর সড়ক প্রদক্ষিণ করেন তারা। এরপর কাটামোড় এলাকা ও সাহেবগঞ্জ আমবাগানে পৃথক দুটি সমাবেশ করেন। সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত তারা কাটা মোড়ে অবস্থান করেন। সভায় তিন শতাধিক সাঁওতাল নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ কর্মসূচির আয়োজন করেছে গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি।

বক্তব্য দেন সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে ও সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন শেখ, সাঁওতাল নেতা প্রিসিলা মুরমু, মিথাইল মুরমু, হার্ডিয়াস মুরমু, মিসথেরিনা মুরমু, গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক জাহাঙ্গীর কবিরসহ অন্যরা।

সভায় বক্তারা বলেন, তাদের সঙ্গে বেপজার লোকজন কোনো আলোচনা করেনি। বেপজা কর্তৃপক্ষ নিজেরাই ইপিজেড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরার জন্য ব্যবস্থার দাবি জানান। বক্তারা তিন সাঁওতাল হত্যার বিচারসহ সাহেবগঞ্জ এলাকায় তাদের পিতৃপুরুষের জমিতে প্রস্তাবিত ‘রংপুর ইপিজেড’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিল করে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের সাঁকোয়া বিল এলাকায় ইপিজেড নির্মাণের দাবি জানান। যার প্রস্তাবনা ২০১২ সালে সাবেক জেলা প্রশাসক ড. কাজী আনোয়ারুল হক সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছিলেন।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে অবস্থিত রংপুর চিনিকল সূত্র জানায়, উপজেলার অন্তর্গত সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় রংপুর চিনিকলের আওতায় এক হাজার ৮৪২ একর জমি আছে। এই জমিতে উৎপাদিত আখ রংপুর চিনিকলে মাড়াই হতো। এক সময় সাঁওতালরা এসব জমি দখল করে।

২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ এসব জমিতে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে গেলে সাঁওতালদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে তিন সাঁওতাল শ্যামল হেমব্রম, রমেশ টুডু ও মঙ্গল মার্ডি নিহত, অন্তত ২০ জন আহত হন। এরপর থেকে সাঁওতালরা দফায় দফায় এই জমি দখল করেন। জমি উদ্ধারে গঠিত হয় সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি।

এ পরিস্থিতিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় তিন ফসলি জমিতে ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু স্থানীয় সাঁওতালরা এখানে ইপিজেড না করার জন্য আন্দোলন করছেন।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়