চট্টগ্রামে র‌্যাবের ওপর হামলা, গুরুতর আহত দুইজন ঢাকায়

আগের সংবাদ

বিশ্বকাপ ট্রফি বাংলাদেশে আসছে ৮ জুন

পরের সংবাদ

ডাউনিং স্ট্রিটে মদের পার্টি নিয়ে চাপে বরিস জনসন

প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২২ , ১১:০৪ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ২৫, ২০২২ , ১১:০৪ অপরাহ্ণ

যুক্তরাজ্যে ২০২০ ও ২১ সালে কোভিড লকডাউনের সময় বিধিনিষেধ ভেঙে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের অফিসে পার্টি করার ঘটনা নিয়ে এক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার ওপর পদত্যাগের জন্য প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাড়িতে কীভাবে রাতভর মদের পার্টি হয়েছে, মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করে কীভাবে সেসব পার্টিতে অনেকে বেসামাল আচরণ করেছেন- তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা সু গ্রে, যিনি এই তদন্ত প্রতিবেদনটি তৈরি করেন। খবর বিবিসির।

প্রতিবেদনে গ্রে উল্লেখ করেন, ব্রিটিশ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এমন আচরণ অনেক মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে। পার্লামেন্টে বিরোধী দল লেবার পার্টির উপনেতা অ্যাঞ্জেলা রেইনার এ বিষয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিটের মস্তিষ্কে পচন ধরেছে।

এসব পার্টির বেশির ভাগই ছিল ডাউনিং স্ট্রিটের কোনো কর্মকর্তার বিদায় উপলক্ষে বা কাজের শেষে একসঙ্গে বসে মদের পার্টি অন্যটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালনের পার্টি ।

যখন এসব পার্টি হচ্ছিল- তখন যুক্তরাজ্যে লকডাউন চলছিল। সেসময় দেশটিতে এমন ঘটনাও ঘটেছে যে বহু লোক তাদের মরণাপন্ন আত্মীয়স্বজনকে দেখার সুযোগও পাননি। সেই অবস্থার মধ্যেই ডাউনিং স্ট্রিটে পার্টির এসব খবর প্রকাশ হলে জনসাধারণ ক্ষুব্ধ হন।

এক বছরের মধ্যে অন্তত ১৬টি পার্টি

সু গ্রে এই প্রতিবেদনের কিছু অংশ জানুয়ারি মাসেই প্রকাশ করেছিলেন, এখন তার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশিত হলো। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের মে মাস থেকে ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ১৬টি পার্টির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১২টি তদন্ত করেছে পুলিশ। এর কয়েকটিতে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের উপস্থিতির প্রমাণ হিসেবে তার ছবিও দেয়া হয়।

এ জন্য ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ শতাধিক কর্মকর্তাকে জরিমানা করেছে পুলিশ।

সু গ্রের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিভিন্ন অংশ ও মন্ত্রিসভা কার্যালয় নেতৃত্ব ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এসব পার্টিতে বেশ কয়েকটি অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। যা ঘটতে দেয়া একেবারেই উচিত হয়নি।

তীব্র নিন্দা, প্রধানমন্ত্রী বরিসের পদত্যাগ দাবি

সু গ্রের প্রতিবেদন প্রকাশের পর পার্লামেন্টে বিরোধী দলের এমপিসহ কনজারভেটিভ পার্টির বেশ কয়েকজন এমপিও তীব্র ক্ষোভ এবং নিন্দা জানান। প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা কির স্টার্মার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উচিত তার ব্যাগ গুছিয়ে বিদায় নেয়া। তিনি কনজারভেটিভ পার্টির এমপিদের উদ্দেশ্যে বলেন, তারা যেন তাদের নেতাকে বলেন যে তার খেলা শেষ হয়ে গেছে।

লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের নেতা স্যার অ্যাড ডেভি বলেন, বরিস জনসন ধরা পড়ে গেছেন বলেই এখন দুঃখ প্রকাশ করছেন ।

এসএনপির নেতা ইয়ান ব্ল্যাকফোর্ড বলেন, পার্লামেন্টকে বিভ্রান্ত করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ডাউনিং স্ট্রিটে কাজের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে তার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পার্লামেন্টে আবারও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তিনি এসব ঘটনার ‘সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিচ্ছেন ও এ প্রতিবেদন থেকে তিনি শিক্ষা নিয়েছেন। তবে এখন এগুলো পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হবে।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়