শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংদের আউট করার ছক কষছেন মুমিনুল বাহিনী

আগের সংবাদ

বাউফলে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে চাঁনবরু স্মৃতি পাঠাগার

পরের সংবাদ

ভয়ংঙ্কর হয়ে ওঠা ফার্নান্দোকে থামালেন ইবাদত

প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২২ , ৪:১৩ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ২৪, ২০২২ , ৪:১৩ অপরাহ্ণ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে মঙ্গলবার (২৪মে) নিজদের প্রথম ইনিংসে সব উইকেট খ্ইুয়ে ১১৬.২ বলে ৩৬৫ রান তুলেছে বাংলাদেশ। জবাবে শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার দিমুথ করুণারত্নে ও ওশাদা ফার্নান্দো বেশ সতর্ক ব্যাটিং করেন। বিনা উইকেটে ৮৪ রান তুলে চা-বিরতিতে যায় লঙ্কানরা। বিরতি থেকে ফিরে ভয়ংঙ্কর হয়ে ওঠা ফার্নান্দোকে থামালেন পেসার ইবাদত হোসেন। লঙ্কান এই ওপেনার ৯১ বলে ৫৭ রান করেন। ফার্নান্দো আউট হবার পরও স্বস্তিতে নেই মুমিনুল বাহিনী। কারণ লঙ্কার দলপতি দিমুথ করুণারত্নে ঠিকই রানের চাকা সচল রাখেন। ২৯ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ১০৬ রান তুলেছে শ্রীলঙ্কা। তারা এখণো ২৫৯ রান পিছিয়ে আছে।

মিরপুরে টাইগার পেসার-স্পিনাররা শুরু দিকে ভয় ধরাতে পারেনি করুণারত্নে-ফার্নান্দোর মনে। মঙ্গলবার দুই পেসার ইবাদত ও খালেদের সঙ্গে মুমিনুল হক এরই মধ্যে বোলিং করিয়েছেন সাকিব আল হাসান ও মোসাদ্দেককে। নতুন বলে কেউই ব্রেক থ্রু এনে দিতে পারেননি। তবে ফার্নান্দোকে আউট করার সুযোগ পেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু তিনি নিজের বলে ফিরতি ক্যাচ লুফে নিতে পারেননি। অবশ্য নাগালে পাবার জন্য হাত বাড়িয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। যাইহোক ইবাদতের বলে শেষ রক্ষা হলো না ফার্নান্দোর।

এছাড়া দ্বিতীয় দিন সতীর্থরা যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেনি মুশফিককে। ফলে টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরি স্বাদ নিতে পারলেন না মিস্টার ডিপেন্ডেবল। ইবাদত আউট হবার পর আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন মুশফিক।

এদিকে মুশফিক-লিটনের ব্যাটিং নৈপুন্য দেখে মুগ্ধ হয়েছে ক্রিকেট বিশ্ব। প্রথম দিন ২৪ রানে টপ অর্ডারের পাঁচ ব্যাটাসম্যানকে হারানোর পর তাদের প্রতিরোধ ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছ থেকে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার ব্যাট হাতে শুরুটা ভালই করেন মুশফিক-লিটন দাস। ৭ ওভার সাবলীল ব্যাটিং করেন তারা। কিন্তু অষ্টম ওভারে ঘটে ছন্দ পতন। আর শ্রীলঙ্কা শিকার করে টাইগারদের জোড়া উইকেট। লিটন-মোসাদ্দেক আউট হলে একাই লড়াই চালিয়ে যান মিস্টার ডিপেন্ডেবল। এক কথায় বলা যায়, ঢাকা টেস্টে লঙ্কান বোলারদের পরীক্ষা নেন মুশফিক। তিনি দেখে শুনে ঠান্ডা মাথায় খেলে রানের চাকা সচল রাখেন। এমনকি মুশফিক দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুন্য প্রদশন করে ২১টি চার হাকিয়ে ব্যক্তিগত ১৭৫ রান তুলে অপরাজিত ছিলেন। কিন্তু হাতে উইকেট না থাকায় মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরি হলো না।

এছাড়া এর আগে ২০১৩ সালে সাদা পোশাকে প্রথম ডাবল সঞ্চেুরির কৃতত্বিও গড়েছেন মুশফিক। সেসময় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে ২০০ রান করছেলিনে। এরপর ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর ২১৯ রানে অপরাজতি ছিলেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। যা টেস্টে এখনও দেশের ব্যক্তিগত সবোর্চ্চ রান। এরপর ২০২০ সালে মিরপুরে ২০৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে মুশফিকই এক মাত্র তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির মালিক।
এর আগে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিন মুশফিক-লিটন ৭ ওভার সাবলীল ব্যাটিং করেন। কিন্তু অষ্টম ওভারে লঙ্কান পেসার রাজিথার অফস্টাম্পের বাইরের বলে খোচা দিয়ে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফিরেন লিটন। তিনি ১৪১ রানে থামেন। লিটন ২৪৬ বলে ১৬ চার ও ১ ছক্কায় ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটি সাজান। দুই বল পর ফের উইকেটের দেখা পায় শ্রীলঙ্কা। আড়াই বছর পর দলে ফেরা মোসাদ্দেক একই রকম ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। রাজিথার বলে ডিকবেলার হাতে রানের খাতা খোলার আগেই ধরা পড়েন। তাছাড়া টাইগারদের জোড়া উইকেট শিকার করে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম ফাইফারের স্বাদ পেলেন লঙ্কান পেসার রাজিথা। প্রথম দিন ডানহাতি এই পেসার ৩ উইকেট শিকার করেন।

এর আগে সোমবার(২৩ মে) ধ্বংসস্তূপ থেকে ব্যাট হাতে মহাকাব্য রচনা করেছেন মুশফিক-লিটন। ২৪ রানে ৫ উইকেট খুইয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় টাইগাররা। সেখান থেকে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৭৭ রানে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেন মুশফিক-লিটন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়