সঙ্গীর অভাবে ডাবল সেঞ্চুরি হলো না মুশফিকের

আগের সংবাদ

আত্মসমর্পণের পর আবারও কারাগারে সম্রাট

পরের সংবাদ

চিকিৎসকের আপত্তি সত্ত্বেও বন্ড সই করে আদালতে সম্রাট

প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২২ , ১:৫৪ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ২৪, ২০২২ , ১:৫৬ অপরাহ্ণ

যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ক্যাসিনো সম্রাট খ্যাত ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে সিসিইউ থেকে বের না হতে বলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএসএমইউ) কর্তৃপক্ষ। কিন্তু চিকিৎসকের আপত্তি সত্ত্বেও বন্ড সই করে ঝুঁকি নিয়ে আদালতে এসেছেন সম্রাট। এভাবে এসে আত্মসমর্পণ করায় তিনি ইতিহাস গড়েছেন বলে মনে করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী এনসানুল হক সমাজী।

মঙ্গলবার (২৪ মে) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামানের আদালতে জামিন আবেদন শুনানিতে এ কথা বলেন তার আইনজীবী।

আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, আসামি সিসিইউ থেকে আদালতে আত্মসমর্পণ করে ইতিহাস গড়েছেন। কারণ এমন গুরুতর চিকিৎসা থেকে কেউ বাইরে বের হন না। আসামি হাসপাতাল থেকে আসার সময় চিকিৎসকরা আপত্তি জানিয়েছিলেন। কারণ বাইরে গেলে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু তাদের কাছে আসামি বন্ড সই করে আসেন। এ সময় তার স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামি হাই রিস্কে আছেন। তবে আসামি আদালতের প্রতি সম্মান রেখে আজ জীবন ঝুঁকি নিয়ে আত্মসমর্পণ করলেন। তাই আমরা সকল নিয়ম-কানুন মেনে জামিন নিতে আবেদন করছি।

এদিন বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএসএমইউ) থেকে ঢাকা মহানগর আদালত এলাকায় এসে পৌঁছান সম্রাট। এসময় সম্রাটের হাজার হাজার নেতাকর্মীতে আদালত প্রাঙ্গণ ভরে যায়। সবাই শ্লোগান দিতে থাকেন। পরে ১২টা ৩৪ মিনিটে এজলাস কক্ষে উপস্থিত হন সম্রাট। একটা ২১ মিনিটে শুনানি শেষে বিচারক ১৫ মিনিট পর আদেশ দেবেন বলে জানান।

গত ১১ মে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সম্রাটের জামিন দেন একই আদালত। এটিসহ সবকটি মামলায় জামিন পাওয়ায় এদিনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কারামুক্ত হন তিনি। তিনটি শর্তে তাকে জামিন দেয়া হয়। শর্ত তিনটি হলো- অসুস্থতা বিবেচনা, বিদেশে না যাওয়া ও প্রতিটি ধার্যকৃত তারিখে আদালতে হাজিরা দেয়া। এছাড়া গত ১১ এপ্রিল রমনা থানার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় এবং গত ১০ এপ্রিল অস্ত্র ও অর্থপাচারের মামলায় জামিন পান তিনি।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুমিল্লা থেকে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করার পর কাকরাইলে তার কার্যালয়ে অভিযান চালায় র‌্যাব। এসময় সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পরদিন র‌্যাব-১ এর আব্দুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া পরে অর্থপাচার আইনে মামলায় হয়। পরে একই বছরের ১২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সম্রাট বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। অভিযোগ আছে তিনি মতিঝিল ও ফকিরাপুল এলাকায় ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং সেগুলোতে লোক বসিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নিতেন। অনেক সময় ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালনা করতেন। তিনি অবৈধভাবে উপার্জিত এসব অর্থ দিয়ে ঢাকার গুলশান, ধানমন্ডি ও উত্তরাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট কিনেছেন ও বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া তার সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রে নামে-বেনামে এক হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। মামলাটির অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গত ২২ মার্চ গ্রহণ করেন আদালত।

আদালতে অ্যাম্বুলেন্স চাইলেন সম্রাট

এদিকে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ক্যাসিনো সম্রাট খ্যাত ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট হাসপাতালে যাওয়ার জন্য আদালতে অ্যাম্বুলেন্স চেয়েছেন। জামিন শুনানির আগে সম্রাট তার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজীকে বলেন, ‘আমি সিসিইউ থেকে বন্ড সই করে নিজ ব্যবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে এসেছি। হাসপাতালে আমি অ্যাম্বুলেন্স চেয়েছিলাম। কিন্তু কর্তৃপক্ষ দেয়নি। যাওয়ার সময় আমাকে একটি অ্যাম্বুলেন্স দেয়ার আবেদন কইরেন।’

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়