মাইলফলকের অপেক্ষায় তামিম, ছন্দের খোঁজে মুমিনুল

আগের সংবাদ

রাশিয়া ইস্যুতে মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বাইডেন

পরের সংবাদ

সিরিজ জয়ের স্বপ্নে বিভোর টাইগাররা

প্রকাশিত: মে ২২, ২০২২ , ৯:২৮ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ২২, ২০২২ , ৯:২৮ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামে বাঘ-সিংহের লড়াইয়ে কেউ হারেনি। সোমবার (২৩ মে) থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় টেস্ট। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবার সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে হোম অব ক্রিকেটে মাঠে নামছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সকাল ১০টায় শুরু হবে ম্যাচ। লঙ্কানদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট জিতে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেতে মরিয়া লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। পরিসংখ্যানে লঙ্কানরা এগিয়ে থাকলেও এ মুহূর্তে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে টাইগাররা। সাদা পোশাকে একক পারফরম্যান্সে জয় সম্ভব নয়। টেস্টে দলীয়ভাবে ১৫টি সেশন কর্তৃত্ব দেখিয়েই জিততে হবে দলকে। কিন্তু কোনো এক সেশনে বাজেভাবে খেললে এর প্রভাব পড়বে পুরো ম্যাচেই। তাইতো মিরপুরে বেশ দেখেশুনে ঠাণ্ডা মাথায় লড়াই করতে হবে তামিম-সাকিবদের। রবিবার সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল দৃপ্ত কণ্ঠেই বলেছেন, এবার সিরিজ জয়ের ভালো সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। তবে সুযোগটা তার দল কীভাবে দেখছে, সেটিরই ওপর নির্ভর করছে সাফল্য। ঢাকায় দলগতভাবে খেলে নিজেদের পক্ষে ফল আনতে চান মুমিনুল।

তিনি বলেছেন, সব সময় তো একরকম থাকতে চাই না। আমার কাছে মনে হয় আমাদের জন্য (সিরিজ জয়ের) ভালো একটা সুযোগ। চট্টগ্রাম টেস্টের কথা চিন্তা না করে এখন আমাদের নতুন করে চিন্তা করতে হবে। আশা করি ঢাকা টেস্টেও যেন দলগতভাবে খেলতে পারি, তাহলে ফলাফল আমাদের পক্ষে আসবে।

মুমিনুল আরো যোগ করেন, মিরপুরে খেলা হোক বা দেশের বাইরে, সুযোগ তো সব সময়ই থাকে। সুযোগটা কীভাবে দেখছেন এটা সবচেয়ে বড় জিনিস। কন্ডিশন বা সব কিছুর কথা চিন্তা করলে এটা ভালো সুযোগ। সর্বোচ্চ সুযোগ নয়, তবে এটাও একটা সুযোগ। সুযোগ সব সময় থাকে, এটাও আমাদের জন্য আরেকটা সুযোগ সিরিজ জেতার।

এদিকে মিরপুর স্টেডিয়ামে এখন পর্যন্ত ২৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলা হয়েছে। যেখানে প্রতিপক্ষ দল জিতেছে ১৩ ও বাংলাদেশ জিতেছে ৬ বার, ড্র হয়েছে ৩ বার আর ১টি ম্যাচ বাতিল হয়েছে। সবশেষ ড্র হয়েছে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ। তবে এই মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩টি ম্যাচ খেলে একটিতেও জয়ের স্বাদ পায়নি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তাই পরিসংখ্যান দেখে বোঝা যাচ্ছে মিরপুরে ফল আসার সম্ভাবনাই বেশি। সেটি মেনেই মাঠে নামবেন মুমিনুল বাহিনী। জয়ের লক্ষ্যেই পরিকল্পনা করে আঁটঘাট বেঁধে লঙ্কাবধের আত্মবিশ^াসে টেস্ট অধিনায়ক।

চট্টগ্রাম টেস্টে ব্যাট হাতে ছন্দে ফিরেন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। মূলত তাদের তিনজনের ব্যাটে ভর করে বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। এমনকি এ টেস্টে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের ধারাবাহিকতা নিয়ে গর্ব করতে পারে বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে তামিমের ১৩৩, মুশফিকের ১০৫ রান আশার প্রদ্বীপ জ¦ালিয়েছে টাইগার শিবিরে। সঙ্গে লিটন ও জয়ের ফিফটিতে বেড়েছে বড় কিছুর আশা। কিন্তু শেষ কিছু দিনে ব্যাটটা কথা বলছে না বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হকের। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ছিলেন ব্যাট হাতে ব্যর্থ। এর আগে ঘরের মাঠে পাকিস্তান সিরিজ আর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দুই সিরিজ মিলিয়ে ফিফটিই ছিল মোটে একটি। সেই ব্যর্থতার বৃত্ত ছেড়ে ঢাকা টেস্টে গর্জে ওঠার অপেক্ষায় আছেন টাইগারদের টেস্ট দলপতি। নিজের ব্যাটিংয়ের বিষয়ে মুমিনুল রবিবার বলেন, এতকিছুর পরও আমি ব্যাটিং নিয়ে খুব একটা চিন্তা করি না। আমি বিশ^াস করি না ব্যাট হাতে খারাপ সময়ের মধ্যে আছি। দুই-তিনটি ম্যাচে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিবেচনা করা ঠিক নয়। যদি নিজের ব্যাটিংয়ের ওপর বিশ^াস করি তাহলে এটা থেকে বের হতে পারব। আমার কাছে মনে হয় আমরা যেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি এতে ঢাকা টেস্টে ভালো করা সম্ভব। আমি দলের ওপর অনেক আত্মবিশ^াসী। সবাই সবার সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে পারবে ইনশাআল্লাহ। তাছাড়া আমি ভালো করলে অন্যদেরও ভালো খেলার সম্ভাবনা বাড়বে এটা আমার কাছে কোনোভাবেই মনে হয় না। কারণ আমার পারফরন্স্যো কোনো মূল বিষয় নয়। আশা করি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে আমরা সবাই ভালো খেলব। মাঝেমধ্যে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন। এই পরিস্থিতি থেকে কাটিয়ে উঠতে হবে। মোসাদ্দেক যদি খেলে ওকে ভালোভাবে, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ব্যবহার করাটাও গুরুত্বপূর্ণ। সাকিব ভাই, তাইজুল যেহেতু আছে, ওদের নিয়ে আমি অনেক বেশি আত্মবিশ^াসী। আশা করি কোনো সমস্যা হবে না। আমার কাছে মনে হয় আমাদের জন্য ভালো একটা সুযোগ। চট্টগ্রাম টেস্টের কথা চিন্তা না করে এখন আমাদের নতুন করে চিন্তা করতে হবে। আশা করি ঢাকা টেস্টেও যেন দলগতভাবে খেলতে পারি, তাহলে ফলাফল আমাদের পক্ষে আসবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।