ঢাকা টেস্টে ব্যাট হাতে গর্জে ওঠার অপেক্ষায় মুমিনুল

আগের সংবাদ

ভোরের কাগজের বিরুদ্ধে মামলা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

পরের সংবাদ

দুদকের মামলায় হাজী সেলিম কারাগারে

প্রকাশিত: মে ২২, ২০২২ , ৩:৩৭ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ২২, ২০২২ , ৬:২৮ অপরাহ্ণ

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (২২ মে) শুনানি শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক শহিদুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

এরআগে বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে হাজী সেলিম এজলাস কক্ষে আসেন। এসময় তার ছেলে আরফান সেলিম সঙ্গে ছিলেন। তবে এজলাস কক্ষে নেতাকর্মীদের হুড়োহুড়ি দেখা যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ১২ মিনিট পর বিচারক শুনানি শুরু করেন। এসময় আত্মসমর্পণের আবেদন করেন সেলিমের আইনজীবী। এছাড়া আদালতে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন, কারাগারে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা এবং কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্ববধানে উন্নতমানের হাসাপাতালে বেটার ট্রিটমেন্টের আবেদন করেন আসামিপক্ষের এ আইনজীবী।

আইনজীবী বলেন, আসামি একজন সংসদ সদস্য। তার জামিনের দাবি করছি। এছাড়া তিনি অসুস্থ হার্টের রোগী, তার অপেন সার্জারি হয়েছে। এছাড়া তিনি বাক প্রতিবন্ধী। তাকে যদি কারাগারে নেয়া হয় তাহলে যেন তাকে ডিভিশন (কারাগারে বিশেষ সুবিধা) নেয়া হয়। কারণ তিনি ডিভিশন পান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুসারে তাকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। তিনি করেছেন। তবে ১০ বছর যেহেতু তার সাজা, তাই তার জামিনের সুযোগ নেই। এছাড়া দুদক আইনে ডিভিশনের সুযোগ নেই। তাকে আগে জেলখানায় যেতে হবে। শুনানি শেষে বিচারক আসামির জামিন নামঞ্জুর করেন।

জামিন নিতে রবিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে সংসদ সদস্য হাজী সেলিম। ছবি: ভোরের কাগজ

২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে জরুরি অবস্থার মধ্যে হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। এ মামলায় ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল আদালত রায় দেন। রায়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে হাজী সেলিমকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া তাকে সম্পদের তথ্য গোপনের দায়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। উভয় দণ্ড একসঙ্গে চলবে বলা হয়। অন্যদিকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে হাজী সেলিমকে সহযোগিতা করার দায়ে তার স্ত্রী গুলশান আরাকে তিন বছরের কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

হাজি সেলিম ও তার স্ত্রী গুলশান আরা বেগম এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট ১৩ বছরের সাজা বাতিল করে রায় দেন। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করে দুদক। আপিলের শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টের রায় বাতিল হয়ে যায়। সেই সঙ্গে হাজী সেলিমের আপিল পুনরায় হাইকোর্টে শুনানির নির্দেশ দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সে নির্দেশনার আলোকে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর দুদক হাজী সেলিমের আপিল দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন করে।

সেই আবেদনের শুনানি করে হাইকোর্ট ১১ নভেম্বর এ মামলার বিচারিক আদালতের নথি তলব করেন। নথি আসার পর গত ৩১ জানুয়ারি আপিলের শুনানি শুরুর পর গত বছর ৯ মার্চ রায় ঘোষণা করেন উচ্চ আদালত। সে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয়। হাইকোর্ট রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে হাজী সেলিমকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন।

এদিকে এই মামলার চার্জশিটে বলা হয়, হাজী সেলিম জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে প্রায় ২৬ কোটি ৯২ লাখ ৮ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া, সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ১০ কোটি ৪ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছিলো। হাজী সেলিম তার সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ৫৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকার হিসাব বিবরণী দাখিল করেছিলেন।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়