বরিশালের আলো রানী সরকারকে নিয়ে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

আগের সংবাদ

কেমিক্যাল শিল্পপার্কের প্লট বরাদ্দ ২০২৩ সালে: শিল্পমন্ত্রী

পরের সংবাদ

হাসান আরিফ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন আপসহীন

প্রকাশিত: মে ২১, ২০২২ , ১০:৩৯ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ২১, ২০২২ , ১০:৩৯ অপরাহ্ণ

হাসান আরিফ মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, বাঙালি সংস্কৃতির পক্ষে ছিলেন আপসহীন তেমনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ছিলেন আপসহীন। তিনি ফ্যাসিবাদ, জঙ্গিবাদ, স্বৈরাচার এবং সাম্প্রদায়িকতাসহ সকল আন্দোলন সংগ্রামে সম্মুখসারীতে অবস্থান নিয়ে নেতৃত্ব দিয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তার আদর্শ এবং বিশ্বাসকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে।

শনিবার (২১ মে) বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আবৃত্তিশিল্পী হাসান আরিফের নাগরিক স্মরণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

নাগরিক স্মরণ সভায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, অধ্যাপক এম এম আকাশ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাষ্টি মফিদুল হক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ম. হামিদ, ড. মুহাম্মদ সামাদ, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, বজলুর রশীদ ফিরোজ, প্রফেসর ডা. কামরুল হাসান খান, প্রফেসর নৃত্যশিল্পী মিনু হক, সাংবাদিক মুন্নী সাহা, যাত্রাশিল্পী মিলন কান্তি দে, কাজী মিজানুর রহমান, হাসান আরিফের বোন রাবেয়া রওশন তুলি।

স্মরণ সভায় স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারন সম্পাদক-কবি তারিক সুজাত। স্বাগত বক্তব্য ও সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি লেখক-গবেষক গোলাম কুদ্দুছ এবং সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আবৃত্তিশিল্পী আহকামউল্লাহ্। নাগরিক স্মরণ সভায় শুরুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর হাসান আরিফকে নিবেদিত সঙ্গীত ‘তোমারো পতাকা যারে দাও, তারে বহিবারে দাও শকতি’ এবং হাসান আরিফ নির্দেশিত আবৃত্তি প্রযোজনা ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ পরিবেশন করেন জোটের আবৃত্তিশিল্পী ও সংগীত শিল্পীরা। শোকগাঁথা পাঠ করেন বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী ভাস্কর বন্দোপাধ্যায়। হাসান আরিফের প্রোর্টে্রটে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান জোট নেতৃবৃন্দ।

শ্রদ্ধা জানিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, হাসান আরিফ জাতীয় জাগরণ সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছিলেন। তাকে হারিয়ে আমরা জাতীয় জাগরণ থেকে বঞ্চিত হলাম। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমােদের চলমান আন্দোলনকে বেগবান করতে সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টি করুন। যদিও গত ২১ বছর ধরে গেড়ে বসে থাকা অগণতান্ত্রিক শক্তিকে উপড়ে ফেলা কঠিন। তবে আমাদের যুদ্ধ এখনও থামেনি। তা চলছে অবিরাম চলছে। নানক বলেন, সাংস্কৃতিক আন্দোলন যখন দুবার্র আন্দোলনে রূপ নেয় তখন সাম্প্রদায়িকতা মাথাচাড়া দিতে পারে না।

শনিবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আবৃত্তিশিল্পী হাসান আরিফের নাগরিক স্মরণ সভায় বক্তারা। ছবি: ভোরের কাগজ

রাশেদ খান মেনন বলেন,আমরা যখন লড়াই করছি তখন তরুণ কমীর্ হিসেবে আরিফকে দেখেছি রাজপথে। কিন্তু আজকের প্রেক্ষাপটে কবিতা আর সংস্কৃতির সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে গেছে। এখন ভাস্কর্য নিমার্ন বন্ধ করে দেয়া হয়। এর বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক কমীর্দের আরো বেগবান হয়ে এগিয়ে আসবে হবে। মফিদুল হক বলেন, হাসান আরিফ শিল্পের ব্যঞ্জনা নিয়ে শহীদ মিনারে প্রতিভাত হয়ে উঠেছেন এবং তিনি বহু মানুষকে ছুয়ে গেছেন। রামেন্দু মজুমদার বলেন, শিল্প ভুবনে আমরা একজন গুণী শিল্পীকে অকালে হারালাম। আরিফ থাকবে তার ভালো কাজের মধ্য দিয়ে। মামুনুর রশীদ বলেন, হাসান আরিফ কেবল আবৃত্তিশিল্পী ছিলেন না,তার নিজস্ব একটা দর্শন ছিল। সে দর্শন ছিল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের।

নাসির উদ্দীন বাচ্চু বলেন, আমার স্বদেশ লুঠ হওয়ার কালে সবাইকে ঘুরে দাড়াতে সাহস যুগিয়েছিলেন আরিফ। আজ আরিফকে স্পর্শ করতে পারছি না, কিন্তু তার উপস্থিতি অনুভব করছি। আরিফকে বুকে রেখে বাংলাদেশকে আরিফের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। লিয়াকত আলী লাকী বলেন, হাসান আরিফকে কেবল আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে আখ্যায়িত করা ঠিক নয়, তিনি একাধারে গবেষক, সমালোচক, নির্দেশক এবং সংগঠক ছিলেন। তিনি ছিলেন আমাদের আত্মার আত্মীয়। ম. হামিদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, বাঙালি সংস্কৃতির পক্ষে ছিলেন আপসহীন তেমনি যুদ্ধপরাধীদের বিচারের দাবিতেও ছিলেন আপসহীন। মুহাম্মদ সামাদ বলেন, হাসান আরিফ বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে সারা দেশে আবৃত্তি শিল্পকে ছড়িয়ে দিয়েছেন।

এম এম আকাশ বলেন, হেফাজত যেদিন শাপিলা চত্বর ঘিরে ফেলেছিল সেদিন নির্ভয়ে আরিফ তার সাংস্কৃতিক কমীর্বাহিনী নিয়ে অবস্থান করেছিলেন সেখানে। তিনি একই সঙ্গে যোদ্ধা এবং সাহসী মানুষ। গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচারসহ সকল সংগ্রামে হাসান আরিফ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তার আদর্শ এবং বিশ্বাসকে আমাদের সামনে এগিয়ে নিতে হবে।

হাসান আরিফ করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রায় চার মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন। শিল্প-সংস্কৃতির জন্য নিবেদিতপ্রাণ এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব চিকিৎসাবিজ্ঞানের সহায়তার জন্য মরণোত্তর দেহদান করে গেছেন।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়