দেওয়ানগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্বামীর হাতে স্ত্রী নিহত

আগের সংবাদ

থানা থেকে পালিয়েছেন ছিনতাই মামলার আসামি

পরের সংবাদ

বেঙ্গালুরুতে স্বদেশি নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগে বাংলাদেশির সাজা

প্রকাশিত: মে ২১, ২০২২ , ১:৪৮ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ২১, ২০২২ , ৩:৩৪ অপরাহ্ণ

ভারতের বেঙ্গালুরুতে ২২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নারীকে গণধর্ষণ, অত্যাচার ও সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেয়ার অপরাধে ১১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন বেঙ্গালুরুর একটি স্থানীয় আদালত।

গত বছরের মে মাসের ওই ঘটনার তদন্তে নেমে শুক্রবার আদালত অভিযুক্ত তিনজন নারীসহ ওই ১১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন থেকে নয় মাসের কারাগারের সাজার আদেশ দেন বেঙ্গালুরুর অতিরিক্ত সিটি সিভিল অ্যান্ড সেশন আদালতের বিচারক এন. সুব্রামন্যা।

দোষী সাব্যস্ত চাঁদ মিয়া ওরফে সবুজ, মহম্মদ রফিকাদুল ইসলাম ওরফে হৃদয় বাবু, মহম্মদ আলামিন হোসেন ওরফে রফসান মণ্ডল, রাকিবুল ইসলাম ওরফে সাগর, মহম্মদ বাবু শেখ, মহম্মদ ডালিম ও আজিম হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাগারের সাজা দেয়। তাদের সহযোগী তানিয়া খান’কে ২০ বছরের কারাগারের সাজা শোনায় আদালত। এই গ্যাংয়ের সদস্যদের সমর্থনের অভিযোগে এবং অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত মহম্মদ জামালকে পাঁচ বছরের কারাগারের সাজা দেয়া হয়। সবকিছু জানা সত্ত্বেও অপরাধ স্বীকার না করার কারণে অন্য দুই নারী- নুসরত ও কাজল- সবাইকেই ৯ মাসের করে কারাগারের সাজা দেয়া হয়।

ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে কর্নাটক রাজ্যের রামামূর্তি নগর পুলিশ থানার অধীন কনক নগর এলাকায়। গত ২০২১ সালের ১৮ মে নির্যাতনের ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায় একজন নারীকে নির্যাতন করছে চারজন পুরুষ। বিষয়টি ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশেও যথেষ্ট আলোড়ন তোলে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, আক্রান্ত ওই নারী উত্তরপূর্ব ভারতের কোনো রাজ্যের বাসিন্দা। স্বাভাবিকভাবেই আসাম পুলিশের পক্ষ থেকে আক্রান্ত ও অভিযুক্তদের ছবি দিয়ে টুইট করার পাশাপাশি তাদের সন্ধান দিলে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়।

এরপর তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। অভিযুক্তদের খোঁজে বেঙ্গালুরু সহ সংলগ্ন রাজ্যগুলিতেও অভিযান চালায় বেঙ্গালুরু পুলিশ। তদন্তে নেমে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে মোট ১২ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ১১ জনই বাংলাদেশি নাগরিক তারা সবাই অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং বেঙ্গালুরুতেই বসবাস করছিল। বাকিজন বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা।

কাজের লোভ দেখিয়ে ওই বাংলাদেশি নারীকে পাচার করে প্রথমে বেঙ্গালুরুতে নিয়ে আসা হয়। যদিও নিজের বুদ্ধির জোরে ওই দলের হাত থেকে পালিয়ে কেরলে চলে যায় সে। কিন্তু দলের সদস্যরা ওই নারীর পিছু ধাওয়া করে তাকে ফের কেরল থেকে বেঙ্গালুরুতে নিয়ে আসে। তারপর এই সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধিতে মামলা দায়ের করা হয়।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়