বৈশ্বিক সংকট সমাধানে সু-সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আগের সংবাদ

২১ মে বিশ্ব মেডিটেশন দিবস : ভালো মানুষ ভালো দেশ স্বর্গভূমি বাংলাদেশ

পরের সংবাদ

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর প্রয়াণ

প্রকাশিত: মে ২১, ২০২২ , ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২১, ২০২২ , ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

কালজয়ী একুশের গানের রচয়িতা, সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী আর নেই। গত বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। দেশের এই বরেণ্য মানুষের মৃত্যুতে সর্বস্তরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরাও শোকাহত। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনের অন্তর্ভুক্ত অবিভক্ত ভারতের বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের উলানিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ওয়াহেদ রেজা চৌধুরী। তিনি ১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি জয় বাংলা, পরে যুগান্তর ও আনন্দবাজার পত্রিকায় কাজ করেন। ১৯৭৪ সালের ৫ অক্টোবর ইংল্যান্ডে যাওয়ার পর সেখানেই স্থায়ী হন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। যুক্তরাজ্যে তিনি নতুন দিন নামে একটি সংবাদপত্র চালু করেন। এছাড়া সেখান থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখতেন তিনি। তিনি সাংবাদিকতা জীবনে ‘ডানপিটে শওকত’, ‘চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান’, ‘নাম না জানা ভোরে’, ‘নীল যমুনা’, ‘শেষ রজনীর চাঁদ’ ও ‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’র মতো ৩৫টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড নিয়ে ‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ নামের একটি ফিল্মও প্রযোজনা করেন। সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৬৭ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৯ সালে তিনি স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি পদক, স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক, ইউনেস্কো সাহিত্য পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পদক, সংহতি আজীবন সম্মাননা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। দেশের প্রগতিশীল রাজনীতি, সংস্কৃতি ও সমাজ বদলের আন্দোলনে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ছিলেন একজন আলোকিত মানুষ। বাংলাদেশের ইতিহাসের নানা বাঁকবদলের সাক্ষী তিনি। একাত্তরের মুজিবনগর সরকারের মুখপত্র সাপ্তাহিক জয় বাংলার নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৪ সাল থেকে লন্ডনে বসবাস করলেও মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার পক্ষে তার কলম সোচ্চার ছিল বরাবর। ভালোবাসতেন দেশ, মাটি ও মানুষকে। এজন্য লন্ডনে বসেও তিনি তার দায়িত্ব পালন করেছেন। তার লেখায় বারবার সে কথাই উঠে এসেছে। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ একুশের এই কালজয়ী গানের জন্যই আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী যুগ যুগ বেঁচে থাকবেন বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে। গানটি আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে গানটি রচনা করেন। এতে বাংলা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ফুটে উঠেছে। ভাষাশহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরিতে এই গান গেয়ে সবাই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। তার কর্ম আগামীতে আমাদের অনুসন্ধানের আলো দেখাবে। আমরা তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়