বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি নয় : সিস্টেম লস ও দুর্নীতি রোধ করুন

আগের সংবাদ

ডলারের বাজারেও মজুতদারি!

পরের সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ছে মাংকিপক্স

প্রকাশিত: মে ২০, ২০২২ , ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২০, ২০২২ , ৮:৪১ পূর্বাহ্ণ

আফ্রিকা থেকে ছড়ানো মাংকিপক্স নামে একটি রোগ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, স্পেন, পর্তুগাল ও ব্রিটেনে ছড়িয়ে পড়েছে বলে এসব দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে।

বিরল এই রোগটি সর্বশেষ ধরা পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। কানাডায় ১৩ জনের দেহে মাংকিপক্স শনাক্তের ঘটনা দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে পর্তুগালে পাঁচজন, স্পেনে সাতজন ও যুক্তরাজ্যে মোট ৯ জনের দেহে এই রোগ শনাক্ত হয়েছে। খবর বিবিসির।

মাংকিপক্স কী?

মাংকিপক্স একটি রোগ। এই রোগ ছড়ায় ‘মাংকিপক্স’ নামে এক ধরনের ভাইরাসের মাধ্যমে। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এটি অনেকটা জল বসন্তের ভাইরাসের মতো। তবে এর ক্ষতিকারক প্রভাব কম। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এর সংক্রমণের হারও কম।

মাংকিপক্স ভাইরাস

পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার নিরক্ষীয় বনাঞ্চলে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা গেছে। মাংকিপক্স দুই ধরনের হয়ে থাকে- মধ্য আফ্রিকান এবং পশ্চিম আফ্রিকান।

যুক্তরাজ্যে প্রথম দুইজনের দেহে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়। ওই দুইজন সম্প্রতি নাইজেরিয়া সফর করে এসেছেন। চিকিৎসকরা ধারণা করছেন, তারা পশ্চিম আফ্রিকা ধরনের মাংকিপক্সে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তৃতীয় যে ব্যক্তি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি একজন স্বাস্থ্যকর্মী। তিনি রোগীদের কাছ থেকে এই ভাইরাস পেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাংকিপক্সের উপসর্গ কী?

এই রোগের প্রাথমিক উপসর্গ হচ্ছে জ্বর, মাথাব্যথা, হাড়ের জয়েন্ট ও মাংসপেশিতে ব্যথা এবং অবসাদগ্রস্ততা। জ্বর শুরু হওয়ার পর দেহে গুটি দেখা দেয়। এসব গুটি শুরুতে দেখা দেয় মুখে। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে হাত ও পায়ের পাতাসহ দেহের সব জায়গায়। এই গুটির জন্য রোগী দেহে খুব চুলকানি হয়। পরে গুটি থেকে ক্ষত দেখা দেয়। গুটিবসন্তের মতোই রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলেও দেহে এসব ক্ষতচিহ্ন থেকে যায়। রোগ দেখা দেয়ার ১৪ থেকে ২১ দিনের মধ্যে রোগী আরোগ্য হয়।

মধ্য আফ্রিকায় মাংকিপক্স আক্রান্তু শিশু

কীভাবে ছড়ায় মাংকিপক্স?

সংক্রমিত রোগীর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ থেকে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে, ত্বকের ক্ষত থেকে এবং নাক, মুখ ও চোখের ভেতর দিয়ে এই ভাইরাস মানুষের দেহে প্রবেশ করে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বানর, ইঁদুর, কাঠবিড়ালি, এমনকি মাংকিপক্সে আক্রান্ত রোগীর ব্যবহৃত বিছানাপত্র থেকেও এই ভাইরাস অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে।

কতটা বিপজ্জনক মাংকিপক্স?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মাংকিপক্স ভাইরাসের প্রভাব বেশ মৃদু। এর বৈশিষ্ট্য জল বসন্তের মতোই এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।

কীভাবে মাংকিপক্সের প্রকোপ ঘটছে?

মাংকিপক্স প্রথম ছড়িয়েছিল একটি বানর থেকে। এরপর ১৯৭০ সাল থেকে আফ্রিকার ১০টি দেশে মাংকিপক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত হয় ২০০৩ সালে। সেটাই ছিল এই ভাইরাস আফ্রিকার বাইরে ছড়িয়ে পড়ার প্রথম ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ৮১ জনের দেহে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

মাংকিপক্সের সবচেয়ে বড় প্রকোপ দেখা দেয় ২০১৭ সালে নাইজেরিয়ায়। দেশটিতে মাংকিপক্স প্রথম হওয়ার ৪০ বছর পর। এসময় ১৭২ জনের ভাইরাসটি শনাক্ত হয়।

মাংকিপক্সের চিকিৎসা কী?

মাংকিপক্স ভাইরাসের কোনো চিকিৎসা নেই। তবে যে কোনো প্রাদুর্ভাবের মতোই উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে এর প্রকোপ রোধ করা যায়। গুটি বসন্তের টিকা ৮৫ শতাংশ কার্যকর দেখা গেছে। তাই মাংকিপক্সের জন্য এখন এই টিকাই ব্যবহার করা হচ্ছে।

মাংকিপক্স নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাপক হারে ছড়িয়ে না পড়লে এই ভাইরাস নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এ বিষয়ে ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ড. নিক ফিন বলছেন, এটা বুঝতে হবে যে মাংকিপক্সের ভাইরাস খুব সহজে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে না। তাই এখন পর্যন্ত মাংকিপক্স নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়