‘শিবির করিস’ বলে কলেজশিক্ষককে চড় মারেন এমপি

আগের সংবাদ

শতবর্ষী মন্দিরে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারকে সংবর্ধনা

পরের সংবাদ

ভারতের নিখাত জারিন বক্সিংয়ে জিতে নিলেন স্বর্ণপদক

প্রকাশিত: মে ২০, ২০২২ , ৯:৫২ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ২০, ২০২২ , ৯:৫৮ অপরাহ্ণ

নিখাত জারিন যখন মেয়েদের বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের জন্য স্বর্ণপদক জয় করলেন, তখন তার বাবা বললেন, এবার সমালোচকদের মুখ বন্ধ হয়েছে। নিখাত ভারতীয় বক্সারদের মধ্যে পঞ্চম নারী যিনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) তুরস্কে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ফ্লাইওয়েট বিভাগে তিনি থাইল্যান্ডের জিতপং জুতামাসকে ৫-০তে পরাজিত করেন। দু’হাজার আঠারো সালে ম্যারি কোম সোনা জেতার পর থেকে এ পর্যন্ত আর কোনো সোনা ভারতের ঘরে আসেনি। আর এই বিজয়ে নিখাত জারিনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

২৫-বছর বয়সী নিখাতের জন্ম দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তেলেঙ্গানার নিজামাবাদ শহরে। এর আগে তিনি জুনিয়ার ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপেও বিজয়ী হন। তার বাবা মোহাম্মদ জামিল নিজেও একজন স্পোর্টসম্যান। গত কয়েক দশক ধরে সমানে তিনি মেয়েকে উৎসাহ জুগিয়ে এসেছেন।

“মুসলমান মেয়ে শর্টস (হাফ প্যান্ট) পরে প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে বলে লোকে কত নিন্দা করেছে। কিন্তু আমরা তাদের কথায় কান দেইনি,” বিবিসিকে বলছিলেন তিনি, “কিন্তু সে যখন ইয়ুথ চ্যাম্পিয়ন হলো তখন থেকেই তাদের ধারণায় পরিবর্তন ঘটলো। সে তার যোগ্যতা প্রমাণ করেছে।”

নিখাত জারিনের বিজয়ের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র রিজু দত্ত টুইট করেছেন, তেলেঙ্গানার এক মুসলমান মেয়ে বিশ্ব দরবারে ভারতকে গর্বিত করেছে। “খবরটা দু’বার পড়ে দেখুন। আর গর্ব অনুভব করুন। থ্যাংক ইউ নিখাত।

অনুসন্ধানী সাংবাদিক করন ত্রিপাঠি লিখেছেন, ইসলাম বিদ্বেষ, নারী বিদ্বেষ আর কাঁধের ইনজুরিকে ঘুষি মেরে ধরাশায়ী করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন নিজামাবাদের মেয়ে নিখাত জারিন। আর এটা ছিল তার প্রথম রাউন্ড। বৃহস্পতিবার যখন ফাইনাল ম্যাচটি চলছিল তখন নিখাতের বাবা মোহাম্মদ জামিল ছিলেন বেশ উত্তেজিত। কিন্তু মেয়ের ওপর তার ভরসা ছিল।

“ফাইনালের আগ পর্যন্ত নিখাত এত ভালো খেলেছে যে এই ম্যাচে সে যে জিতবে তাতে আমরা নিশ্চিত ছিলাম। দেশের জন্য এই জয় এক বিশাল ব্যাপার। ভারতের বক্সিং ফেডারেশনের জন্যও তাই,” বলছেন তিনি। জিতপং জুতামাসের বিরুদ্ধে ফাইনাল ম্যাচে বিচারকরা নিখাত জারিনকে ৩০-২৭, ২৯-২৮, ২৯-২৮, ৩০-২৭ এবং ২৯-২৮ পয়েন্ট দেন। অর্থাৎ পাঁচটি বাউটেই তিনি প্রতিপক্ষকে হারাতে সক্ষম হন।

“আমার লক্ষ্য ছিল বিচারকদের কাছ থেকে সম্ভব হলে সর্বসম্মত রায় আদায় করা। রায় বিভক্ত হলে ফলাফল যে কোন দিকে যেতে পারতো,” বলছেন নিখাত। “কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডে রায় বিভক্ত হয়েছিল। তাই তৃতীয় রাউন্ডে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। আমি খুশি যে জয় পেয়েছি।”

ম্যাচের পর যে প্রেস কনফারেন্স হয় সেখানে নিখাত জানান, কীভাবে করোনাভাইরাসের মধ্যে অনেক কষ্ট করে তাকে অনুশীলন করতে হয়েছে। তিনি জানান, তার পরবর্তী লক্ষ্য হচ্ছে কমনওয়েলথ গেমসের ট্রায়ালের জন্য প্রস্তুতি নেয়া। সেই গেমসে তিনি ৫০ কেজি বিভাগে লড়বেন।

ডি-ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়