ড.-রাহমান-নাসির-উদ্দিন

সাম্প্রতিক বৈশ্বিক বাস্তবতায় অর্থনীতির চলমান অস্থিরতা কী খুব অস্বাভাবিক?

আগের সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ছে মাংকিপক্স

পরের সংবাদ

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি নয় : সিস্টেম লস ও দুর্নীতি রোধ করুন

প্রকাশিত: মে ২০, ২০২২ , ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২০, ২০২২ , ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৫৮ শতাংশ দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি কমিটি। গত বুধবার এ বিষয়ে গণশুনানি হয়েছে। গত ১২ বছরে বিদ্যুতের দাম ১১ বার বেড়েছে। এতে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ১১৮ শতাংশ। আর খুচরা পর্যায়ে বেড়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ। বাকি ঘাটতি মেটাতে প্রতি বছর ১১-১২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। এ খাতের সিস্টেম লস এবং দুর্নীতি রোধ করতে পারলেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হয় না বরং কমানো যায়। কিন্তু নিয়ন্ত্রক কিংবা সেবাদানকারী সংস্থা-কোম্পানিগুলো তাতে আগ্রহী না হয়ে সব সময় দাম বৃদ্ধির পথে হাঁটতেই পছন্দ করে। এত কম সময়ে বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নাগরিকদের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ যোগ করবে- এটাই স্বাভাবিক। বর্তমানে পিডিবির পাইকারি বিদ্যুতের দাম প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ৫ টাকা ১৭ পয়সা। পিডিবি এই দাম ৬৬ ভাগ বাড়িয়ে ৮ টাকা ৫৮ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তাদের প্রস্তাব মূল্যায়ন করে বিইআরসির কারিগরি কমিটি এই দাম ভর্তুকি দিলে আগের দাম অর্থাৎ ৫ টাকা ১৭ পয়সা এবং ভর্তুকি না দিলে ৮ টাকা ১৬ পয়সা করার সুপারিশ করেছে। পিডিবির পাইকারি দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করায় খরচ বেড়ে গেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিদ্যুতে গড় উৎপাদন খরচ ছিল ২.১৩ টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.১৬ টাকায়। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, কয়লার মূসক বৃদ্ধির কারণে ২০২২ সালে ইউনিট প্রতি উৎপাদন খরচ দাঁড়াবে ৪.২৪ টাকা। পাইকারি দাম না বাড়লে ২০২২ সালে ৩০ হাজার ২৫১ কোটি ৮০ লাখ টাকা লোকসান হবে পিডিবির। গ্যাসের মতো বিদ্যুৎ খাতেও সিস্টেম লসের কারণে অপচয় হচ্ছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। ১ শতাংশ সিস্টেম লসেই অন্তত ৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি গুনতে হয় বিদ্যুৎ খাতে। এসবের দায় চাপে গ্রাহকের ওপর। আদর্শিকভাবে এ খাতে কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমরা লক্ষ করছি, জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সরকারের মধ্যে এক ধরনের লাভ করার মনোবৃত্তি প্রবল হয়ে উঠেছে। যে কোনো ছুতায় খাতগুলোর দাম বৃদ্ধির জন্য সদা ব্যস্ত থাকে। কথায় কথায় ভর্তুকি কমানোর উছিলা দেয়া হয়। বিদ্যুতের দাম বাড়লে সব রকম দ্রব্যমূল্য ও সেবামূল্যের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। আর শেষ পর্যন্ত তা বহন করতে হয় ভোক্তা সাধারণকে। তাই সাধারণ ভোক্তাদের সামর্থ্য তথা জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুতের দাম কীভাবে সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায় তা নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক সরকার বিদ্যুতের মতো জরুরি প্রয়োজনীয় সেবা খাতের ব্যাপারে জনবান্ধব নীতি নিয়ে এগোবে- এটাই সবার প্রত্যাশা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়