ভোরের কাগজ প্রকাশক, সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলায় ধামইরহাট প্রেস ক্লাবের নিন্দা

আগের সংবাদ

চট্টগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণে নগর মিউজিয়ামের প্রয়োজনীয়তা

পরের সংবাদ

ভোরের কাগজের বিরুদ্ধে মামলা : কণ্ঠরোধের অপপ্রয়াস বন্ধ হোক

প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২২ , ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ১৯, ২০২২ , ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

কুমিল্লায় ভোরের কাগজের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করার ঘটনা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপপ্রয়াস ছাড়া আর কিছু নয়। উদ্দেশ্যমূলক এই মামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক সমাজসহ পেশাজীবী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। আমরাও এর নিন্দা জানাই। ‘কুমিল্লার শীর্ষ মাদক কারবারি রিফাত এখন নৌকার কাণ্ডারি’- শিরোনামে ভোরের কাগজে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় পত্রিকার প্রকাশক, সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক, সিনিয়র রিপোর্টারের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করেছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত। পরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক আব্দুল হান্নান ভোরের কাগজকে একটি সমন পাঠানোর নির্দেশনা দেন। আগামী ৩ জুলাই সমনের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এমন মানহানির মামলার ঘটনা নতুন কিছু নয়। অতীতেও এ ধরনের মামলার মাধ্যমে সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের অপচেষ্টা হয়েছে। আমরা অবগত, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান শক্ত। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে জিরো টলারেন্সে। সরকারপ্রধানের নির্দেশেই ২০১৮ সালের ৪ মে থেকে দেশে শুরু হয় মাদকবিরোধী অভিযান। ওই অভিযানে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। গ্রেপ্তার করা হয় মাদক কারবারি ও এর পৃষ্ঠপোষকদের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহতও হন অনেক মাদক কারবারি। যা সব মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছিল সে সময়। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মাদক কারবারি ও এর পৃষ্ঠপোষকদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়। সেই তালিকায় নাম ছিল অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির। চট্টগ্রাম বিভাগের ওই তালিকায় এমনই একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেন আরফানুল হক রিফাত। তিনি কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক। আসন্ন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন এই রিফাতই। এ নিয়ে খোদ দলের মধ্যে সমালোচনা হচ্ছে। ভোরের কাগজ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিষয়টি নতুন করে সামনে আসছে। রিফাতের মনোনয়ন নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। একজন মাদক কারবারি কীভাবে কুমিল্লা শহরের পৌর পিতা হবেন তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। ভোরের কাগজ বিষয়টি আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। সমাজের অনিয়ম দুর্নীতি অসঙ্গতি তুলে ধরা গণমাধ্যমের কাজ। এতে করে গণমাধ্যমকর্মীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কাউকে ছাড় না দিয়ে একজন সাংবাদিককে ঘুষ-দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখতে হয়। আর তাতেই ক্ষেপে যান সংশ্লিষ্টরা। কখনো জীবন কেড়ে নেয়া, কখনো শারীরিকভাবে হামলা, আবার প্রায়ই মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে সাংবাদিকদের। আমরা মনে করি, সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যেই ভোরের কাগজের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন ও প্রেস ক্লাব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবির সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে আমরা বলতে চাই, অবিলম্বে এ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হোক।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়