দেশে লঙ্কাকাণ্ড দেখার প্রতীক্ষায় যারা!

আগের সংবাদ

গণতদন্ত কমিশনের শ্বেতপত্র : হেফাজতের জঙ্গি কানেকশন

পরের সংবাদ

সম্পদের অপচয় আর কতকাল? প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের গুরুত্ব দিতে হবে

প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২২ , ৩:০১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ১৮, ২০২২ , ৩:০১ পূর্বাহ্ণ

প্রাকৃতিক সম্পদ অপচয় রোদে আমরা কতটা সচেতন? সীমিত সম্পদের অপচয় হচ্ছে আমাদের চোখের সামনেই। সব সেবা খাতে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস থেকে শুরু করে কোনো কিছুই অপচয় না করতে তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন। কারণ সম্পদ সবারই সীমিত। অহেতুক সম্পদ অপচয় করার মানে নেই। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এমন নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের নাগরিকদের গুরুত্ব দিতে হবে। পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস আমাদের জাতীয় সম্পদ। এগুলোর একটি ছাড়া আমাদের দৈনন্দিন জীবন অচল হয়ে পড়ে। আধুনিক জীবনযাপনের জন্য পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ভূমিকা যে কতখানি তা সহজেই অনুমেয়। কিন্তু এসব সম্পদই আবার আমরা নানাভাবে অপচয় করে থাকি। ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে অপচয় আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে গেছে। দিয়াশলাইয়ের কাঠি বাঁচানো ও কাপড় শুকানোর জন্য বাসাবাড়ির গ্যাসের চুলা অকারণে জ্বালিয়ে রাখার বিষয়টি পুরনো একটি অভিযোগ। এগুলো সুস্পষ্ট অপচয়। দৈনন্দিন জীবনে পানির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু দেখা যায় নিরাপদ পানির সংকট লেগেই আছে। ছোট ছোট অবহেলায় প্রতিদিন অনেক পানির অপচয় হয়। আমাদের দেশের দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রায় পুরোটাই ভূগর্ভস্থ পানি। এদিকে পানির স্তর প্রতিনিয়ত নিচে নেমে যাচ্ছে, সারফেস ওয়াটার ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই, এমন পরিস্থিতিতে আমাদের দ্বারা সংঘটিত পানিজনিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অপচয়গুলো এখনই চিহ্নিত করে জরুরি ব্যবস্থা নেয়া দরকার। জাতিসংঘের দ্য ওয়ার্ল্ড ওয়াটার ডেভেলপমেন্টে প্রকাশিত প্রতিবেদন মোতাবেক ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্ববাসী পানি সংকটে পড়বে। গত ১০০ বছরে বৈশ্বিক পানি চাহিদা ছয় গুণ বেড়েছে। এখন প্রতি বছর এ চাহিদা ১ শতাংশ করে বাড়ছে। আমরা অনুভব করি যখন সংকটে পড়ি। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি এই তিন সেবা খাতের সংকট একটি অপরটির সঙ্গে সম্পর্কিত। গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়। আর বিদ্যুৎ সংকটে ব্যাহত হয় পানির উত্তোলন। গণমাধ্যমে প্রায়ই উঠে আসে এমন খবর। রাজধানীতে প্রায়ই দেখা যায়, পানি ও গ্যাসের সংকট। পাশাপাশি বিদ্যুতের লোডশেডিং। আমরা জানি, এই সেবাগুলোতে আমাদের প্রচুর অপচয়ের পাশাপাশি সিস্টেম লসও হয়ে থাকে। বিদ্যুতের ত্রæটিপূর্ণ সঞ্চালন লাইন, পানি ও গ্যাসের অপচয় এবং অবৈধ সংযোগ বন্ধও করতে হবে। সবকিছুতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার মানসিকতা আমাদের পরিহার করতে হবে। নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অফিস ত্যাগ করার সময় নিজ হাতে বৈদ্যুতিক সুইচ অফ করে যান। এটিও তো অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। আমাদের দেশের সম্পদ অপচয় রোধে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। এর ফলে আমাদের জাতীয় সম্পদের অপচয় রোধ সম্ভব হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়