কান চলচ্চিত্র উৎসবে অনুরাগীদের নজর কাড়লেন দীপিকা

আগের সংবাদ

চীনা যাত্রিবাহী বিমানের দুর্ঘটনা ইচ্ছাকৃত!

পরের সংবাদ

বঙ্গবন্ধু পরিবারসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ২

প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২২ , ১২:৫৩ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ১৮, ২০২২ , ১২:৫৪ অপরাহ্ণ

ঠিকাদাররা ছিল এ চক্রের অন্যতম টার্গেট

প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার নামে কোটি টাকা প্রতারণা

বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে জানিয়ে নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ঠিকাদারদের আস্থা অর্জন করতো চক্রটি। পরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১০-১২ শতাংশ হারে কমিশনের নামে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল তারা। চক্রটি গত তিন বছরে প্রতারণার মাধ্যমে অন্তত দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে র‍্যাব।

বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্যতার কথা বলে প্রতারণার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‍্যাব লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

বুধবার (১৮ মে) রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে মঙ্গলবার (১৭ মে) রাতে রাজধানীর পল্টনে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও র‍্যাব-৩ যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের হোতা মনসুর আহমেদ (৩৩) ও তার সহযোগী মো. মহসিন চৌধুরীকে (৫৫) আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন দলিল ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট উদ্ধার করা হয়।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন প্রতারণার ধরন প্রসঙ্গে বলেন, এ চক্রের সদস্যদের মোবাইল নম্বর মনসুর ও মহসিন তাদের ব্যবহৃত মোবাইলে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নাম ও ছবি দিয়ে সেভ করতো। পরবর্তীতে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার বিষয়ে চ্যাটিং করতো। এসব চ্যাটিং কন্টেন্ট তারা এমনভাবে তৈরি করে যাতে যেকোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মনে করে তারা ইতোপূর্বে অনেক কাজ অর্থের বিনিময়ে পাইয়ে দিয়েছে। তাদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের খুবই সুসম্পর্কও রয়েছে।

এই চক্রের সদস্য সাইফুল বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছে। যে নিজেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি পরিচয় দিতেন। ঠিকাদারদের সামনে কথিত সাইফুলের সঙ্গে লাউডস্পিকারে প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা করতেন মনসুর ও মহসিন।

নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত ও স্বনামধন্য হিসেবে উপস্থাপন করতে তারা হাজার হাজার কেটি টাকার ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি দেখাত। তারা কোন অফিসে মিটিংয়ের সময় বেশভূষা পরিবর্তন করে দামি গাড়ি ও নিরাপত্তারক্ষীসহ নিজেদের উপস্থাপন করত। নিজেদেরকে আরও বিশ্বাসযোগ্য উপস্থাপনের জন্য বিভিন্ন দেশে কাজের জন্য ভ্রমণ করেছেন মর্মে বিভিন্ন ছবি প্রদর্শন করত।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, চক্রটি সরকারি কোন চলমান প্রকল্পের কাজ পাওয়ার যোগ্য বিশেষ করে নদী ড্রেজিং, বাঁধ নির্মান করে এমন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে খুঁজে বের করতেন। তাদেরকে অগ্রিম ১০-১২ শতাংশ কমিশনের বিনিময়ে বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চুক্তি করে টাকা হাতিয়ে নিতো। চক্রটি বর্তমানে তিতাস নদী ড্রেজিং, আড়িয়াল খাঁ বিলের ড্রেজিং ও নদীর তীর রক্ষা বাধ প্রকল্প, ঢাকা মহানগর উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ড্রেনের সংস্কার কাজ, রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি অফিস কনস্ট্রাকশনের কাজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কনস্ট্রাকশনের কাজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার নামে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণার পরিকল্পনা করছিল।

র‍্যাবের মুখপাত্র আরও বলেন, তিতাস নদী ড্রেজিং ও আড়িয়াল খাঁ বিলের দুটি প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার নামে ভুয়া চুক্তির ডকুমেন্টস পাওয়া গেছে। তারা আরো কি কি প্রকল্পের নামে কি পরিমান টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তা পরবর্তি তদন্তে জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা গত ৩ বছরে প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

চক্রের আরও ৫-৭ জন সদস্যের নাম পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মনসুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের ছবি দেখা গেলেও তার কোনো পদ-পদবীর তথ্য আমরা পাইনি। নিজেকে বিশ্বস্ত করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছবি তুলতেন তিনি। সব ছবি তুলতে পেরেছেন তাও নয়, কিছু কিছু ছবিতে ছবি এডিট করে ফেসবুকে শেয়ার করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আটক মনসুর প্রথমে স্থানীয় এলাকায় জমির দালালি করতেন। পরবর্তীতে ঢাকায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকাকালীন এভাবে প্রতারণার বিষয়টি তার মাথায় আসে। পরবর্তীতে এক কর্মচারীর মাধ্যমে সাইফুলের সঙ্গে পরিচয় হলে প্রতারণার জন্য চক্রটি গড়ে তোলে।

আটক মহসিন প্রথমে ঢাকার মালিবাগে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির ব্যবসা করত। পরবর্তীতে ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে তার ফ্যাক্টরিটি বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে মতিঝিলে মনসুরের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়