করোনায় টানা ২৭ দিন মৃত্যুশূন্য দেশ, শনাক্ত ৩২

আগের সংবাদ

কুমিল্লা সিটিতে বিএনপির ২ ও আ.লীগের ১ প্রার্থীর মনোনয়ন জমা

পরের সংবাদ

গ্যাস সংকট কাটিয়ে যমুনা সারকারখানার উৎপাদন শুরু

প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২২ , ৫:০৮ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ১৭, ২০২২ , ৫:০৮ অপরাহ্ণ

ত্রুটি ও গ্যাস সংকট কাটিয়ে উৎপাদন শুরু করেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দীতে অবস্থিত দেশের একমাত্র ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী যমুনা সারকারখানা। যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়েও গ্যাস সংকটের কারনে উৎপাদনে যেতে পারেনি যমুনা সারকারখানা। ত্রুটি সাড়ানোর ৬ দিন পর সোমবার মধ্য রাত থেকে সার উৎপাদনে ফিরেছে কারখানাটি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যমুনা সারকারখানার এমডি মো. জাকির হোসেন।

কারখানা সুত্রে জানা যায়, যমুনা সার কারখানার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১৭শ মে.টন। গ্যাসের চাপ কম থাকায় তা ১৩শ ২৬ মে.টনে নেমে আসে। গত ১৪ মে যমুনা সার কারখানা পরিদর্শনে আসেন শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা। তিনি কারখানা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজন মাফিক গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দেন। সুষ্ঠু ও নিরাপদে কারখানা চালাতে চাহিদা মাফিক চাপে ও পরিমানে স্থিতিশীল গ্যাস সরবরাহের প্রয়োজন হয়। গ্যাসের চাপ উঠানামা করলে কারকানার মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ ব্যাপকহারে ক্ষতির সম্ভবনা সৃষ্টি হয়। প্রয়োজন মাফিক গ্যাস সরবরাহ না পেয়ে যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়েও উৎপাদনে যেতে পারেনি যমুনা। বিষয়টি বিসিআইসির উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন (জেএফসিএল) কারখানা কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ যমুনা সার কারখানার শর্ট শাট ডাউন শুরু হয়। শর্ট শাট ডাউন শেষে গত ২ মে উৎপাদনে ফিরে যমুনা। গ্যাস সংকটের কারনে উৎপাদন শুরুর ৫দিন পর ফের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এ কারনে কারখানার নিরাপত্তার কথা ভেবে পুরো অ্যামোনিয়া প্লান্ট বন্ধ করে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। পরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি মেরামত কাজ শেষ করে গত ১২ মে ওই লিকেজ টেস্ট করা হয়। সবকিছু ঠিকঠাক। এখন উৎপাদনে যাওয়ার পালা। ফের বাধ সাধে গ্যাস সংকট। সুষ্ঠু ও নিরাপদে কারখানা চালাতে সার্বক্ষনিকভাবে ২৫কেজি চাপে ৪৫.০ এমএমসিএফ গ্যাস সরবরাহের প্রয়োজন হয়।

গত ১২ মে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। তবে গ্যাসের চাপ কোনভাবেই স্থিতিশীল অবস্থায় থাকেনি। ওইদিন সকাল ৭টায় গ্যাসের চাপ ছিল ১৬.৯০ কেজি। বিকেল ৬টায় তা ৬.৩০ কেজিতে নেমে আসে। এভাবে দ্রুত গ্যাসের চাপ কমতে থাকায় কারখানার নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় আসে কর্তৃপক্ষের। প্রাইমারী রিফরমারের ১৬০টি বার্নারের ১৪০টিই বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

যমুনা সার কারখানা একটি অত্যাধুনিক ভারী শিল্প কারখানা। এ কারখানার লোড ঘনঘন উঠানামা করলে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ ব্যাপকহারে ক্ষতির সম্ভবনা সৃষ্টি হয়। গ্যাসের চাপ ভাল থাকায় সোমবার রাতে যমুনা সার কারখানা ফের উৎপাদনে ফিরেছে বলেও কারখানার ওই সুত্রটি জানায়।

এ ব্যাপারে যমুনা সার কারখানার মহা-ব্যবস্থাপক (অপারেশন) আব্দুল হাকিম বলেন, কারখানাটি সুষ্ঠু ও নিরাপদে চালু রাখতে হলে চাহিদা মাফিক চাপে ও পরিমানে স্থিতিশীলভাবে সার্বক্ষনিক গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন। উৎপাদন প্রক্রিয়ার অন্যান্য ধাপ সম্পন্ন করতে হলে ২৫ কেজি চাপে দৈনিক ৪৫.০ এমএমসিএফ গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়