লঙ্কার পতন বাংলাদেশে ‘নয়া’ কিছু উত্থানের সম্ভাবনা কতটুকু

আগের সংবাদ

কুমিল্লার শীর্ষ মাদক কারবারি রিফাত এখন নৌকার কাণ্ডারি

পরের সংবাদ

সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে বাজার : অবৈধ মজুতদারদের আইনের আওতায় আনুন

প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২২ , ২:২০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ১৫, ২০২২ , ২:২০ পূর্বাহ্ণ

প্রতিনিয়ত বেসামাল হচ্ছে ভোগ্যপণ্যের বাজার। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ চলছে। আর সেই যুদ্ধের অজুহাতে বাংলাদেশে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। এ যেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে, দেশবাসীর সঙ্গে তামাশা করছেন ব্যবসায়ীরা! দেশে উৎপাদিত পণ্যের দামে যুদ্ধের প্রভাব পড়বে কেন? সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধির পর চাল ও পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির খবর আসছে। বাজারে আদা-রসুনের দামও বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে আমদানি পণ্যে অস্থিরতা তৈরি করে ফায়দা লুটতে চায় সিন্ডিকেটটি। সরকারকে উচ্চপর্যায়ে কমিটি গঠন করে বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হবে। দমন করতে হবে সিন্ডিকেটবাজদের। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হবে। ইতোমধ্যে দেশের বাজারে নিত্য ও ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ১৭ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানকে দ্রব্যমূল্য এবং বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করণীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, বাজার নিয়ন্ত্রণে আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক ও কর ছাড় পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। এসব ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও বাজারে এর প্রভাব নেই। কাগজে-কলমে ঘোষণামাত্র। বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি নতুন নয়। সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে চাল, ডাল ও তেল থেকে শুরু করে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। এখনকার চিত্রও একই। অতি মুনাফালোভী পাইকারি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোক্তাদের জিম্মি করে পণ্যের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ খুচরা ব্যবসায়ীদের। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। তারা বলছেন, সব কিছুর দাম বাড়ায় সংসার খরচ বেড়ে গেছে। যে কারণে আয়ের সিংহভাগ চলে যাচ্ছে নিত্যপণ্যের পেছনে। চাহিদার সঙ্গে দাম যাতে না বাড়ে, সেজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো দৃশ্যত কিছু বিশেষ ব্যবস্থাও নিয়ে থাকে। তবে আমাদের অভিজ্ঞতায় আছে, এসব ব্যবস্থা বাজার নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না। তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে পণ্য বিপণন, বাজার মনিটরিং ইত্যাদি যেসব পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে এগুলো যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। পণ্য পরিবহন নির্বিঘœ রাখতে বিশেষ করে কৃষিপণ্যের সরবরাহে যাতে কোনো বাধার সৃষ্টি হতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে সংশ্লিষ্টদের। এর বাইরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি তদারকি অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা এও মনে করি, কেন্দ্র থেকে স্থানীয় উৎপাদন ক্ষেত্র পর্যন্ত ব্যবস্থাপনাও নজরদারির আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে আমদানিকৃত ও দেশজ উৎপাদিত- এই দুই ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন ও নির্বিঘœ রাখার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়