আমিরাতের নতুন প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ

আগের সংবাদ

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ

পরের সংবাদ

শুধু বেঁচে থাকলেন কন্যা শর্মি

প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২২ , ৪:৩৪ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ১৪, ২০২২ , ৪:৩৯ অপরাহ্ণ

বাড়িতে অসুস্থ মাকে দেখার জন্য শনিবার সকালে নিজের প্রাইভেট কারে গোপালগঞ্জ যাত্রা করেছিলেন বারডেমের ডা. বাসুদেব সাহা। সঙ্গী ছিলেন স্ত্রী ও পুত্র। পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ে তিনজনেই অকালে প্রাণ হারান। এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা থাকায় কন্যা শর্মি ঢাকায় থেকে যান। এখন এই পরিবারে একমাত্র শর্মিই বেঁচে আছেন। বাবা, মা ও ভাইয়ের মরদেহ দেখার জন্য শর্মি আজ শনিবার (১৪ মে) দুপুরে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন।

ডা. বাসুদেবের ভাই জানান, আমার ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী, ভাইয়ের বেটা মারা গেছে সড়ক দুর্ঘটনায়। আমরা গভীরভাবে মর্মাহত, যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। বাড়িতে মা এবং বাবা আছেন। তারা বৃদ্ধ মানুষ। তাদের শরীর একেবারেই খারাপ। আমরা চিন্তা করতেছি, তাদের লাশ কেমনে বাড়িতে নিয়ে যাব? নিয়ে গেলে তাদের শরীরে কি প্রভাব পড়বে তা আমরা জানি না।

ডা. বাসুদেব সাহার ভগ্নিপতি জানান, মাকে দেখার জন্য সকাল সাড়ে ৬টার সময় ঢাকা থেকে রওয়ানা দিয়েছেন। তার পরিবারের মধ্যে তার স্ত্রী ছিলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া তার ছেলে ছিল। আর ড্রাইভার চালাচ্ছিল। সাড়ে ১০টার দিকে খবর পাই, গাড়িটা দুর্ঘটনায় পড়েছে এবং ওখানেই তারা মারা গেছেন। একমাত্র মেয়ে সল্লিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে পঞ্চম বর্ষে পড়ে। এই মাসে তারা ফাইনাল পরীক্ষা। পরীক্ষার জন্য সে শুধু আসেনি। ঢাকায় রয়ে গেছে।

এর আগে এদিন সকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে কাশিয়ানী উপজেলার দক্ষিণ ফুকরা এলাকায় বাস ও প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত মোট আটজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছেন। তারা হলেন রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. বাসুদেব সাহাসহ তার স্ত্রী ও ছেলে।

অসুস্থ মাকে দেখতে স্ত্রী-সন্তানসহ প্রাইভেট কারে করে বাড়ি যাচ্ছিলেন ডা. বাসুদেব সাহা। কিন্তু বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার আগে বাসের সঙ্গে তাদের প্রাইভেট কারের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেট কারে থাকা ডা. বাসুদেব, তার স্ত্রীর ও ছেলে মারা যান। তবে পরিবারের সঙ্গে গোপালগঞ্জে না যাওয়ায় ডা. বাসুদেবের একমাত্র কন্যা বেঁচে গেছেন।

বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. দেলোয়ার হোসেন তাদের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অসুস্থ মাকে দেখতে বাড়ি যাওয়ার পথে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানিতে দুর্ঘটনায় পড়ে তাদের প্রাইভেট কার। এতে বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়। ডা. বাসুদেব সাহা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৩১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বারডেম হাসপাতালের এনেসথেসিয়া বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়