ত্রিপুরায় মুখ্যমন্ত্রীর লড়াইয়ে এগিয়ে বিজেপির জিষ্ণু দেববর্মা ও মানিক সাহা

আগের সংবাদ

শিবশংকর নামে কলকাতায় আত্মগোপনে ছিলেন পি কে হালদার

পরের সংবাদ

যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা বাস্তবায়নে কাজ করছি: আতিক

প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২২ , ৭:৩১ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ১৪, ২০২২ , ৭:৩২ অপরাহ্ণ

দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দুই বছর নগরবাসীর উন্নয়নে সাধ্যমত কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। পাশাপাশি বাকি তিন বছরে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

শনিবার (১৪ মে) গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নগর ভবনের হল রুমে এক মিট দি প্রেসে মেয়র আতিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন। তার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে এই মিট দি প্রেসের আয়োজন করে ডিএনসিসি। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সেলিম রেজা, কাউন্সিলরবৃন্দ এবং ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গত দুই বছরে নিজের কাজে মেয়র সন্তুষ্ট কী না, এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, আমি কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু কাজের বিচারের দায়িত্ব জনগনের, সাংবাদিকদের। আমাদের কাজে পরামর্শ দিয়ে আপনারাও সহযোগিতা করবেন।

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ঝুঁকি বিগত বছরের চেয়ে পাঁচগুন বেশির আশঙ্কা রয়েছে, এডিস নিধনে ডিএনসিসি কী পদক্ষেপ নিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ডেঙ্গু বা এডিশ নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। এ জন্য নগরবাসীতে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, এডিশ মশা বাসাবাড়ির আঙ্গিনায় জন্মায়। নগরবাসীকে প্রতি শনিবার সকাল ১০টায় ১০ মিনিটি নিজ আঙ্গিনা পরিস্কার করতে হবে। ডিএনসিসিও তার সাধ্যমতো কাজ করে যাবে।

রাজধানীতে যানজট নিরসনে বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন নবনির্মিত সেতু ভবন এবং বিআরটিএ (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) ভবন ভেঙে ফেলার অনুরোধ জানিয়ে মেয়র বলেন, মহাখালীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডে সেতু ভবন এবং বিআরটিএ ভবন গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুটি ভবনের কারণে সড়কটি চওড়া করা যাচ্ছে না। মহাখালী উড়াল সড়কে গাড়ি উঠতে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে দিনভর এই সড়কে যানজট লাগে থাকে। সেখানে ইউটার্ন নির্মাণ করেও তার সুফল মিলছে না। তাই ভবন দুটি ভবন ভেঙে ফেলতে হবে।

রাজধানীর যানজট নিরসনে ডিএনসিসি যে ১১টি ইউলুপ নির্মাণ করেছে, তার সুফল মিলছে না কেন? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র আতিক বলেন, ইউলুপ নির্মাণের পরিকল্পনা বা প্রকল্পটি ডিএনসিসির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের ছিল। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছি। কিন্তু সড়ক পর্যাপ্ত চওড়া না হওয়ায় এই ইউলুপগুলো কাজে আসেনি। বিশেষ করে বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি সংশগ্ন একটি ইউলুপ এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকার ইউলুপটি সুফল মিলেনি।

তিনি বলেন, চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন ইউলুপটি কাজে না আসার পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ সড়কের জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে সেতু ভবন ও বিআরটিএ ভবন। এখন এই দুটি ভবনের জন্য সড়কটি চওড়া করা যাচ্ছে। ফলে ইউলুপ করার পরও গাড়ি ঘুরতে পারছে না। মহাখালী উড়াল সড়কে গাড়ি উঠতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই আমি সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করবো, দ্রুত সময়ের মধ্যে নিজ উদ্যোগ ভবন দুটি ভেঙে ফেলার জন্য। এই শহরের পরিবেশ বা নাগরিকদের সুবিধার্থে কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ ভবন ভাঙা যেতে পারলে এই দুটি ভবন কেন ভাঙা যাবে না বলে প্রশ্ন রাখেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, আগে বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি হাটাচলার জন্য চওড়া ফুটপাত ছিল। এখন সেই খালি জায়গা আর নেই। সেতু কর্তৃপক্ষ সেখানে অপরিকল্পিতভাবে কংক্রিটের বহুতল স্থাপনা তৈরি করেছেন। মানুষের অক্সিজেন নেওয়ার যায়গা রাখেনি। তিনি বলেন, ঢাকার যানজট কমাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে। স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনার মধ্যে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো থেকে হকারদের সরিয়ে দেয়া, তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময় এবং নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করে দেয়া হবে। এতে কোনো মোড়েই গাড়ির জটলা লাগবে না।

এ ছাড়া ঢাকার প্রতিটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল বাস চালু করতে হবে। ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল বাসের ব্যবহার করবে, তাদের স্কুলের হোল্ডিং টেক্স কমিয়ে দেয়া হবে। এতে স্কুল বাসে যাতায়াতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা বন্ধন তৈরি হবে।

দুই বছর আগে সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনে দেয়া প্রতিশ্রুতি কতোটা বাস্তবায়িত হয়েছে জানতে চাইলে আতিক বলেন, যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি। আমি মেয়র পদকে ক্ষমতা মনে করি না, এটা দায়িত্ব মনে করি। তিনি বলেন, মেয়র নির্বাচনের কিছুদিন পরপরই দেশে করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ে। পাঁচ মাস লকডাউনসহ নানা বিধিনিষেধ ছিল। কিন্তু আমরা বসে থাকিনি। ৭৬ হাজার পরিবারে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতায় মহাখালী কাঁচাবাজারকে ডিএনসিসি করোনা হাসপাতালে রুপ দিয়েছি।

ডিএনসিসির নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কাজ শুরু করেছেন জানিয়ে মেয়র আতিক বলেন, দেশের নগর পরিকল্পনাবিদদের নিয়ে ডিএনসিসির নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের অবকাঠামো উন্নয়নে একটি মাষ্টারপ্ল্যান নিয়েছি। সে প্ল্যান বা পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ থেকে কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এই কাজের জন্য চার হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়