রবার্ট ম্যালপাস, রবার্ট ম্যালথাস

আগের সংবাদ

হেফাজতিদের সহায়তায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসন!

পরের সংবাদ

ভোগ্যপণ্যের সিন্ডিকেট বেপরোয়া

প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২২ , ৮:২৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ১৪, ২০২২ , ৮:২৩ পূর্বাহ্ণ

লঘু দণ্ডের সুযোগ নিচ্ছে অসাধুরা, এবার অস্থিরতা আমদানি পণ্যে, চরম বিপাকে ভোক্তারা

বৈশ্বিক পণ্যবাজারে অস্থিরতার অজুহাতে দেশে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ভোগ্যপণ্যের সিন্ডিকেট। দেশে পণ্যের মজুত থাক আর নাই থাক, সুযোগ পেলেই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোক্তার পকেট কাটছে এসব সিন্ডিকেট। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দাম। সম্প্রতি দাম বাড়াতে সারাদেশে ভোজ্যতেল উধাও করে দেয় সিন্ডিকেটটি।

তেলের বাজার স্বাভাবিক হওয়ার আগেই এবার অস্থিরতা শুরু হয়েছে চাল ও পেঁয়াজের বাজারে। শুধু চাল তেল পেঁয়াজেই নয়; বাজারে বেড়েই চলছে আদা-রসুনের দামও। বিশেষ করে আমদানি পণ্যে অস্থিরতা তৈরি করে ফায়দা লুটতে চায় সিন্ডিকেটটি। আর দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সিন্ডিকেটবাজরা।

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের আগে একটি সিন্ডিকেট দাম বাড়ানোর জন্য বাজার থেকে উধাও করে দেয় সয়াবিন তেল। পর্যাপ্ত মজুতের পরও সারাদেশে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়। যার প্রমাণ মিলছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক অভিযানে। সারাদেশেই জব্দ হচ্ছে হাজার হাজাল লিটার তেল। দাম বাড়ানোর পরও স্বাভাবিক হয়নি তেলের বাজার। যদিও গতকাল বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, দুয়েক দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হবে। এক সংকট কাটতে না কাটতে আরেক সংকট শুরু হয়ে গেছে। পেঁয়াজ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষ উৎপাদনকারীদের কাতারে থাকলেও বাজারে পেঁয়াজের দামে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। আমদানি বন্ধের অজুহাতে দুদিনের ব্যবধানের পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বাজারে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এর আগে সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী করা হয়। তৎকালীন সময়ে ভোক্তাকে প্রতি কেজি পেঁয়াজ কিনতে হয়েছিল ২৫০ টাকায়। পরবর্তীতে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু তিন-চার বছর পেরিয়ে গেলে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। কোনো ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি চিহ্নিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। যে কারণে প্রায়শ বিভিন্ন পণ্যে সিন্ডিকেট তৈরি হয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান ভোরের কাগজকে বলেন, আমরা কৃষকের স্বার্থে পেঁয়াজের বিষয়টি দেখছি। যদি কোনো ব্যবসায়ী অবৈধ মজুত করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেন, তাদের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিদপ্তর অভিযান চালাবে। এছাড়া তেলের বাজার স্বাভাবিক করতে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবারও বিভিন্ন জায়গায় তেল জব্দ করা এবং জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও অভিযানে দোষীসাব্যস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরো কঠোর এবং বড় জরিমানা কিংবা মজুতদারির ক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করার কথাও বিবেচনা করছে অধিদপ্তর।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা গেছে, বাজারে শুধু পেঁয়াজ নয়, একদিনের ব্যবধানে দেশি রসুনের দাম বেড়ে দিগুণ হয়েছে। গত বুধবার ৫০ টাকা দামে বিক্রি হওয়া দেশি রসুনের দাম এখন ১০০ টাকা কেজি। আর আমদানি করা রসুনের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। সেই সঙ্গে বেড়েছে চালের দাম। বাজারে সরু চালের সরবরাহ আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ঈদের আগে ৬৮ টাকায় বিক্রি হওয়া ভালো মানের নাজিরশাইল এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭৪ টাকা কেজিতে।

এছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দাম ১০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মোটা দানার মসুর ডালের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। আর সরু দানা মসুর ডালের কেজি এখন ১৩০ টাকা। ঈদের আগে দাম ছিল ১২০ টাকা। গত সপ্তাহে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া খোলা চিনি গতকাল শুক্রবার ৮২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর কেজিতে ২ টাকা বেড়ে খোলা আটার দাম এখন ৪০ টাকা। খোলা ময়দায় দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। এছাড়া মোড়কজাত গুঁড়া দুধের দাম কোম্পানি ভেদে কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বাজারে গুঁড়া দুধ এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৯০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে আমদানি করা পণ্যে এর প্রভাব পড়ছে। ডলারের দামে অস্থিরতার কারণে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে। তবে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে তারা বলছেন, সরকার কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করেছে। আর আমদানি বন্ধ হওয়ায় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। যে কারণে দাম একটু বাড়তি। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারিতে দাম বাড়লে খুচরা ব্যবসায়ীদের বেশি দামে বিক্রি করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প থাকে না।

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, ভোক্তা আইনে একজন বিক্রেতাকে একবার জরিমানা করা যাবে। ভোক্তা আইনে সর্বোচ্চ ফৌজদারি আইনে মামলা করার এখতিয়ার রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ভোক্তা অধিকারের যেসব অভিযান চলছে, তাতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় তেল জব্দ করার পাশাপাশি জরিমানা করা হচ্ছে। এতে বাজারে বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়ছে না। আর অসাধু ব্যবসায়ীরা এই লঘুদণ্ডের সুযোগে আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এখনি অতি মুনাফালোভীদের লাগাম না টানলে আরো বেশি অস্থিরতা তৈরি হবে ভোগ্যপণ্যের বাজারে।

এসব বিষয় নিয়ে কথা হয় কনসাস কনজুমার সোসাইটির (সিসিএস) নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদের সঙ্গে। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, ভোজ্যতেল নিয়ে সারাদেশে জেল-জরিমানা হচ্ছে। বাজারে ব্যাপকভাবে এর প্রভাব পড়ছে না। ভোক্তা আইনে বিক্রেতাকে একবার জরিমানা করার বিধান রয়েছে। সর্বোচ্চ ফৌজদারি আইনে মামলা করার বিধান রয়েছে। সারাদেশে ভোক্তা অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করছে। সেই সঙ্গে তেল জব্দ থেকে শুরু করে জরিমানা করছে। যেহেতু আইনে একবারের বেশি ব্যবস্থা নেয়া যায় না, তাই এর সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এর আগে পেঁয়াজকাণ্ডে চিহ্নিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় এবার আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে এসব ভোগ্যপণ্যের সিন্ডিকেট।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়