পি কে হালদারকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন

আগের সংবাদ

বিশ্ববাজার ধরতে ইলেকট্রনিক পণ্যের মান বজায় রাখার আহ্বান

পরের সংবাদ

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান স্মরণ ও আলোকচিত্রগ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে বক্তারা

‘আনিসুজ্জামানের জীবন মানে বাংলাদেশের ইতিহাস’

প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২২ , ১০:১৯ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ১৪, ২০২২ , ১০:১৯ অপরাহ্ণ

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের জীবন মানে বাংলাদেশের ইতিহাস। তিনি ছিলেন আমাদের বাতিঘর, সমাজ ও জাতির শিক্ষক। তিনি সারা জীবন মানবতারই জয়গান গেয়েছেন। দেশের সকল প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রবর্তী মানুষ ছিলেন তিনি। আমাদের বোধে, মর্মে, স্মরণে সবসময় আছেন তিনি। যার দৃঢ়তা এবং মৌনতাকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে চলতে হবে।

শনিবার (১৪ মে) বিকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের দ্বিতীয় প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে চন্দ্রাবতী একাডেমি প্রকাশিত কবি মারুফুল ইসলাম সম্পাদিত আলোকচিত্রগ্রন্থ ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, কবি—শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ—উপাচার্য ড. মুহাম্মদ সামাদ, গ্রন্থটির সম্পাদক ও কবি মারুফুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন চন্দ্রাবতী একাডেমির স্বত্বাধিকারী কামরুজ্জামান কাজল। সভাপতিত্ব করেন সংগীতশিল্পী ও সুরের ধারার চেয়ারম্যান রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সহধর্মিণী সিদ্দিকা জামান ও ছেলে আনন্দ জামান। এ সময় আনিসুজ্জামানকে নিয়ে আরও কথা বলেন, কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু, কলামিস্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল মান্নান।

অনুষ্ঠান চলাকালে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের প্রয়াণের সময় ৪ টা ৫৫ থেকে এক মিনিটের জন্য নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, আনিসুজ্জামান ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান এবং আমাদের বাতিঘর। তিনি চলে গেছেন, কিন্তু তার কর্ম আমাদের সামাজিক এবং নৈতিক মূল্যবোধে পথ নির্দেশকের ভূমিকা পালন করবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, আনিসুজ্জামান সবসময় মানবতার জয়গান গেয়েছেন। বাংলাদেশের সাহিত্য সংস্কৃতির খোজ নিতে হলে আনিসুজ্জামানের কাছে যেতে হবে। তার আদর্শ এবং চিন্তার আলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে হবে। সেলিনা হোসেন বলেন, অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে সবসময় পাওয়া যায় না। তিনি আমাদেরকে যেভাবে আলোকিত করেছেন সে আলো আগামী প্রজন্মের কাছে নিয়ে যেতে হবে। মুক্তচিন্তাকে ধারণ করে সমাজকে তিনি এগিয়ে নিয়ে গেছেন। ইতিহাস, ঐতিহ্য প্রগতিশীল চিন্তায় স্নাত ছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদে। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে জাতীয় সকল আন্দোলনে তিনি ছিলেন সামনের কাতারে।

সেলিনা হোসেন বলেন, তিনি কেবল শ্রেণী কক্ষেরই শিক্ষক ছিলেন না। সমাজ ও জাতির শিক্ষক ছিলেন। যার দৃঢ়তাকে মৌনতাকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে চলতে হবে। ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, প্রফেসর আনিসুজ্জামান সেইজন যিনি ভাষা আন্দোলনের প্রথম লিফলেট লিখেছিলেন। তিনি ভাষা আন্দোলন থেকে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন। সারাজীবন তিনি ইতিহাসঘনিষ্ট হয়ে কাজ করেছেন। এই কর্মবীর আমাদের যে বুদ্ধিবৃত্তিক সহায়তা দিয়ে গেছেন তা অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

আনিসুল হক বলেন, আনিসুজ্জামানের জীবন মানে বাংলাদেশের ইতিহাস। তাকে জানলে বাংলাদেশের অনেক ইতিহাস জানা হয়ে যায়। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান একজন পণ্ডিত মানুষ। প্রতি মুহূর্তে তিনি নতুন নতুন কথা বলতেন। কিন্তু তাকে নিয়ে পাণ্ডিত্যপূর্ণ কোনো আলোচনা হচ্ছে না। মারুফুল ইসলাম বলেন, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান একজন মানুষ, একজন তাপস। তিনি ছিলেন প্রাতিষ্ঠানিক, সামাজিক ও জাতির শিক্ষক। তিনি আমাদের বোধে, মর্মে, স্মরণে সবসময় আছেন।

আব্দুল মান্নান বলেন, আনিসুজ্জামান আমাদের জীবনের পাথেয় এবং বাতিঘর হিসেবে বেচে থাকবেন। তার কথাগুলো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, শিল্পের সৌন্দর্য হচ্ছে— সরলতা। আনিসুজ্জামানের সরলতাই হচ্ছে তার জীবনের অন্যতম সৌন্দর্য। সভাপতির বক্তব্য শেষে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা গেয়ে শোনান— ‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহ দহন লাগে, তবু শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে…’।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়