মুম্বাইয়ের কাছে লজ্জার হারে আইপিএল থেকে বিদায় চেন্নাইয়ের

আগের সংবাদ

ঈশ্বরদী বিমানবন্দর যোগাযোগের নতুন দিগন্ত

পরের সংবাদ

বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্নীতি : সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও সুশাসন জরুরি

প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২২ , ১:০৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ১৩, ২০২২ , ১:০৬ পূর্বাহ্ণ

বিদ্যুৎ খাত জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। অর্থনীতির সঞ্চালক হিসেবে এ খাতের ভূমিকা অগ্রগণ্য। কিছুদিন আগে সরকার দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘোষণা আশাব্যঞ্জক। তবে খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি কোনোভাবে দমন করা যাচ্ছে না। দুর্নীতি রোধ করা না গেলে শতভাগ বিদ্যুতায়ন স্বাভাবিকতায় ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। সতর্ক করেছে টিআইবি। দুটি কয়লাভিত্তিক ও একটি এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে জমি ক্রয়-অধিগ্রহণ-ক্ষতিপূরণে ৩৯০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি বলছে, এই টাকা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারী, এনজিওকর্মী ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের পকেটে গেছে। এতে সরকারের বড় অঙ্কের আর্থিক লোকসান হচ্ছে। অনিয়ম ও দুর্নীতি মøান করে দিচ্ছে অনেক সাফল্য ও সম্ভাবনাকে। বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত করা উচিত বলে মনে করছি। টিআইবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বরিশালের ৩৫০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর গবেষণাটি করা হয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি না করেই প্রতি টন কয়লার প্রাথমিক দাম ১২০ ডলার হিসাব করে বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করায় দুর্নীতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইআইএ ছাড়াই বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শুরু করা হয়েছে। ইআইএ না করে প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করা হয়েছে। এগুলোকে অনিয়ম বলছে টিআইবি। তারা আরো বলছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সরকারের মনোযোগ দিতে হবে। সরকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে। এতে করে বিদ্যুৎ খরচ বাড়ছে। গ্রাহকরা এর ভার বহন করে যাচ্ছে। আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে এ খাতের ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করতে হবে। এতে গ্রাহকসেবার মান বাড়বে, অর্থনৈতিক উন্নয়নও হবে ত্বরান্বিত। আরেকটি বিষয় যা উল্লেখ না করলেই নয়, তা হলো সেবা খাতে লাভ-লোকসানের অঙ্ক কষার চেয়ে ভোক্তাদের সেবা নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। বিদ্যুৎ খাত দেশের একটি অন্যতম সেবা খাত হিসেবে বিবেচিত। এ খাতে লোকসান কমানোর কথা বলে বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে, যদিও লোকসান কাটিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। এখানেও চিন্তায় রাখা দরকার, গ্রাহকের ওপর চাপ না বাড়িয়ে সাশ্রয়ী জোগান নিশ্চিত করে, অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করে চুরি, অপচয়-দুর্নীতি কমিয়ে এই লোকসানকে কীভাবে সামাল দেয়া যায়। সর্বোপরি, সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনতে হবে। দুর্নীতি ও অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নৈতিকভাবে তাদের নেতৃত্বের দায় এড়াতে পারেন না। এক্ষেত্রে তাদের জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। দুর্নীতি বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়