বংশাল যেন বিনোদনকেন্দ্র

আগের সংবাদ

বজ্রপাতে প্রাণহানি এড়ানোর কৌশল

পরের সংবাদ

সুকান্তের প্রয়াণবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা

হাসান-উজ-জামান

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ (মুসপ)

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২২ , ১:০১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ১২, ২০২২ , ১:০১ পূর্বাহ্ণ

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রধান বিপ্লবী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈতৃক নিবাস বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। বাল্যকাল থেকেই তিনি মার্কসবাদী দর্শন তথা প্রগতিশীল মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। অসীম প্রতিভার অধিকারী তিনি ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হয়েছিলেন বিপ্লবী মতাদর্শের কবি হিসেবে। মাত্র ২১ বছর বয়সে তার অকাল প্রয়াণের মধ্য দিয়ে সমগ্র বাঙালি জাতির অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছিল, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তার কবি প্রতিভা ঈশ্বর প্রদত্ত, যা ছিল কল্পনাতীত।
কলকাতার কালীঘাটে ১৯২৫ সালের ১৫ আগস্ট সুকান্তের জন্ম। পারিবারিক পরিবেশ তার কবি প্রতিভার বিকাশের ক্ষেত্র মোটেই অনুকূল ছিল না! দারিদ্র্য ছিল তার পরিবারের নিত্যসঙ্গী। অভাব অনটনের মধ্য দিয়েই তাদের জীবন কেটেছে। পারিবারিক পারিপার্শ্বিকতা থেকেই সুকান্তের অপ্রতিরোধ্য কবি প্রতিভার বিকশিত হয়। তার জ্ঞানগর্ভ কবিতায় স্কুল শিক্ষকরা অভির্ভূত হন। মাত্র ৯-১০ বছর বয়সে তার কবিতা পড়ে সবাই স্বাভাবিকভাবেই উপলব্ধি করেছিলেন যে, ভবিষ্যতে তিনি অনেক বড় মাপের কবি হবেন। বেলেঘাটা স্কুলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রাবস্থায় তিনি ‘সপ্তমিকা’ নামে একটি দেয়াল পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেন এবং সেটি সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৫-এ সুকান্ত প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরের বছর তিনি য²া রোগে আক্রান্ত হলে ক্রমেই তার অসুস্থতা বেড়ে যায়। শারীরিক সামর্থ্য না থাকলেও তিনি বিরামহীনভাবে লিখে গিয়েছেন। অবহেলিত ও অনাহারকৃষ্ট কৃষক-শ্রমিক, দিনমজুরের বেদনা ছিল তার কবিতার বিষয়বস্তু। তার উদ্যোগে দেশের নানা প্রান্তে ‘কিশোর বাহিনী’ নামে একটি সংগঠন গড়ে ওঠে। তখন যোগ্যতার বিবেচনায় স্বাধীনতা পত্রিকায় ‘কিশোর সভা’ বিভাগের সম্পাদনার দায়িত্ব তাকে প্রদান করা হয় এবং সফলতার সঙ্গে তিনি সে দায়িত্ব পালন করেন। শরীরে জটিল রোগ সত্ত্বেও লেখনী থেকে তিনি পিছিয়ে পড়েননি। মার্কসবাদী মতাদর্শে অনুপ্রাণিত সুকান্ত কবিতার মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার ছিলেন। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা লাভের পূর্বে মাত্র ২১ বছর বয়সে ১৯৪৭-এর ১২ মে নিজেকে সম্পূর্ণ বিকশিত করার আগেই বিরল প্রতিভার অধিকারী কবি সুকান্ত ইহলোক ত্যাগ করেন। ছাপার অক্ষরে প্রথম শিখা পত্রিকায় তার লেখা স্বামী বিবেকানন্দের জীবনী প্রকাশিত হয়। দারিদ্র্যের কারণে অর্থাৎ পরিবেশ তার বিরল প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্রে বিরাট অন্তরায় এবং তরুণ বয়সে মরণব্যাধি য²া (যা তদানীন্তন সময়ে দুরারোগ্য) তার মধ্যে সংক্রমিত হলেও সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তার লেখনি থেমে থাকেনি।
খুব স্বল্প বয়সে চিরবিদায় নিলেও বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবিদের মধ্যে সুকান্ত পাঠকদের হ্রদয় জয় করতে পেরেছেন। তার সাহিত্যকর্ম এক কথায় অনন্য বলাইবাহুল্য। মূলত দুর্ভিক্ষ বা মন্বত্তর, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ-উপনিবেশবাদ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তার ক্ষুরধার লেখনী ছিল অবিস্মরণীয়। নিগৃহীত-বঞ্চিত, শোষিত-নির্যাতিত, নিপীড়িত-অনাহারক্লিষ্ট মানুষকে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে তার লেখনী অনুপ্রাণিত করবে অনন্তকাল। তার জন্মস্থান জাতির পিতার জেলা বর্তমান গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায়। তিনি এত অল্প বয়সে প্রয়াত না হলে তার বিরল প্রতিভা সন্দেহাতীতভাবে আরো বিকশিত হতো এবং কেবল বাংলাদেশ নয়, এই উপমহাদেশ ছাড়িয়ে সমগ্র বিশ্বব্যাপী তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ত। এই মহান বিপ্লবী কবির স্মৃতি রক্ষার্থে কবি সুকান্ত পাবলিক লাইব্রেরি কাম অডিটোরিয়াম নির্মাণই যথেষ্ট নয়, তার স্মৃতি রক্ষার্থে বৃহৎ আকারে যথাযথভাবে কিছু নির্মাণ করা হলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই বিপ্লবী কবি ও লেখনী সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানবে, অনুপ্রাণিত হবে। তাকে নিয়ে গবেষকদের অনেক গবেষণা প্রয়োজন। প্রসঙ্গক্রমে বলাবাহুল্য যে, তার অমর কবিতা ‘সাবাস বাংলাদেশ এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়’ মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতিকে দারুণভাবে উদ্বুদ্ধ করে ছিল। ৭৫তম প্রয়াণবার্ষিকীতে বিরল প্রতিভাবান, বিপ্লবী কবি সুকান্তের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

হাসান-উজ-জামান : ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ (মুসপ)

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়