নিবন্ধিত শিক্ষকদের প্যানেল নিয়োগই সমস্যার সমাধান

আগের সংবাদ

সুকান্তের প্রয়াণবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা

পরের সংবাদ

বংশাল যেন বিনোদনকেন্দ্র

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২২ , ১:০১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ১২, ২০২২ , ১:০১ পূর্বাহ্ণ

নবাবি আমলে ঢাকায় ঢোল পিটিয়ে ঈদের ঘোষণা করা হতো। রাজপথ পদদলিত হতো ঈদের মিছিলে। বিভিন্ন স্থানে মেলা, রেসকোর্সে ঘোড়দৌড় আর মুখরোচক খাবারের গন্ধে ম ম করত চারপাশ। অতীতের মতো জাঁকজমকপূর্ণ ঈদ আয়োজন আর চোখে পড়ে না। অনেকেই বলেন, এ যুগে ঢাকার ঈদ পানসে। চোখধাঁধানো, মনজুড়ানো সেসব আয়োজন এখন আর দেখা যায় না। নগরায়ণের কুঠারাঘাতে কমেছে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ। ঈদ সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে ব্যক্তি ও পরিবারের মাঝে।
তবে ঈদ আয়োজনের কিছু ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন পুরান ঢাকার বাসিন্দারা। প্রতি বছর ঢাকাবাসী ঈদের ৭ দিন পর্যন্ত ঈদের আনন্দ চলমান থাকে। এমনিতেই প্রায় আড়াই বছর ধরে কোভিড-১৯ এর কারণে ঈদের আনন্দে অনেকটা ভাটা পড়েছে। কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্ববাসী বলা যায় ঈদের আনন্দ পুরোপুরি গৃহবন্দি অবস্থায় ঈদ পালন করেছে। তবে শিশুরা অনেকটা বিনোদনমুখী হতে পারছিল না। তাদের মানুষিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছিল স্পষ্ট।
২০২২ সালের ঈদুল ফিতর শিশুদের আনন্দের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করেছে বলা যেতেই পাড়ে। প্রতিটি এলাকায় বিভিন্ন ঈদ আয়োজন ছিল চোখে পড়ার মতো। এরই ব্যতিক্রম হিসেবে ঢাকা শহরের ঐতিহ্যবাহী বংশালে আয়োজন ছিল সেবাদের থেকেও সেরা। এমনিতেই বিভিন্ন ঐতিহ্যের দিক থেকে পুরান ঢাকার বংশাল অনেকটা এগিয়ে। তার ওপর এই বছর ঈদ আয়োজনে কোনো দিক থেকে কমতি রাখেননি আয়োজকরা। তবে এবারের ঈদে মহামারিমুক্ত পরিবেশে জমে উঠেছে পুরান ঢাকার উৎসব। এবার পুরো বংশাল এলাকাটি আলোকসজ্জা দিয়ে সজ্জিত করা হয়। ঐতিহ্যবাহী বংশাল পুকুরপাড়ের রাতের দৃশ্য আলোর ফোয়ারায় দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। তার সঙ্গে পুকুরের নৌকা ভ্রমণের সুব্যবস্থা করা হয়েছিল। নৌকাগুলোর সাজ-সজ্জায় ছিল মোগল রাজকীয়তার ছাপ। শিশু-যুবক-যুবতী-বৃদ্ধরা পর্যন্ত নৌকা ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করেন। শিশুদের বিনোদনের সার্বিক আয়োজনে এক বিশাল মিলনমেলায় মন চায় যেন শিশুদের মতো আবারো ফিরে যেতে ঈদের দিনের স্বপ্নীল শৈশবে। তাই তো কবির সুরে বলতে হয় বাঁধভাঙা ঈদের আনন্দে হারিয়ে যেতে নেই মানা।
আরেকটি আয়োজন ছিল অতুলনীয় সেটি হচ্ছে ‘মেলা’। ঐতিহ্যগত দিক থেকে সবাই মেলা পছন্দ করে। বংশাল মেলার নাম দেয়া হয়েছে ‘ঈদ আনন্দ মিনিমেলা’। স্থানীয়রা বলছে- কর্মব্যস্ত নগরজীবন এই মেলা আমাদের গ্রামীণ পরিবেশের সঙ্গে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করেছে। আমরা চাই প্রতি বছর যেন এই মেলা হয় এবং আমাদের সন্তানরা যেন বিনোদন আরো দ্বিগুণ উপভোগ করতে পারে। তাদের মতে, শুধু পুরান ঢাকায় না সমগ্র শহরের মধ্যে ঈদ উদযাপনের দিক থেকে সবচেয়ে সেরা আয়োজন করে দেখিয়েছে বংশাল। এসব আয়োজনের পেছনে থাকা সবাইকে আমরা বংশালবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বংশালের ফ্রেঞ্চ রোড নয়াবাজারে ঈদের দিন থেকে শনিবার পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী চলছে আনন্দমেলা। স্থানীয়সহ আশপাশের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন ভিড় করছে এই আনন্দমেলা দেখতে।

মো. আরফাতুর রহমান (শাওন) শিক্ষক, মিল্লাত উচ্চ বিদ্যালয়, বংশাল, ঢাকা।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়