টিজিং প্রতিরোধহীন হয়ে যাচ্ছে!

আগের সংবাদ

নিবন্ধিত শিক্ষকদের প্যানেল নিয়োগই সমস্যার সমাধান

পরের সংবাদ

পটিয়া আদর্শ স্কুল সরকারি হবে কখন?

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২২ , ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ১২, ২০২২ , ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশে প্রায় দুইশ বছরের কোনো প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজো সরকারিকরণ হয়নি এমন ইতিহাস আমার জানা নেই। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে এক ঘোষণায় প্রায় ৩৩ হাজার বেসরকারি প্রাইমারি স্কুলকে সরকারিকরণ করেছে। এছাড়াও প্রতি উপজেলায় একটি করে কলেজকে সরকারিকরণ বর্তমান সরকারই করেছে। তার আগেই প্রতি উপজেলায় একটি করে হাইস্কুলকে সরকারিকরণ করা হয়েছে। শত শত স্কুল-মাদ্রাসার এমপিওভুক্তি বর্তমান সরকারের আমলেই হয়েছে। যার সুফল ছাত্র-শিক্ষকরা পাচ্ছেন। শিক্ষা উপবৃত্তি তো আছেই।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি একজন শিক্ষাবান্ধব মানুষ। কিন্তু দেশের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নানা কারণে আজো সরকারি হয়নি। ১৮৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বীর চট্টগ্রামের দক্ষিণাংশে অবস্থিত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সূতিকাগার মাস্টারদা সূর্যসেন ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দারের স্মৃতিবিজড়িত পটিয়ার ‘পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়টি’ অজানা কারণে আজো সরকারিকরণ থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে। আমি এই স্কুলের একজন গর্বিত শিক্ষার্থী হিসেবে আকুল আবেদন জানাতে চাই, স্কুলের পক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার দপ্তরে ইতোমধ্যে এই স্কুলটির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সরকারিকরণের যোগ্যতা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পৌঁছানো হয়েছে। ‘পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’ একটি ইতিহাস, একটি ঐতিহ্য। সমগ্র দক্ষিণ চট্টগ্রামে (কর্ণফুলী থেকে মিয়ানমার সীমানা পর্যন্ত) প্রথম প্রতিষ্ঠিত, প্রায় দুইশ বছরের প্রাচীন এ বিদ্যাপীঠ। এই বিদ্যালয়টির নাম ছিল পটিয়া আদর্শ ইংরেজি উচ্চ বিদ্যালয়। এ থেকেও বোঝা যায় যে স্কুলটি কতটা প্রাচীন। যুগস্রষ্টা মনীষী মুন্সি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, মুসলমানদের মধ্যে বাংলাদেশে প্রথম ডক্টরেট উপাধিপ্রাপ্ত আতাউল হাকিম, ‘মূর্তিমান মধ্যযুগ’ নামে খ্যাত ড. আহমদ শরীফ, নিখিল বঙ্গ কংগ্রেস নেতা ও জে এম সেন হলের প্রতিষ্ঠাতা যাত্রা মোহন সেন, ব্রিটিশ রাজদূত ও তিব্বত পরিব্রাজক শরৎচন্দ্র দাশ, তুলনামূলক সাহিত্য সমালোচনার জনক, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রীতিভাজন শশাঙ্ক মোহন সেন থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের বিশিষ্ট শিল্পপতি এস আলম মাসুদ, টিভি ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেতসহ অনেক কীর্তিমানই তো এ স্কুলের প্রাক্তন কৃতী শিক্ষার্থী।
প্রতি বছর জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এ স্কুলের অবস্থান থাকে উপজেলার সব বেসরকারি স্কুলের শীর্ষে। বর্তমানে স্কুলের ছাত্রসংখ্যা ১৫৬৮ জন। শিক্ষক ২৬ জন। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্তি, স্কাউটসের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘প্রেসিডেন্টস অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন এ স্কুলের শিক্ষার্থীদের পক্ষেই সম্ভব। প্রেসিডেন্ট’স অ্যাওয়ার্ড-২০২০ পেয়েছে এ স্কুলের ৭ কৃতী শিক্ষার্থী। যা পটিয়া উপজেলা ছেড়ে চট্টগ্রাম জেলায় একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। বিশাল এলাকাজুড়েই এ স্কুলের ক্যাম্পাস, সুবিশাল খেলার মাঠ, ৮.১১ একর ভূসম্পত্তি, বিশাল দীঘি, বৃক্ষশোভিত প্রাকৃতিক শোভা, দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার, আধুনিক মিলনায়তন, পাঁচ হাজারের বেশি পুস্তকসমৃদ্ধ পাঠাগার এ উপজেলার আর কোনো বিদ্যাপীঠেই তো দেখি না। এ যেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের ‘শান্তি নিকেতন’। শিক্ষার প্রসারেও এ স্কুলের অবদান অসামান্য। বৃহত্তর পটিয়ায় আগে কোনো কলেজ ছিল না। এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদের সিংহভাগ উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে ছিল বঞ্চিত। উচ্চশিক্ষার সংকটের এ সময়টাতেও এগিয়ে আসে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী ও ম্যানেজিং কমিটি। তারা স্কুলের নিজস্ব জায়গা থেকে ২.৫০ একর জায়গা কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য দান করেন ১৯৬২ সালে। এ দানকৃত জায়গাতেই প্রতিষ্ঠিত হয় কলেজ। এ কলেজটাই আজকের সুপরিচিত ‘পটিয়া সরকারি কলেজ’।
এ স্কুল হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত। ইতিহাসের এ মহানায়ক ১৯৭০ সালের ২৫ এপ্রিল ও ১৯৭৩ সালে এ স্কুলের মাঠের জনসমুদ্রে দিয়েছিলেন অগ্নিঝরা ভাষণ। ১৯৯৬ ও ২০১৮ সালের ২০ মার্চ এ স্কুলের মাঠেই আজকের প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা বক্তব্য দিয়েছিলেন লাখো মানুষের জনসভায়। একাডেমিক, সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম কিংবা শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ, মানসম্মত শিক্ষা, নিজস্ব বিশাল ক্যাম্পাস, ডিজিটাল ল্যাব, শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর অত্যুজ্জ্বল পরীক্ষার ফলাফল অর্থাৎ সব মানদণ্ডে উপজেলায় সেরা, ইতিহাস-খ্যাত, সুপ্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী এ স্কুল সর্বক্ষেত্রে সরকারি হওয়ার যোগ্য। খুবই দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে যে, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও ‘আবদুস সোবাহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়’ একই সীমানায় দুটো স্কুলের অবস্থান। তবে আবদুস সোবাহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা পায় ১৯৪৫ সালে। যা পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একশ বছর পরে প্রতিষ্ঠিত। শোনা যাচ্ছে, একটি মহল দুইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়কে পাশ কেটে ‘আবদুস সোবাহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়’কে সরকারিকরণের কাজ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছে।
এই একপেশে, একচোখা নীতির কথা যেই পটিয়াবাসী অবগত হচ্ছে, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আপনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা। জাতির জনক ও আপনার স্মৃতিবিজড়িত পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণের জন্য উদ্যোগী হবেন এ প্রত্যাশা করছি।

শিবুকান্তি দাশ : ২২/এ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়