চীনে ১১৩ যাত্রী নিয়ে বিমানে ভয়াবহ আগুন

আগের সংবাদ

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন শরৎ ফনসেকা!

পরের সংবাদ

ডেসটিনির রফিকুল আমীনের ১২, হারুনের চার বছর কারাদণ্ড

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২২ , ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ১২, ২০২২ , ৩:২৮ অপরাহ্ণ

বাকি ৪৪ আসামির নানা মেয়াদে সাজা

গ্রাহকের ৪ হাজার ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনের ১২ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এটা অনাদায়ে তাকে আরও তিন বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া ডেসটিনির গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল (অব:) হারুন-অর-রশিদের ৪ বছর কারাদণ্ড ও ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাভোগের কথা বলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মে) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম মামলাটির রায় ঘোষণা করেন।

ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির বিরুদ্ধে করা মামলায় মোট আসামি ৪৬ জন। রফিকুল-হারুন বাদে বাকি ৪৪ জনকেও সাজা দিয়েছেন আদালত। এরমধ্যে মোহাম্মদ হোসেনের ১০ বছর কারাদণ্ড ও ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, ডেসটিনির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোফরানুল হক ১০ বছর কারাদণ্ড ও ১৮০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, সাঈদ-উর-রহমানে ১০ বছর কারাদণ্ড ও ১৮০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, মেজবাহ উদ্দিনের ১০ বছর কারাদণ্ড ও ১৮০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেনের ৯ বছর কারাদণ্ড ও ৩০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, ইরফান আহমেদের ৯ বছর কারাদণ্ড ও ১৫০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, মিসেস ফারাহ দীবা’র ৮ বছর কারাদণ্ড ও ৪০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, জমশেদ আরা চৌধুরীর ৮ বছর কারাদণ্ড ও ৪০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, শেখ তৈয়বুর রহমানের ৮ বছর কারাদণ্ড ও ৪০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, নেপাল চন্দ্র বিশ্বাসের ৮ বছর কারাদণ্ড ও ৪০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, মোহাম্মদ জাকির হোসেনের ৯ বছর কারাদণ্ড ও ১২৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, আজাদ রহমানের ৯ বছর কারাদণ্ড ও ১২৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, মো. আকবর হোসেন সুমনের ৯ বছর কারাদণ্ড ও ১২৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, আবুল কালাম আজাদের ৮ বছর কারাদণ্ড ও ১২৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান রুবেলের ৮ বছর কারাদণ্ড ও ১২৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, মো. সুমন আলী খানের ৯ বছর কারাদণ্ড ও ১২৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, শিরীন আকতারের ৮ বছর কারাদণ্ড ও ১২৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, রফিকুল ইসলাম সরকারের ৮ বছর কারাদণ্ড ও ১২৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, মো. মজিবুর রহমানের ৮ বছর কারাদণ্ড ও ১২৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. দিদারুল আলম ৮ বছর কারাদণ্ড ও ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড (সাজা খাটা হয়ে গেছে), ড. এম হায়দারুজ্জামানের ৬ বছর কারাদণ্ড ও ১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের ৬ বছর কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, কাজী মো. ফজলুল করিমের ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, মোল্লা আল আমীনের ৪ বছর কারাদণ্ড ও ১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, মো. শফিউল ইসলামের ৭ বছর কারাদণ্ড ও ১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, জিয়াউল হক মোল্লা’র ৫ বছর কারাদণ্ড ও ১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, সিকদার কবিরুল ইসলামের ৫ বছর কারাদণ্ড ও ১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, মো. ফিরোজ আলমের ৫ বছর কারাদণ্ড ও ১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, এসএম আহসানুল কবির, ওমর ফারুকের ৫ বছর কারাদণ্ড ও ২৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, সুনীল বরণ কর্মকার ওরফে এসবি কর্মকার ৮ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, ফরিদ আকতারের ৮ বছর কারাদণ্ড ও ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, এস সহিদুজ্জামান চয়নের ৮ বছর কারাদণ্ড ও ১৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, আবদুর রহমান তপনের ৭ বছর কারাদণ্ড ও ১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, মেজর (অব.) সাকিবুজ্জামান খানের ৫ বছর কারাদণ্ড ও ১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, এসএম আহসানুল কবিরের (বিপ্লব) ৮ বছর কারাদণ্ড ও ১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, এএইচএম আতাউর রহমান রেজার ৮ বছর কারাদণ্ড ও ১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, গোলাম কিবরিয়া মিল্টনের ৮ বছর কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, মো. আতিকুর রহমান ৭ বছর কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, খন্দকার বেনজীর আহমেদ ৭ বছর কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, একেএম সফিউল্লাহ ৭ বছর কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, শাহ আলমের ৭ বছর কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, মো. দেলোয়ার হোসেনের ৭ বছর কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, মো. শফিকুল হকের ৭ বছর কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড এবং মিসেস জেসমিন আক্তারের (মিলন) ৫ বছর কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড করেছেন আদালত।

রফিকুল আমিন ও হারুন-অর-রশীদ

তবে আসামিদের মধ্যে রফিকুল আমীন, মোহাম্মদ হোসেন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. দিদারুল আলম প্রায় ১০ বছর ধরে কারাগারে ছিলেন। এ কারভোগ প্রাপ্ত কারাদণ্ড থেকে বাদ দিলে রফিকুল আমিনকে ২ বছর, মোহাম্মদ হোসেনকে ১ বছর কারাভোগ করতে হবে। দিদারুল ইসলামের কারাভোগ হয়ে গেছে। অন্যদিকে জামিনে ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশিদ, জেসমিন আক্তার, জিয়াউল হক মোল্লা ও সাইফুল ইসলাম রুবেল। বাকিরা পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের পর থেকে সাজাভোগ শুরু হবে। এরআগে গত ২৭ মার্চ মামলাটিতে দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের আজকের দিনটি ধার্য করেন আদালত।

২০১৪ সালের ৪ মে ডেসটিনির বিরুদ্ধে দুই মামলায় চার্জশিট দাখিল করে দুদক। এতে বলা হয়, মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভের নামে ডেসটিনি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে ১ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। সেখান থেকে ১ হাজার ৮৬১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ওই অর্থ আত্মসাতের ফলে সাড়ে ৮ লাখ বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়েন। মামলাটিতে ৩০৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ২০২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। এছাড়া একই আদালতে ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগের আরেকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এতে রফিকুল আমীনসহ আসামি ১৯ জন।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়