নিউজ ফ্ল্যাশ

আগের সংবাদ

সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে গ্রুপসেরা বাংলাদেশ

পরের সংবাদ

আইপিএল ছেড়ে দেশে ফিরছেন মোস্তাফিজ!

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২২ , ৮:১০ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ১২, ২০২২ , ৮:১০ অপরাহ্ণ

কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানের চোখ ঝলসানো কাটারের সামনে নত স্বীকার করেছে রোহিত শর্মা, আন্দ্রে রাসেলের মতো ব্যাটাররা। ২০১৫ সালে ঘরের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত অভিষেক ম্যাচের পরপরই ক্রিকেট বিশ্বে মোস্তাফিজকে নিয়ে ভাবতে হয়েছে। তার কাটার নিয়ে পড়ালেখা করতে হয়েছে নতুন করে। এরপর থেকে প্রিমিয়ার লিগগুলোতে তাকে দলে নিতে উঠে পড়ে লেগেছে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) ২০১৬ সালে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে যাত্রা শুরু হয়েছে তার। এরপর বিভিন্ন আসরে রাজস্থান রয়্যালস, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জার্সিতেও দেখা গেছে টাইগার কাটার মাস্টারকে।

আইপিএলের চলতি আসরে সাকিব আল হাসান দল না পেলেও সুযোগ পেয়েছেন মোস্তাফিজ। মেগা অকশনে ২ কোটি রুপিতে ফিজকে দলে নিয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস। দিল্লির সর্বশেষ তিন ম্যাচে সাইড বেঞ্চে বসে খেলা দেখতে হয়েছে তাকে। গ্রুপ পর্বে আর দুটি ম্যাচ বাকি আছে দিল্লির। আগামী দুই ম্যাচে পাঞ্জাব কিংস ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে মোস্তাফিজকে দেখা যেতেও পারে। তবে সে সুযোগ না হলে লখনৌর সঙ্গে খেলা ম্যাচই হবে আইপিএলের এই আসরের তার শেষ ম্যাচ। টুর্নামেন্টের এই আসরে ৮ ম্যাচে মাত্র ৮ উইকেট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে টাইগার কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানকে। এদিকে তাসকিন-শরিফুলের ইনজুরির কারণে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পেসার সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ।

আইপিএলের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে সিরিজ শেষ করে ভারতে গিয়েছেন তিনি। তবে কোয়ারেন্টাইন পালন করার ফলে প্রথম ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি তিনি। প্রথম ম্যাচে খেলতে না পারলেও দ্বিতীয় ম্যাচ থেকেই দিল্লির জার্সিতে মাঠে দেখা গেছে তাকে। নতুন জার্সিতে প্রথম ম্যাচেই করেছেন বাজিমাত। নিজের প্রথম ম্যাচেই ২৩ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। এরপর তিন ম্যাচে কোনো উইকেটের দেখা পাননি তিনি। ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে উইকেট শূন্য থাকার পাশাপাশি দিয়েছেন ৪৮ রান। এরপরের ম্যাচ থেকেই উইকেট প্রাপ্তিতে ফিরে আসেন তিনি। পাঞ্জাবের বিপক্ষে ২৮ রানের বিনিময়ে পেয়েছেন ১ উইকেট এবং পরবর্তী ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ৪৩ রানে পেয়েছেন শতক হাঁকানো জস বাটলারের উইকেট।

ফিল্ডার হিসেবেও আইপিএলে আলো ছড়িয়েছেন মোস্তাফিজ

এরপর কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে নিজের সেরা বোলিংটা বের করে আনলেন বাংলাদেশি পেসার। শেষ ওভারে মাত্র ১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ। ৪ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ১৮ রান। সব মিলিয়ে এ টুর্নামেন্টে তার দ্বিতীয় সেরা বোলিং ছিল এটি। ২০১৬ সালে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের জার্সিতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ১৬ রানে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। এর পরের ম্যাচে আবারো ছন্দ হারিয়ে ফেলেছেন। পরের ম্যাচে লখনৌ সুপার জায়ান্টের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৩৭ রান দিলেও কোনো উইকেটের দেখা পাননি তিনি। এরপর থেকে দিল্লির আরো তিনটি ম্যাচ মাঠে গড়িয়েছে। কিন্তু তিন ম্যাচেই নীরব দর্শকের ভূমিকায় ডাগআউটে বসে ছিলেন তিনি।

এবারের আইপিএলে প্রতিটি দল ভারতীয় তরুণ পেসারদের ওপর জোর দিয়েছে। অনেক দলেই এখন দেশি বাঁহাতি পেসার রেখেছে। শুধু বাঁহাতি পেসার খেলাতে হবে, এই যুক্তিতে যেন কোনো বিদেশি কোটা পূরণ না হয়ে যায়, সেটা নিশ্চিত করতেই মূলত এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এজন্য ২ কোটি রুপি দিয়ে মোস্তাফিজকে কেনার পরও দুই স্থানীয় বাঁহাতি পেসার কিনেছে দিল্লি। ২৫ বছর বয়সি খলিল আহমেদকে ৫ কোটি ২৫ লাখ রুপি দিয়ে কেনার পর চেতন সাকারিয়াকেও নিয়েছে ৪ কোটি ২০ লাখ রুপিতে। দক্ষিণ আফ্রিকান ফাস্ট বোলার আনরিখ নর্কিয়া চোটে থাকায় খলিল ও মোস্তাফিজ বেশ কিছু ম্যাচ একসঙ্গে খেলেছেন। কিন্তু নর্কিয়া চোট কাটিয়ে ফেরার পরই কপাল পুড়েছে ফিজের।

বিদেশি কোটায় ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শের জায়গা পুরোপুরি নিশ্চিত। মিডল অর্ডারে কয়েকটি ম্যাচজয়ী দূর্দান্ত ইনিংস খেলে নিজের জায়গা নিশ্চিত করে নিয়েছে রোভমেন পাওয়েল। বাকি থাকে মাত্র একটি কোটা। সেখানে প্রতিযোগী তিনজন। মোস্তাফিজের লড়তে হচ্ছে নর্কিয়া ও খলিল আহমেদের সঙ্গে। কিন্তু নিয়মিত ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারা নর্কিয়াই জায়গা পেয়েছেন। এরপর খলিলের ব্যর্থতার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে ফিজকে। তবে সেক্ষেত্রে বাধা আছে। চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে যেখানে সবাই ব্যর্থ হয়েছিলেন সেখানে মাত্র ২৮ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট পেয়েছিলেন খলিল আহমেদ। গতকাল জয়ের পর ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে আছে দিল্লি। ইতোমধ্যে সবার আগে গুজরাট কোয়ালিফাইন নিশ্চিত করে নিয়েছে। বাকি তিন দলের মধ্যে এগিয়ে আছে লখনৌ সুপার জায়ান্ট, রাজস্থান রয়্যালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরু। ১২ ম্যাচ শেষে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে লখনৌ।

এরপর সমান ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট করে নিয়ে রান রেটের ভিত্তিতে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে আছে রাজস্থান রয়্যালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। প্রত্যেকের আরো দুটি করে ম্যাচ বাকি আছে। দিল্লিকে যদি কোয়ালিফাইন করতে হয় তাহলে তাকিয়ে থাকতে হবে ব্যাঙ্গালুরুর ব্যর্থতার দিকে। আসন্ন দুই ম্যাচে ব্যাঙ্গালুরুর হার ও দিল্লির জয়ই পারে ঋষভ পন্তদের শেষ চারে নিয়ে যেতে। এছাড়া পঞ্চম স্থানে থেকেই বিদায় নিতে হবে মোস্তাফিজদের। আগামী দুই ম্যাচে পাঞ্জাব কিংস ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে মোস্তাফিজকে দেখা যেতেও পারে। তবে সে সুযোগ না হলে লখনৌর সঙ্গে খেলা ম্যাচই হবে আইপিএলের এই আসরের তার শেষ ম্যাচ।

রি-এসএস/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়