আওয়ামী লীগ চাইলেও বিএনপির ‘না’ বহাল

আগের সংবাদ

স্পষ্ট নয় আয় বাড়ানোর খাত

পরের সংবাদ

আলোচনায় ‘ভাবি সিন্ডিকেট’ : রেল কত আর লোকসান টানবে?

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২২ , ৪:১৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ১১, ২০২২ , ৪:১৩ পূর্বাহ্ণ

রেল অনিয়ম-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। লোকসানের পাল্লা দিন দিন ভারী হচ্ছে। সরকার নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েও যেন এগোতে পারছে না। সম্প্রতি রেলমন্ত্রী পতœীকাণ্ডে আলোচনার ঝড় উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর নানা অনিয়মের খবর এখন গণমাধ্যমে উঠে আসছে। রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে তিনজন বিনা টিকেটে এসি কক্ষে যাত্রা করছিলেন। পরে শোভন শ্রেণির টিকেট কেটে এসিতে থাকতে চেয়েছেন। বেরসিক টিটিই তাদের খায়েশ পূরণে বাদ সেধেছিলেন। বিনা টিকেটে রেল ভ্রমণের কারণে জরিমানা আদায় করেন। এতে মন্ত্রীর স্ত্রী ক্ষিপ্ত হন। তার প্রতাপ এতই বেশি যে, সেই টিটিই যাত্রা শেষ হতে না হতেই মোবাইল ফোনবার্তার মাধ্যমে সাময়িক বরখাস্ত হলেন। গণমাধ্যম লেগে ছিল বিষয়টি নিয়ে। বের হয়ে এলো ভাবিকাণ্ডের আরো নানা অপতৎপরতা। সত্য ঘটনা উদ্ঘাটনের পর শফিকুলের বরখাস্তের আদেশ ২ দিন পর প্রত্যাহার হলো। মঙ্গলবার খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর ট্রেন রূপসা এক্সপ্রেসের টিটিই হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তিনি। খবরে প্রকাশ মন্ত্রীর স্ত্রীর নির্দেশে রেল কর্মকর্তাকে বরখাস্তের ঘটনার পর তাদের তদবির বাণিজ্য নিয়ে ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। অবশ্যই স্ত্রীকাণ্ডে ‘বিব্রত’ রেলমন্ত্রী তার আত্মীয় পরিচয়ে কেউ বাড়তি বা অনৈতিক সুবিধা চাইলে পুলিশে সোপর্দ করার ঘোষণা দিয়েছেন। দেখা যাক বাস্তব চিত্র কী দাঁড়ায়। কেবল বিনা টিকেটে ভ্রমণই নয়, প্রভাব খাটিয়ে ট্রেনের টিকেট ও কামরা নেয়া, ঠিকাদারি কাজ, জমির ইজারা, পদোন্নতি, বদলি, নিয়োগ সব কাজেই ভাবি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। এর মধ্যে মনি, মিলন, লাবণ্য, রেজা, জোবায়েরসহ ১০ সদস্যের ‘ভাবি সিন্ডিকেট’ সবার পরিচিত। প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালকদের কাছে কাজ চাওয়া, কেনাকাটা, ঠিকাদারি সব কাজেই নিচ্ছে কমিশন। পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে চাপ আসে এ সিন্ডিকেটের সদস্যদের পক্ষ থেকে। নির্দেশ না মানলে বদলি বা বরখাস্তের হুমকি দেয়া হয়। এই সুযোগে অনেক কর্মকর্তা সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিজেদের আখের গোছাচ্ছেন। এমন চিত্র নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সেবা খাতে এমন অনিয়মের চিত্র দেখি। আমরা চাই রেল সঠিক ব্যবস্থায় ফিরে আসুক। লাভের পথ দেখুক। রেলে অনিয়ম বেশি হয় এমন খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনা। টিকেট কালোবাজারি কিংবা টিকেটের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা নিয়মিতভাবেই ঘটছে। এসব কাজে রেলওয়েরই কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে টিকেট পরিদর্শকসহ রেলওয়ের রানিং স্টাফদের বিরুদ্ধে বিনা টিকেটের যাত্রীদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগও পুরনো। এটি গুরুত্ব দিয়ে দমন করা দরকার। তাহলে লোকসানের পাল্লা কিছুটা হলেও হাল্কা হবে। সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছর ১ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা লোকসান গুনেছে রেলওয়ে। গত পাঁচ বছরে লোকসানের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা। ধারাবাহিক এ লোকসানের জন্য রেলের অনিয়ম-দুর্নীতিকে দায়ী করেছে খোদ রেলপথ মন্ত্রণালয়। এ পথ থেকে উত্তরণের পথ খুঁজুন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়