বিশ্বজুড়ে চলছে উলঙ্গ ফ্যাসিবাদী ত্রাস

আগের সংবাদ

নীরব ঘাতক প্রোস্টেট ক্যান্সার, পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষদের ঝুঁকি বেশি

পরের সংবাদ

মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ জরুরি

প্রকাশিত: মে ১০, ২০২২ , ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ১০, ২০২২ , ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ

অনিবন্ধিত হাজার হাজার মোটরসাইকেল সড়কে চলছে। এতে করে বাড়ছে প্রাণহানি, অঙ্গহানি। কয়েক বছর ধরেই ঈদের ছুটিতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও মৃত্যু নিয়মিত ঘটনা হয়ে উঠছে। ব্যতিক্রম হয়নি এবারো। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, ঈদযাত্রা ও ঈদ উদযাপনের গত ১০ দিনে সারাদেশে ৯৭ জন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৫১ জনই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক। অর্থাৎ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ৫৭ শতাংশের বয়স ছিল ১৫-২০ বছরের মধ্যে। সড়কে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তাদের প্রায় ৪৮ শতাংশই মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী। রাজধানীসহ সড়ক-মহাসড়কে বেপরোয়াভাবে চালিত মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশকে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে আগে। জানা গেছে, সারাদেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের ২৫ শতাংশই ঢাকায়। প্রতিদিন মোটরসাইকেল নিবন্ধিত হচ্ছে গড়ে ৪১৫টি। বিআরটির তথ্যমতে, সারাদেশে ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪৮৮টি মোটরসাইকেল রয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকায় রয়েছে ৯ লাখ ১৪ হাজার ৮১৭টি মোটরসাইকেল। রাজধানীর যানজট এড়িয়ে কর্মক্ষেত্রে মানুষকে দ্রুত পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রায় ৪-৫ বছর ধরে অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল চালু হয়। কর্মজীবীরাও দ্রুত কর্মস্থলে পৌঁছতে এসব ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল বেছে নেয়। ফলে যানটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। তবে এসব মোটরসাইকেল যারা চালায়, তারা যাত্রীকে সময় বাঁচিয়ে দ্রুত গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দিতে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। শুধু ভাড়াভিত্তিক মোটরসাইকেলই নয়, এর বাইরে যারা মোটরসাইকেল চালায়, তাদের মধ্যেও বেপরোয়াভাব রয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের মহাসড়কে প্রায় ৩৮ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে বৃষ্টির মৌসুমে রাতের বেলা। অন্য গাড়ি তাদের ধাক্কা দিয়েছে কিংবা রাস্তায় বাইক পিছলে গেছে। দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়াও দুর্ঘটনার একটি কারণ। অদক্ষ চালক, অবৈধ ওভারটেকিং, পুরনো যন্ত্রাংশ, মোবাইলে কথা বলতে বলতে ড্রাইভ করতে থাকা ইত্যাদি কারণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা তুলনামূলক কম। তারা সুযোগ পেলেই আইন ভেঙে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালানো বন্ধে উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো অবস্থায়ই হাঁটার পথে মোটরবাইক চালানো যাবে না। এছাড়া ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালালে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ড এবং ৩৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮তে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, আইনগুলো বাস্তবায়ন হলে ফুটপাতে মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্য অনেকাংশেই কমে যাবে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্পিড রাডার বসানোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট সীমার তুলনায় অধিক গতিতে মোটরসাইকেলসহ সব যানবাহন চালান নিরুৎসাহিত করা জরুরি। ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে বিআরটিএর কর্মকর্তাদের আরো দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়