রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

আগের সংবাদ

মেলিন্ডার সঙ্গে কি আবার বিবাহ বন্ধনে জড়াবেন বিল গেটস?

পরের সংবাদ

মায়ের হাতের সিমাইয়ের পায়েসে আমার ঈদ শুরু: জয়া

প্রকাশিত: মে ৩, ২০২২ , ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ৩, ২০২২ , ১২:৫৭ অপরাহ্ণ

চারিদিকে খুশির রোশনাই। সোমবার যে আমাদের ‘চাঁন রাত’। মঙ্গলবার ঈদ। এই সোনাঝরা দিনের অপেক্ষাতেই থাকি। ঢাকাতেও ঈদের জন্য রাত তিনটায়ও কেনাকাটার জন্য সব দোকান খোলা। এ ক’দিন রোজ রাত দশটার পর কেনাকাটা করতে গিয়েছি। ঈদ মানেই দেয়া-নেয়ার পালা। প্রচুর উপহার যেমন পাই, তেমনই প্রচুর উপহার কিনি। টাকা খরচ করতে করতে আমার ভাঁড়ার শূন্য হয়ে যায়। তবে এই দেওয়ার মধ্যেই যত আনন্দ! এভাবেই নিজের ঈদ আনন্দ ব্যক্ত করেছেন অভিনেত্রী জয়া আহসান।

তিনি বলেন, সোমবার আমার বোনের বাড়ি চাঁন রাতে মেয়েদের দল একসঙ্গে হব। এই রাত হাতে মেহেন্দি পরার। নিজেকে সুন্দর করে তোলার। চাঁদের আলোয় হারিয়ে যাওয়ার। এই মেহেন্দি পরতে পরতেই শুরু হবে রান্নার গল্প। হয়তো বোনের রান্নাঘর থেকে ভেসে আসবে সিমাইয়ের পায়েসের গন্ধ। এই গন্ধ আমার জীবনে ঈদের বার্তা নিয়ে আসে। মনে পড়ে, মা এভাবেই বাড়িতে জাফরান দিয়ে সিমাইয়ের পায়েস রান্না করবে।

আনন্দবাজার পত্রিকাকে জয়া বলেন, আমাদের বাড়িতে মঙ্গলবার সকাল থেকে মানুষের আসা যাওয়া শুরু হবে। প্রত্যেক বারের মতো মা সব ঝামেলা সামলাবে। মোরগ পোলাও, খাসির মাংস, কত রকমের মিষ্টি… আরও অনেক কিছু রান্না হবে।

সাত দিন ধরে চলবে উৎসব। দাওয়াত। সাজ আর খুশির হাওয়া। এই ঈদে ছোটরা বড়দের সালাম করবেই। আর বড়রা ছোটদের হাতে ঈদের সালামি হিসেবে নতুন টাকার নোট দেবেন। এটা দিতেই হয়। ছোটবেলায় আমরা বাড়ির বড়দের সালাম করতে ছুটতাম। টাকা পাব, এই আনন্দে। এখন আমাকে টাকা দিতে হয়। ব্যাংক থেকে পঞ্চাশ টাকা, একশো টাকা, পাঁচশো টাকার কড়কড়ে নোট তুলে রেখে দিতে হবে সঙ্গে। কে কখন সালাম করবে, বলা তো যায় না। এখন তো দেখি ছেলেমেয়েরা সব কুড়ি-তিরিশ হাজার টাকা করে পায়। আমাদের ছোটবেলায় আমরাও পাঁচ-ছয় হাজার টাকা পেতাম। তাতেই কী মজা হত।

এই ঈদ শুধু নিজেদের উৎসব নয়। চারপাশে যে সব মানুষ আমাদের মতো করে ঈদ উদযাপন করতে পারছেন না, তাদের অর্থ বা সম্পত্তির একটি ছোট অংশ ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই ঈদের সার্থকতা। একে আমরা যাকাত বলি। এই উৎসবে আমাদের প্রত্যেকের অর্থ বা সম্পত্তির কিছু অংশ ‘যাকাত’ হিসেবে অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেই হয়। এই রমজান মাস জুড়ে আমি যেমন রাস্তায় আশ্রিত প্রচুর মানুষকে ঠিক করে ইফতার করালাম। পোশাক দিলাম। এই দেওয়ার আনন্দই আলাদা। প্রত্যেক মুসলমান এই ঈদে মসজিদে নমাজ পড়তে যাবে। ইসলামে কিন্তু ধনী আর দরিদ্রকে কোথাও আলাদা করা হয় না।

বলা হয়, রাজা আর ফকির এক মসজিদে একসঙ্গে নমাজ পড়ে। এক পাত থেকেই ইফতারের খাবার খায়। ঈদের ‘জামাত’ শেষে কোলাকুলি করে। এটাই আসল ঈদ। নমাজের পরে মসজিদের বাইরে লাইন দিয়ে অনেক মানুষ অপেক্ষা করেন, আর ছেলেরা নতুন পাঞ্জাবি থেকে নতুন টাকা বের করে তাদের দেন। অন্তরের আনন্দকে সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াই ঈদের অনুভব। ঈদের শান্তি।

ডি-ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়