সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিতের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

আগের সংবাদ

উত্তর ভারতে ১২২ বছরের মধ্যে রেকর্ড ৪৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা

পরের সংবাদ

কর্মকর্তা থেকে যেভাবে দীর্ঘমেয়াদী অর্থমন্ত্রী হয়েছিলেন মুহিত

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩০, ২০২২ , ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ৩০, ২০২২ , ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের অর্থনীতির ইতিহাসে আবুল মাল আব্দুল মুহিত একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে মুহিত সবচেয়ে বেশি সময় যাবৎ অর্থমন্ত্রী ছিলেন।

এর মধ্যে ২০০৯ সাল থেকে টানা ১০ বছর তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সবচেয়ে বেশি বাজেট তিনিই উপস্থাপন করেছেন। খবর বিবিসির।

পড়াশুনা ও পেশাগত জীবন

আবুল মাল আব্দুল মুহিতের জন্ম হয় ১৯৩৪ সালের ২৫শে জানুয়ারি বর্তমান সিলেট শহরের ধোপা দিঘির পাড়ে পৈতৃক বাড়িতে। স্কুল ও কলেজ জীবনে তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছিলেন।

১৯৪৯ সালে তিনি সিলেট গভর্নমেন্ট পাইলট স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৫১ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। চাকরির সময় তিনি অক্সফোর্ড ও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করেন।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে তিনি ওয়াশিংটনে পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন। যুদ্ধ শুরুর পর মুহিত পাকিস্তান সরকারের পক্ষ ত্যাগ করেন ও সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত

এরশাদ সরকারের মন্ত্রী ও তারপর

মুহিত ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ সরকারের চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে যান। এরপর ১৯৮২-৮৩ সালে তৎকালীন সামরিক শাসক জেনারেল এইচ এম এরশাদ সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন তিনি। পেশাগত জীবনে তিনি কাজ করেছেন বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে।

১৯৯০-এর দশকে শুরুর দিকে ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে গণফোরাম গঠন করলে সেখানে সম্পৃক্ত হন আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তবে তখন তাকে রাজনীতিতে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি।

রাজনীতিতে মুহিতের সক্রিয় পদচারণা শুরু হয় ২০০১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে। তখন তিনি সিলেট ১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। কিন্তু সে নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এম. সাইফুর রহমানের (সাবেক অর্থমন্ত্রী) কাছে পরাজিত হন মুহিত।

মুহিত ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচন করে বিএনপির এম সাইফুর রহমানের বিপক্ষে জয়লাভ করেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ইশতেহার প্রণয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন মুহিত। নির্বাচনে জয়লাভের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে মি. মুহিতকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর তিনি টানা ১০ বছর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত

অর্থমন্ত্রী হিসেবে মুহিত কেমন ছিলেন?

গত ৩০ বছর যাবৎ অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি ও বাজেট পর্যালোচনা নিয়ে কাজ করছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে মুহিত যখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন, তখন দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা মোটামুটি ভালো ছিল। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সঙ্গে প্রবৃদ্ধির মাত্রাও মোটামুটি ভালো ছিল এবং তা ক্রমান্বয়ে বেড়েছে।

মুহিত অর্থমন্ত্রী থাকার সময় কৃষি ও শিল্পে বড় ধরনের কোন সংকট লক্ষ্য করা যায়নি বলে উল্লেখ করেন সিপিডির এই সম্মানিত ফেলো। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও দেশের ভেতরে বৈষম্য বেড়েছে। এসময় তিনি মুহিত অর্থমন্ত্রী থাকার সময় শেয়ার বাজারে ব্যাপক ধস নামে বলে জানান। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলার অভিযোগও গুরুতর আকার ধারণ করে। একটা সময় তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের আর নতুন কোনো বেসরকারি ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। কিন্তু তারপরেও ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির ধারা টেকসই করার জন্য যেসব কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন ছিল সেটি দেখা যায়নি মুহিত অর্থমন্ত্রী থাকার সময়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়