হাওরে এখন দিনরাত ধান গোলায় তোলার লড়াই

আগের সংবাদ

হজ ফ্লাইটের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লাগবে করোনার নেগেটিভ রিপোর্ট

পরের সংবাদ

শ্রমিক আন্দোলনের মুখে বড়পুকুরিয়ায় কয়লা উত্তোলন বন্ধ

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২২ , ৬:২৫ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ২৯, ২০২২ , ৬:২৫ অপরাহ্ণ

পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে কয়লা উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিক কর্মস্থলে যোগদান ও বকেয়া বেতন এবং কয়লা উত্তোলন কাজে নিয়োজিত খনির কম্পাউন্ডের ভিতরে দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ শ্রমিকরা বাড়ি থেকে যাতায়াতের দাবিতে ভিতরে ও বাহিরে যুগপদ আন্দোলন শুরু করায় খনির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে, মানবিক দিক বিবেচনা করে কর্মহীন হয়ে পড়া আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে দিয়েছে খনি কর্তৃপক্ষ।

কর্মহীন শ্রমিকরা স্ত্রী সন্তান নিয়ে খনি এলাকায় প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবস্থান করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি কয়লা উত্তোলন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরাও খনির ভিতরে আন্দোলন শুরু করেছে। শ্রমিকরা দাবি পূরণের জন্য গত ২৪ এপ্রিল স্মারকলিপির মাধ্যমে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়। এ সময়ের মধ্যে দাবি পুরণ না হওয়া তারা গত বুধবার থেকে যুগপদ আন্দোলনে যায়।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত খনি কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসেনি।

এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান ও জেনারেল ম্যানেজার (মাইন অপারেশন) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, কয়লা উত্তোলন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা কাজ আন্দোলন শুরু করায় গত বুধবার থেকে কয়লা উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। তবে বর্তমান উৎপাদনশীল ১৩১০ নম্বর কোলফেইজের মজুদও সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই শেষ হয়ে কয়লা উত্তোলন এমনিতেই বন্ধ হতো। নতুন ১৩০৬ নম্বর ফেউজ থেকে কয়লা উত্তোলন করা হবে। ১৩১০ নম্বর ফেইজ থেকে যন্ত্রপাতি সরিয়ে ১৩০৬ নম্বর ফেইজে স্থাপন করে কয়লা উত্তোলনে যেতে অন্তত সাড়ে তিন মাস সময় লাগবে। বর্তমানে খনি ইয়ার্ডে ২ লাখ টনের বেশী কয়লা মজুদ রয়েছে বলেও তারা জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে এমডি জানান, পুনরায় উৎপাদন শুরু হলে পর্যায়ক্রমে সকল শ্রমিককে কাজে যোগদান করাবে বলে এক্সএমসি-সিএমসি রাজি হয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়া প্রত্যেক শ্রমিককে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, খনির উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এক্সএমসি-সিএমসি কনসোর্টিয়ামের অধীনে কর্মরত ১ হাজার ১৪৭ জন বাংলাদেশী শ্রমিক ২০২০ সালের ২৬ মার্চ থেকে খনি লকডাউন করায় বেকার হয়ে পড়ে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের বেতন ভাতাও বন্ধ করে দেয়। এ অবস্থায় কাজে যোগদান ও বকেয়া বেতন ভাতার দাবিতে খনি শ্রমিক ও আউটসোর্স কর্মচারীরা বিক্ষোভ-সমাবেশে, সড়ক অবরোধ শুরু করে আন্দোলনে যায়। পরে এক্সএমসি-সিএমসি পর্যায়ক্রমে ২০২০ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে প্রায় সাড়ে চার শত শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজে যোগদান করায়। তবে খনি কম্পাউন্ডের ভিতরে সার্বক্ষনিক এসব শ্রমিককে অবস্থান করতে হয়। অবশিষ্ট শ্রমিকরা তখন থেকে বেকার রয়েছে।

রি-এমআরবি/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়