বিদেশিরা কি আমাদের রাজনীতির ভাগ্য নিয়ন্তা?

আগের সংবাদ

দক্ষিণ এশিয়ায় উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার চায় ভারত

পরের সংবাদ

ফেরিঘাটে দুর্ভোগ আর কত?

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২২ , ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ২৯, ২০২২ , ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

ফেরিঘাটে দুর্ভোগ- এটা নতুন খবর নয়। এটা যেন নিয়তি। ঈদের আগে এ বিড়ম্বনা চরম পর্যায়ে যায়। এবারো তা দেখছি। কোনো সুরাহা দেখি না। ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলা এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১৭টি জেলার সহজ যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে আরিচা-কাজিরহাট ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট। এ দুটি নৌরুটে যাত্রী এবং যানবাহনের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। কিন্তু ফেরি সার্ভিসের কোনো উন্নতি হচ্ছে না। ফলে সারা বছরই যাত্রী এবং যানবাহন শ্রমিকদের দুর্ভোগ লেগেই আছে। জানা গেছে, এই রুটের ফেরি বহরে যুক্ত হওয়ার ২৪ ঘণ্টা না যেতেই ফেরি বেগম রোকেয়া আবার বিকল হয়ে যায়। এখন ৭ ফেরি দিয়ে চলছে পারাপার। গত বুধবার সকাল থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার শিমুলিয়ায় ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। গত বৃহস্পতিবার প্রচণ্ড চাপ লক্ষ করা যায়। রোজার মধ্যে গরমে ঘাট ব্যবহারকারীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ফেরিতে উঠতে হচ্ছে। ঈদের এখনো ৪-৫ দিন বাকি। ফেরিঘাটে তীব্র যানজট ও মানুষের চাপে ভয়ের আশঙ্কাও তৈরি হয়। ঈদ মৌসুমে ফিটনেসহীন নৌযান নামানো, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই- এসব প্রবণতা বরাবরই ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে নৌ-যোগাযোগ। আগে থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা থেকে যায়। বিগত বছরগুলোয় বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীতে সংঘটিত নৌ-দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে নৌযানের ত্রæটিপূর্ণ ডিজাইন, ডিজাইন না মেনে নৌযান নির্মাণ, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মালপত্র এবং যাত্রী বহন, মাস্টার-সারেংদের অদক্ষতা ও অসতর্কতা, নদীর নাব্য সংকট, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, নৌযান মালিকদের দায়িত্বহীনতা এবং নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে চিহ্নিত করা হয়। দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো, দুর্ঘটনার এই কারণগুলো কিন্তু এখনো দৃশ্যমান। এরপরও ফিটনেসবিহীন অসংখ্য নৌযান চলাচল করছে। ঈদের সময় পুরনো ও চলাচলের বৈধতা নেই এমন নৌযানগুলো রংচং দিয়ে যাত্রী পরিবহন করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে তোলে। এটা কঠোর হাতে দমন করতে হবে। জানা যায়, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথে ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোটের মাধ্যমে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ খুলনা ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে যাতায়াত করেন। এ রুটে প্রতিদিন শত শত যাত্রীবাহী ও মালবাহী গাড়ি পারাপার করা হয়। প্রতি বছর এই সময়ে উজানের পলি জমে এ রুটে নাব্য সংকট দেখা দেয়। আমরা মনে করি, নৌ-নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করা প্রয়োজন। ত্রæটিপূর্ণ, সার্ভেবিহীন ও অনিবন্ধিত লঞ্চসহ সব ধরনের অবৈধ নৌযান চলাচল বন্ধে নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বিআইডব্লিউটিএর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা; দুর্যোগ মৌসুম বিবেচনায় ঈদের আগে অবৈধ নৌযান চলাচল বন্ধে নৌপথে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালু রাখার বিকল্প নেই। নৌযানগুলোকে আবহাওয়া বার্তা মেনে চলাচলে বাধ্য করা; আইন লঙ্ঘনকারী নৌযান, মালিক, মাস্টার ও চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; সব টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটে ক্লোজ সার্কিট টিভি স্থাপনসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে নির্বিঘœ ও নিরাপদ হতে পারে নৌপথে ঈদযাত্রা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়