রাশিয়ার ভেতরে হামলা, ইউরোপকে গ্যাস না দেয়ার হুমকি মস্কোর

আগের সংবাদ

নিশ্চিত হোক শ্রমিক অধিকার

পরের সংবাদ

টিকেট বিড়ম্বনা : ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমল না!

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২২ , ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ২৮, ২০২২ , ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

ঈদের আগে টিকেট পেতে ভোগান্তির খবর নতুন কিছু নয়। যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ট্রেনের টিকেট পাওয়া যেন সোনার হরিণ। কমলাপুর রেলস্টেশনে টিকেটের জন্য হাহাকার করছে ঘরমুখো মানুষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও বেশিরভাগ মানুষকে টিকেট না পেয়েই ফিরে যেতে হয়েছে। আবার অনলাইন জটিলতার কারণে অনেকে অপেক্ষা করেও টিকেট পাননি। তারা দুষছেন ‘সহজ ডটকমকে’। ট্রেনের মতো লঞ্চের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির টিকেট চাহিদাও বেশি। বেশিরভাগ লঞ্চের এই দুই শ্রেণির টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। বিভিন্ন রুটের বাসের ৬০-৭০ শতাংশ টিকেট বিক্রি শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে আসন ভর্তি করে বিভিন্ন রুটের বাস ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে বলে গণমাধ্যমে খবর আসছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের আগাম টিকেটের ৯৮ শতাংশই কাউন্টার ও অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে রিজার্ভের কোনো স্থান নেই। যেটা হয়েছে, ২ শতাংশ টিকেট রাখা হয় শুধু রেলওয়ের যারা কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন তাদের সুবিধার্থে। সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনে ভিআইপি কোটার নামে অনেক টিকেটই রাখা হয়। এমপি, সচিব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার জন্য ‘অঘোষিত’ কোটা রয়েছে। অভিযোগ হেলাফেলার সুযোগ নেই। এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি পুরো টিকেট ব্যবস্থাকে জিম্মি করে রেখেছে। তারা দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে টিকেট বিক্রি করে টু-পাইস কামিয়ে নিচ্ছে। এই চক্রের হাত থেকে রেলের টিকেট উদ্ধার করার কোনো উদ্যোগ নেই। বাড়তি চাহিদার কারণে বাড়তি ট্রেন যোগ করারও কোনো পরিকল্পনার কথা শোনা যায় না। এবার ঈদে ঘরমুখো মানুষের বাড়তি চাপ রয়েছে। করোনার কারণে গত দুই বছরে অনেকেই ঈদে বাড়ি যাননি। এবার মহামারি নিয়ন্ত্রণে আসায় এবং ঈদের ছুটি তুলনামূলকভাবে লম্বা হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, আগের দুই বছরের চেয়ে কয়েক গুণ মানুষ এবারের ঈদে গ্রামমুখী হবে। সেই চাপ সামলানোর সক্ষমতা আমাদের যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার নেই। ঈদযাত্রায় বাস, ট্রেন ও লঞ্চ এই তিন বাহনকেই প্রাধান্য দেয়া হয়। দেশের অধিকাংশ সড়ক-মহাসড়ক ভাঙাচোরা। ঢাকার প্রবেশ-বহির্গমন পথ থেকেই রয়েছে যানজট। পরিবহন ব্যবস্থাপনার অভাবে যানজট ও দুর্ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এবার এক কোটি ২০ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়বে। সড়ক পথে উত্তরাঞ্চলের পথগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। রাজধানীর গাবতলী-নবীনগর-ধামরাই, এয়ারপোর্ট-আশুলিয়া-বাইপাইল, এয়ারপোর্ট-গাজীপুর মহাসড়কের কোথাও ভাঙাচোরা, কোথাও চলছে উন্নয়ন কাজ। এবার ঘরমুখো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের চাপ পড়বে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটের ফেরিতে। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে প্রতিদিন ফেরি পারের অপেক্ষায় থাকছে যাত্রীবাহী বাস, মালবোঝাই ট্রাকসহ ঢাকামুখী শত শত গাড়ি। যাত্রী ভোগান্তি কতটা সীমিত রাখা যায় সে চেষ্টাই সংশ্লিষ্টদের থাকা উচিত। আগামী দুদিন পরিবহন চাপ বেশি থাকবে। এ কয়েকটা দিন পরিবহন মালিক-শ্রমিক, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং যাত্রীসাধারণ সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থানে দায়িত্বশীল আচরণ করেন তাহলে ঈদযাত্রা অনেকটাই নির্বিঘœ ও নিরাপদ রাখা সম্ভব।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়