‘নীরব দুর্ভিক্ষ’ চললে ৫ কোটি মানুষের ঈদযাত্রা, কেনাকাটা হয় কীভাবে?

আগের সংবাদ

জেলা পরিষদে দলের নেতারাই

পরের সংবাদ

তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষা করুন

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২২ , ১:১৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ২৬, ২০২২ , ১:১৮ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীতে খেলার মাঠকে ঘিরে তরুণ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটত। এখন সেইসব খেলার মাঠ নেই বললেই চলে। একে একে খেলার মাঠ দখল করে ভবন বা স্থাপনা গড়ে উঠছে। মাঠ রক্ষায় দাঁড়ালে হয়রানি মামলা হামলারও ঘটনা ঘটছে। গত রবিবার রাজধানীর কলবাগান এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে। গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, স্থানীয় তেঁতুলতলা মাঠ কলাবাগান এলাকার খোলা জায়গা হিসেবে পরিচিত। শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি সেখানে ঈদের নামাজ, জানাজাসহ বিভিন্ন সামাজিক আয়োজন হয়। স্থানীয়রা জায়গাটি মাঠ হিসেবেই ব্যবহার করে আসছেন। ওই মাঠে কলাবাগান থানার ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এজন্য পুরো মাঠে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হয়েছে। নির্মাণকাজও শুরু হয়েছে। নির্মাণের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে এলাকাবাসী। গত বছরের ২৪ আগস্ট ঢাকা জেলা প্রশাসনের এক নোটিসে বলা হয়, ডিএমপির কলাবাগান থানার নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য এ সম্পত্তি সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ওই নোটিসে এ জমিকে পতিত জমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে কলাবাগানের বাসিন্দা, পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন, সমাজকর্মী, উন্নয়নকর্মী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিশু-কিশোররা এ নোটিসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। গত রবিবার সকালে সেখানে গিয়ে ফেসবুকে লাইভ করেন সমাজকর্মী সৈয়দা রতœা। তিনি সেখানে ভবন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রী এবং কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার দৃশ্য দেখান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে পুলিশের কাছে মাকে আটক করার কারণ জানতে চাইলে সৈয়দা রতœার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছেলে পিয়াংশুকেও আটক করা হয়। রাতে মানবাধিকার কর্মী ও স্থানীয় লোকজন থানার সামনে বিক্ষোভ করলে সৈয়দা রতœা ও তার সন্তানকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এরপর থেকে প্রশাসনসহ নানা মহলে তেঁতুলতলা মাঠ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। মাঠ রক্ষায় মা-ছেলে আন্দোলন করছেন। সেখান থেকে বিনা কারণে কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়া আইন সমর্থন করে কি? পুলিশ বলছে, ঢাকা জেলা প্রশাসনের অনুমতির পরই থানা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে গত বছরের আগস্টে নোটিসও জারি করে জেলা প্রশাসন। এদিকে থানা ভবন করতে তেঁতুলতলা মাঠ বাদ দিয়ে বিকল্প জায়গা বের করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্ত সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। আমরাও দেখতে চাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। তেঁতুলতলা মাঠ থেকে নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেয়া হোক। মাঠটি আগামী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ হোক। রাজধানীতে দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে খেলার মাঠ ও পার্ক রয়েছে ৬৯টি। বলার অপেক্ষা রাখে না, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণের কারণে এসব মাঠ ও পার্কের বেশিরভাগই সংকুচিত এবং খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কৈশোরে একমাত্র বিনোদনের স্থান হলো খেলার মাঠ। বর্তমান সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির প্রধান কারণের মধ্যে খেলার মাঠের স্বল্পতা অন্যতম। এর জন্য সমাজব্যবস্থা ও মফস্বল শহরগুলোর অপরিণত পরিকল্পনাই মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ-সবল দেখতে চাইলে খেলাধুলার বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। এর জন্য খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও নতুন মাঠ তৈরির বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে মাঠ রক্ষার আইন মেনে চলতে হবে এবং এই আইন লঙ্ঘনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়