উপদেশ নয়, জাতীয় মানস গঠনে কাজ করুন

আগের সংবাদ

সভা চলাকালে তিন নেতাকে পেটালেন সাবেক এমপি বদি

পরের সংবাদ

ঈদে ফেরিঘাটে দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৪, ২০২২ , ১:২৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ২৪, ২০২২ , ১:২৫ পূর্বাহ্ণ

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে নৌপথের নিরাপত্তা এখন উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম মাওয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুট। কিন্তু নানা কারণে এ ঘাটে দুর্ভোগের বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে আসছে। বিশেষ করে অস্বাভাবিক হারে পলি পড়ায় মাওয়ার শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী রুটে নির্বিঘেœ যাত্রী পারাপার নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। ঈদের এখনো ৮-৯ দিন বাকি। এখনই ফেরিঘাটটিতে তীব্র যানজট দেখা যাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে খবর আসছে। এ ছাড়া ঈদ মৌসুমে ফিটনেসহীন নৌযান নামানো, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই- এসব প্রবণতা বরাবরই ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে নৌযোগাযোগ। আগে থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা থেকে যায়। বিগত বছরগুলোয় বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীতে সংঘটিত নৌদুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে নৌযানের ত্রæটিপূর্ণ ডিজাইন, ডিজাইন না মেনে নৌযান নির্মাণ, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মালপত্র এবং যাত্রী বহন, মাস্টার-সারেংদের অদক্ষতা ও অসতর্কতা, নদীর নাব্য সংকট, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, নৌযান মালিকদের দায়িত্বহীনতা এবং নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে চিহ্নিত করা হয়। দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো, দুর্ঘটনার এই কারণগুলো কিন্তু এখনো দৃশ্যমান। এরপরও ফিটনেসবিহীন অসংখ্য নৌযান চলাচল করছে। ঈদের সময় পুরনো ও চলাচলের বৈধতা নেই এমন নৌযানগুলো রংচং দিয়ে যাত্রী পরিবহন করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে তোলে। এটা কঠোর হাতে দমন করতে হবে। জানা যায়, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথে ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোটের মাধ্যমে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ খুলনা ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে যাতায়াত করেন। এ রুটে প্রতিদিন শত শত যাত্রীবাহী ও মালবাহী গাড়ি পারাপার করা হয়। প্রতি বছর এই সময়ে উজানের পলি জমে এ রুটে নাব্য সংকট দেখা দেয়। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নৌপথে নিরাপদ যাতায়াতের স্বার্থে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদারসহ ১২ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি। ভরা দুর্যোগ মৌসুমে ঈদ উদযাপিত হবে- এই বিবেচনায় আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন শুরু হয়ে ঈদপরবর্তী ১০ দিন এসব সুপারিশ অব্যাহত রাখার তাগিদ দিয়েছেন তারা। আমরা মনে করি, নৌনিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করা প্রয়োজন। ত্রæটিপূর্ণ, সার্ভেবিহীন ও অনিবন্ধিত লঞ্চসহ সব ধরনের অবৈধ নৌযান চলাচল বন্ধে নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বিআইডব্লিউটিএর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা; দুর্যোগ মৌসুম বিবেচনায় ঈদের আগে অবৈধ নৌযান চলাচল বন্ধে নৌপথে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালু রাখার বিকল্প নেই। নৌযানগুলোকে আবহাওয়া বার্তা মেনে চলাচলে বাধ্য করা; আইন লঙ্ঘনকারী নৌযান, মালিক, মাস্টার ও চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; সব টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটে ক্লোজ সার্কিট টিভি স্থাপনসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে নির্বিঘœ ও নিরাপদ হতে পারে নৌপথে ঈদযাত্রা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়