লস অ্যাঞ্জেলসে ঐতিহাসিক ‘মুজিবনগর দিবস’ উদযাপন

আগের সংবাদ

কোনো দলকে নির্বাচনে আনতে জোর করতে পারে না ইসি: আউয়াল

পরের সংবাদ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঈদে গলার কাঁটা দাউদকান্দির বলদাখাল ইউটার্ন

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২২ , ১:৪৫ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ১৮, ২০২২ , ১:৫৮ অপরাহ্ণ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশের লাইফলাইনখ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির ১০ কিলোমিটার অংশে এবারও যানজটে ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে। সংস্কার কাজ চলায় দাউদকান্দি ঘাট থেকে বালুবাহী ট্রাক বলদাখাল মোড়ে ইউটার্ন নিতে গিয়ে যানজট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

এছাড়া গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী উঠানামা, ফিটনেসবিহীন লোকাল মাইক্রোবাস গৌরীপুর-হোমনা সড়ক থেকে মহাসড়কে ওঠা। সবমিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রায় গলার কাটা হতে পারে বলদাখাল ইউটার্ন!

তবে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, যানজট এড়াতে ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকেই সংস্কার কাজ বন্ধ রাখার চিন্তা করছি। ঈদে ঘরমুখো মানুষ যাতে যানজটমুক্ত পরিবেশে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে সে লক্ষ্যে হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগর ও হাসানপুর এলাকায় ঢাকামুখী লেনের সংস্কার কাজের কারণে ধীরগতিতে চার লেনের যানবাহনগুলো দুই লেনে চলাচল করেছে। সড়ক ও জনপথের এ সংস্কারকাজ চলাকালীন ভিআইপিদের গাড়ি, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও লোকাল মাইক্রোবাস নিয়ম লঙ্ঘন করে চলাচল করে। এতে মহাসড়কের ওই অংশে যানজট সৃষ্টি হয়।

মহাসড়কের বারপাড়া ব্র্যাক অফিস থেকে শহিদনগর পার হয়ে দাউদকান্দি পর্যন্ত রাস্তায় সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। যখন কাজ চলমান থাকে, তখন মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে চার লেনের যানবাহন দুই লেনে চলতে দেখা গেছে। যদিও এখন যানজট নেই, তবে সংস্কার কাজ চলমান থাকলে ঈদে যানবাহনের চাপ বাড়ার সঙ্গে সৃষ্টি হবে যানজটের এমন আশঙ্কা সড়কে চলাচলকারী চালক ও যাত্রীদের।

অপরদিকে মেঘনা-গোমতী সেতুর পূর্বপাশে বালু পাথরের আড়ৎ। প্রতিদিন এখান থেকে কয়েক শতাধিক ট্রাক বালি ও পাথর নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। এসব ট্রাক মহাসড়কে উঠা এবং নামার সময় বলদাখাল এলাকার ইউটার্নে প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হয়। এখানে সৃষ্ট যানজটের চাপ গিয়ে পড়ে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজায়।

মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের ইনচার্জ মো. ইউনুস আলী শিকদার জানান, স্কেলসহ প্রতিদিন প্রায় ১৭/১৮ হাজার যান বাহনের টোল ১০টি কাউন্টার থেকে আদায় করা হচ্ছে। ছুটির দিনে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের কারণে এর সংখ্যা কিছুটা বাড়ে। তারপরও আমাদের এখানে যানজটের কোন সম্ভাবনা নেই। কিন্ত বলদাখাল এলাকায় বালু পাথরবাহী ট্রাকের কারণে সৃষ্ট যানজটের চাপ টোল আদায়কারী কাউন্টার গুলোর উপর পড়ে। এতে কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়।

শ্রমিক নেতা রকিব উদ্দিন রকিব বলেন, বলদাখাল এবং টোলপ্লাজা এলাকায় যখনই যানজট হয়, তখনই আমরা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে যাই। অতীতে উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর(অব.) মোহাম্মদ আলী ভাই নিজেও এখানে যানজট নিরসনে অংশ নিয়েছেন।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরে (কুমিল্লা) নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীত চাকমা ভোরের কাগজকে বলেন, সংস্কার কাজটি চলমান রাখতে চাই। যানজট যেন না হয় আমরা হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করার চেষ্টা করছি। এরপরও নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে প্রয়োজনে ঈদের আগে সংস্কার কাজ বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

কুমিল্লা রিজিওনের হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. রহমত উল্লাহ বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে যানজটের কোন আশঙ্কা করছি না। তবে বলদাখাল এলাকায় প্রচুর বালুর ট্রাক চলে। এগুলো বন্ধ করে দিতে পারলে ভালো, যদিও আমি এগুলো বদ্ধ করার পক্ষে, কিন্তু বন্ধ করতে পারছি না। গৌরীপুরে যখন পুলিশ থাকে তখন কোন সমস্য থাকে না। দাউদকান্দির জন্য অতিরিক্ত ফোর্স এবং মোবাইল পেট্রোল নিয়োজিত করা হবে। যারা পালা করে দায়িত্ব পালন করবেন।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়