শাহবাজ শরীফের ছেলে হামজার প্রতিদ্বন্দ্বীর হাত ভেঙে দেয়ার অভিযোগ!

আগের সংবাদ

মুজিবনগরে স্বাধীনতার সূর্যোদয়

পরের সংবাদ

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস ও কিছু বিপন্ন ভাবনা

আহমেদ আমিনুল ইসলাম

অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২২ , ১:৫৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২২ , ১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

মাত্র ক’দিন আগেই আমরা উদযাপন করলাম বাংলা নববর্ষ- পহেলা বৈশাখ। বাঙালি জীবনে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য। করোনা মহামারির জন্য গত দুটি বছর আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে নববর্ষ উদযাপন করতে পারিনি। এবার অনেকটা স্বাধীনভাবে শোভাযাত্রাসহ দেশের ছোট-বড় বিভিন্ন শহরে প্রথাগত ঐতিহ্যের স্মারকরূপে নানা আয়োজন ও উচ্ছ¡াসে নববর্ষ উদযাপিত হয়েছে। মানুষের মনে নববর্ষ সাহস ও প্রেরণা সঞ্চার করে। এ দিনের প্রেরণায় বাঙালির অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক জীবনের স্রোতধারা আবারো প্রবহমান হয়ে উঠে। বাঙালির রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনে নানা গুরুত্বপূর্ণ দিবস আসে। আসে অসাম্প্রদায়িক বহু বর্ণিল চেতনাসমৃদ্ধ জাতীয় দিবস। সেসব দিবস আমরা বৈচিত্র্যপূর্ণ আড়ম্বরে উদযাপন করি। আড়ম্বরের পাশাপাশি অনুষ্ঠানগুলোর অন্তর্গত অনুভব কতটা গভীরতায় সবাইকে স্পর্শ করে তা প্রশ্নসাপেক্ষ! সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২১ বছর বয়সি এক কিশোর নববর্ষকে ‘বিদাত’ ঘোষণা করে এবং তা উদযাপনে বিরত থাকার হুমকি দিয়ে আমাদেরকে এই প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সাধারণত এই বয়সের কিশোর তরুণদের কাছে প্রাগ্রসর চিন্তাভাবনার প্রকাশই প্রত্যাশিত। সে স্থলে তার এরূপ হুমকি আমাদের ভাবিয়ে তোলে বৈকি! এক শ্রেণির মাওলানারা ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’-কে হিন্দুয়ানি আখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়ে মূলত আওয়ামী বিদ্বেষী মনোভাব চাঙ্গা করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত আছে তাও অনেকের জানা।
বাঙালির হাজার বছরের সংস্কার, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং শাশ্বত রুচি ও জীবনবোধের গভীরতার স্পর্শে আমরা তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে পারিনি। বিগত ৫০ বছর আমরা আমাদের রাজনৈতিক আখের গোছাতে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম যে, নতুন প্রজন্ম কী আদর্শ, কী চেতনা নিয়ে বেড়ে উঠছে সে দিকে তাকাবার সময়ই পাইনি! এরই ফাঁকে আমাদের তরুণদের অনেকেই আজ স্বদেশ ও স্ব-ভূমির সংস্কার, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ভুলে পরাশ্রয়ী সংস্কার, সংস্কৃতিতে আচ্ছন্ন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের এই আচ্ছন্নতা ধর্মীয় উগ্রবাদিতায়ও রূপান্তরিত। আর ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা নিয়ে তাদের অপপ্রচারও সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আশঙ্কা জাগে, এভাবে চলতে থাকলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মঙ্গল শোভাযাত্রা বা আনন্দ শোভাযাত্রা যাই বলি না কেন পহেলা বৈশাখের উদযাপন বাঙালির জীবন থেকে হারিয়ে যাবে!
সংবিধানের চার মৌল স্তম্ভের অন্যতম বাঙালি জাতীয়তাবাদ হলেও বাঙালিত্বের ‘অহং’-কে বরং অবহেলাই করতে দেখেছি। বিশেষ করে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে তারা ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষে সংবিধানের মৌল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে রাজনৈতিক অপকৌশলে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারীদের ক্ষমতার অংশীদাররূপে অন্তর্ভুক্ত করে। এদেরই প্ররোচনায় স্বৈরশাসকরা বিভিন্ন পন্থায় বাঙালির শাশ্বত সংস্কার ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানতে শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় এদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থানের পথ প্রশস্ত হয়। দীর্ঘ ২১ বছর স্বৈর ও ছদ্ম স্বৈরশাসকের অধীনে রাষ্ট্র তার মুক্তিযুদ্ধকালীন সব আদর্শ ও চেতনার সর্বনাশ হতে দেখে! কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেও বিলুপ্তপ্রায় অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের আদর্শকে পরিপূর্ণরূপে প্রতিস্থাপন করতে পারেনি। উপরন্তু আওয়ামী লীগ প্রায় একযুগের অধিক সময় ক্ষমতায় থাকার মধ্যেও নানাভাবে নানামাত্রায় সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিস্তার ঘটেছে। এটি কী করে সম্ভব হয়েছে সে বিষয়ে গবেষণার অবকাশ থাকলেও সাধারণের ধারণা আওয়ামী লীগ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর রূপকার হলেও সেই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফসল ঘরে তুলেছে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি- ধর্মীয় উগ্রবাদী অপশক্তি! সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাকালে সেই বাস্তবতা উপলব্ধি করা যায়। ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রবর্তনের সুফল আওয়ামী লীগ নিজের ঘরে আদৌ তুলতে পেরেছে কি না তাও অনেকের সন্দেহ। বাঙালির শাশ্বত সংস্কৃতি সুরক্ষায় দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনাসম্পন্ন প্রতিটি মানুষেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধু একদা বলেছিলেন : ‘আমি বাঙালি, আমি মুসলমান, আমি মানুষ।’ তার দৃঢ়তা নিয়েই চিরকালীন বাঙালিত্বের অহংকারসহ আমাদের দাঁড়াতে হবে। ধর্মের নামে একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে গুরুত্ব দেয়া সংবিধানে বর্ণিত ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ নয়। সব ধর্মকে শ্রদ্ধার চোখে দেখা, সব ধর্ম পালনে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাই ধর্মনিরপেক্ষতার প্রেরণা। ধর্মনিরপেক্ষতা বিষয়ক ১৯৭২ সালের সংবিধান থেকে বিচ্যুত হওয়ার পরিণাম আমরা সামাজিক নানা উপদ্রপের মাধ্যমে অনুভব করছি। সাম্প্রতিক কালের ‘টিপ কাণ্ড’ বলি, বিজ্ঞানের শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের ‘ধর্ম অবমাননা’ বলি কিংবা নওগাঁয় হিজাব পরায় ‘বেত্রাঘাত কাণ্ড’ প্রভৃতি যে প্রসঙ্গের কথাই বলি না কেন সর্বত্রই দেখা যাবে এসবের অভ্যন্তরে রয়েছে সাম্প্রদায়িক উসকানি। এক শ্রেণির দুর্বৃত্ত কিংবা অসৎ ব্যক্তি নিজেদের অপকর্ম ও কেলেঙ্কারি ঢাকবার চেষ্টায় সাম্প্রদায়িক উসকানিকে নানাভাবে ব্যবহার করছে। রাজনৈতিক এবং সাংবিধানিকভাবে এ সংকট মীমাংসিত হয়নি বলে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর পরও আমাদের যেমন সাম্প্রদায়িকতা দেখতে হচ্ছে তেমনি স্বাধীনতার শতবর্ষ পূর্তির সময়ে আমাদের উত্তর প্রজন্মকেও তাই দেখতে হবে। দেখতে হবে আমাদের উত্তর প্রজন্মের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজনরেখাও। সেই বিভাজনরেখা নিশ্চিতরূপেই ধর্মীয় অবগুণ্ঠনের আবরণে আবৃত। ফলে পরস্পরবিরোধী মনোভাব নিয়ে বড় হতে থাকা প্রজন্ম এক সময় সাংস্কৃতিক সংকটকে আরো বেশি ঘনীভূত করে তুলবেন। সেরূপ পরিস্থিতিতে আমরা আমাদের বাঙালিত্বের সব অহংকারকেও ধূলিসাৎ হতে দেখব! কিন্তু আমরা জাতীয় এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধ্বংস ও পতন কোনোক্রমেই দেখতে চাই না। রাজনৈতিকভাবে সংস্কৃতির লালন সম্ভব না হলে এ থেকে পরিত্রাণও নেই। শুধু পহেলা বৈশাখই নয়- বাঙালির রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোকে আনুষ্ঠানিক আড়ম্বরের চেয়েও আন্তরিক প্রকাশের পথ খুঁজে পেতে হবে। অসাম্প্রদায়িক চেতনাসমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক মুক্তির জন্য বর্তমান সরকারই বা কতটুকু আন্তরিক তাও স্পষ্ট হতে হবে।
মুক্ত, স্বাধীন ও সার্বভৌম ভূখণ্ড হিসেবে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের সঙ্গে ১৭ এপ্রিল ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি দিন। মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণের আজ ৫১তম বার্ষিকী। মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী ও প্রবাসী সরকারের শপথ গ্রহণের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক। ১৭ এপ্রিল তাই শুধু একটি দিবস মাত্র নয়- বাঙালির হাজার বছরের সংগ্রামী জীবনের বংশ-পরম্পরার ইতিহাসে অনন্য এক অভিব্যক্তিরও নাম। এই দিনটির অভ্যন্তরে স্বাধীনতা লাভের যে চেতনা সক্রিয় তার মর্মমূলে ছিল গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষ ভাবনার দার্শনিক অভিপ্রায়। পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাস্ত করে বাঙালি কেবল স্বাধীনতা লাভের স্বপ্নই দেখেনি- দেখেছিল স্বাধীন দেশে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষ তথা অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রবর্তনের স্বপ্নও। এ ছিল সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সর্বান্তকরণের প্রত্যাশা। তাই মুক্তিযুদ্ধ শুরুর অল্প দিনের মধ্যেই ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। সপ্তাহান্তে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আমবাগানে যুদ্ধকালীন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি। তার অনুপস্থিতিতে উপ-রাষ্ট্র্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই অস্থায়ী সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় দিকনির্দেশনাসহ দেশে ও বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণের পর থেকে এ দেশের অগণিত কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, জনতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সেনাসদস্যরা দেশকে মুক্ত করার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
৯ মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামে ৩০ লাখ শহীদ আর আড়াই লাখ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে ২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে শুরু হওয়া যুদ্ধের সফল পরিণতি ঘটে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে। মুজিবনগর সরকার একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্রের সরকারের মতোই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সব প্রকার নীতি নির্ধারণসহ যুদ্ধের কৌশলগত বিষয়েও সিদ্ধান্ত গ্রহণে গভীর প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়। মুজিবনগর সরকারের মেধাবী নেতৃত্বে পাকিস্তান পরাজিত হয়। বাংলাদেশের মানুষও বংশ-পরম্পরায় এই দিনটির গৌরব ও মাহাত্ম্যের কথা স্মরণ করে। যুদ্ধরত একটি জাতিকে, একটি সুসংগঠিত মুক্তিবাহিনীকে সঠিক দিক-নির্দেশনা এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে বিজয় অর্জন পর্যন্ত নিয়ে আসা মহৎ নেতৃত্বগুণেরই পরিচয়। মুজিবনগর সরকারের প্রেরণা সমকালে সাধারণের মধ্যে যেমন বিস্তৃত ছিল তেমনি তাদের প্রভাবিতও করেছিল। তাই দেশমাতৃকার প্রতি মমত্ববোধের গভীরতায় লাখো মানুষ প্রাণ বিসর্জনেও কুণ্ঠিত হয়নি। কিন্তু আজ ৫১ বছর পর মুজিবনগর সরকার কিংবা সামগ্রিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা বাঙালিকে কতটুকু আপ্লুত রাখছে তা ভাবনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে! বাঙালির অসাম্প্রদায়িক নানা উৎসব আয়োজনে এরূপ প্রশ্ন চারদিক থেকেই আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রাখে! মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর পরও বাঙালিত্বের গর্বিত অহংবোধ নিয়ে আমাদের উদ্বিঘœ হতে হয়। কী বিভ্রান্তিতে তরুণ প্রজন্ম আজ আচ্ছন্ন তা ভাবলেই বিমর্ষ হতে হয়! এরূপ বিপণ্নতায় সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধারাও কম গøানি বোধ
করেন না।

আহমেদ আমিনুল ইসলাম : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়