নিয়মিত এই ৫ অঙ্গ পরিষ্কার না করলে বাড়তে পারে বিপদ

আগের সংবাদ

হাওরে স্থায়ী বাঁধ দেয়া সম্ভব নয়: পরিকল্পনামন্ত্রী

পরের সংবাদ

ইমরান খানের বিরুদ্ধে আজ রাতে কি অনাস্থাভোট হচ্ছে না

প্রকাশিত: এপ্রিল ৯, ২০২২ , ১:২৬ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ৯, ২০২২ , ১০:৩৫ অপরাহ্ণ

সংসদ অধিবেশন বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত মুলতবি
অনাস্থাভোট গ্রহণে স্পিকারের অস্বীকৃতি
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন ইমরানের
ভোট এড়াতে এমপি মন্ত্রীদের সংসদে বক্তব্য দীর্ঘ করার কৌশল

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের চোখ এখন পাকিস্তানের দিকে। আজ রাত ৮টার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর সংসদের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে ভোটাভুটি হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনও হয়নি। এদিকে ইমরান খান নিজের বাসভবনে আজ রাত ৯টায় দলীয় মন্ত্রীদের নিয়ে এক জরুরি সভা ডেকেছেন। অন্যদিকে বিরোধীদের প্রবল হই হট্টগোলের মধ্যেই পাকিস্তানের সংসদ অধিবেশন স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ন’টা পর্যন্ত মুলতুবি করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে দশটায় ফের বসবে অধিবেশন। ফলে অনাস্থা ভোট নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। অনেকেই মনে করছেন, আজ রাতে অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি না-ও হতে পারে। কারণ এই শেষ মুহূর্তেও ইমরানের সরকার অনাস্থা ভোট এড়ানোর কৌশল খুঁজতে কোনো চেষ্টাই বাদ রাখবে না। তাছাড়া গুঞ্জন চলছে, ইমরান ঘনিষ্ঠ সংসদ স্পিকার নিজেই ভোট হতে দিতে চান না। সময় পার করে দিতে ইমরানের দলীয় এমপি মন্ত্রিরাও দীর্ঘ বক্তৃতা করার কৌশল নিয়েছেন। শুধু কি তাই? শনিবারই রাতেই খবর আসে, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। খবর ডন, জিও নিউজ, আনন্দবাজার পত্রিকা, এনডিটিভি ও বিবিসির।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের একদল সাংসদ দেশটির স্পিকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেনো অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠান নিশ্চিত করা হয়। বিরোধী নেত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফও টুইট করে দ্রুত ভোটাভুটির দাবি জানিয়েছেন।

অনাস্থা ভোট পিছিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন পিটিআই দলের মন্ত্রী ও এমপিদেরকে বক্তব্য দীর্ঘায়িত করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। জিও টিভির খবরে বলা হয়েছে, মন্ত্রীদেরকে কমপক্ষে তিন ঘণ্টা করে বক্তব্য রাখার নির্দেশনা এসেছে শীর্ষ মহল থেকে। ফলে আজও অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোট হবে কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। জানা যায়, অধিবেশনের শুরুতেই প্রথম অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যের বাকি অংশ উপস্থাপন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি।

সংসদে বিকেলে সিদ্ধান্ত হয়, অনাস্থাভোট স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৮টার পরে অনুষ্ঠিত হবে। তবে এর আগে সংসদের স্পিকার আসাদ কায়সার অধিবেশনে ঘন্টার পর ঘন্টা পার করে দিয়েছেন, কিন্তু অনাস্থা ভোট শুরুর অনুমতি দেননি। এদিকে সরকার ও বিরোধী দলীয় এমপি মন্ত্রীদের হট্টগোলে ইফতার ও মাগরিব নামাজের পর অধিবেশন বসলেও তা রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার।

এদিকে সূত্রের বরাতে জিও নিউজ জানায়, স্পিকার বলেছেন যে যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার ৩০ বছরের সম্পর্ক, তাই তিনি ভোটগ্রহণের অনুমতি দিতে পারবেন না। সংসদ সচিবালয় সূতত্রের বরাতে বলা হয়, অধিবেশন সম্ভবত আজ রাত ১২টা পর্যন্ত চলবে। এদিকে এরই ফাকে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান রাত ৯টায় তার ফেডারেল মন্ত্রিসভার বৈঠক সেরে নেবেন। সুযোগ খুঁজবেন কিভাবে অনাস্থা ভোট আবারও বিলম্বিত কিংবা ঠেকিয়ে দেয়া যায়।

শনিবার (৯ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। দেশটির ৩৪২ আসনের পার্লামেন্টের মধ্যে অনাস্থা ভোটের নিয়ম অনুযায়ী এর সমর্থনে কমপক্ষে ১৭২টি ভোট পড়লেই মেয়াদ শেষের আগে ইমরান খানকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ক্ষমতাচ্যুত করা যাবে। জিও নিউজ বলছে, এই মুহুর্তে বিরোধীদের ১৯৯ জন এমপির সমর্থন আছে। অন্যদিকে ইমরান খানের পক্ষে আছে ১৪২ এমপির সমর্থন।

ধারণা করা হচ্ছে মি. খান ভোটাভুটিতে হেরে যাবেন, কারণ কয়েকটি শরীক দল তার সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করায় ইমরান খান পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ফেলেছেন।

ইমরানের দল রবিবার পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দিয়ে নতুন নির্বাচনের ডাক দেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট সেটিকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেওয়ায় এই অনাস্থা ভোট অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে।

অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটকে ঘিরে দেশটির পার্লামেন্টের বাইরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে দাঙ্গা পুলিশ।

এদিকে জিও নিউজকে উদ্ধৃত করে ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী আগামী সপ্তাহে ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট হতে পারে বলে জানিয়েছেন। এসময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও পিটিআইয়ের সাংসদরা জাতীয় পরিষদে অনুপস্থিত ছিলেন।

অধিবেশনে পাকিস্তানের বিরোধী দলের নেতা শাহবাজ শরিফ ইমরানকে উদ্দেশ্য করে ‘স্বৈরাচারের পালিত প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে দেশ শাসন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন। স্পিকারের কাছে আর্জি পেশ করে তিনি বলেন, সংবিধান ও আইনের পক্ষে থেকে অধিবেশন চালাতে হবে।

এসময় জাতীয় পরিষদের স্পিকার আসাদ কায়সার বলেন, ‘বৈশ্বিক ষড়যন্ত্র’ নিয়েও আলোচনা করা উচিৎ। যা প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কয়েকদিন ধরে দাবি করে আসছেন।

বিষয়টি নিয়ে সাংসদ ও স্পিকারের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে স্পিকার আসাদ কায়সার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।

অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর স্পিকার আসাদ কাইসারের চেম্বারে সরকারি দলের সামনের সারির সদস্য ও বিরোধী বেঞ্চের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে বিরোধীদল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অনাস্থা প্রস্তাবের ভোট প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে।

এ বৈঠকে সরকারি দলের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ্ মাহমুদ কোরেইশি ও পিটিআই নেতা আমির ডোগার এবং বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিলওয়াল ভুট্টো জারদারি, রানা সানাউল্লাহ, আয়াজ সাদিক, নাভিদ কামার ও মাওলানা আসাদ মাহমুদ অংশ নেন।

এই বৈঠকের পর বিরোধীদলীয় নেতার চেম্বারে বিরোধীদলগুলোর পার্লামেন্ট সদস্যদের একটি বৈঠক ডাকা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন ইমরানের দলের

পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। শনিবার (৯ এপ্রিল) তা দাখিল করা হয়। খবর ডন ও জিও নিউজের।

এদিন পার্লামেন্টে সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনীত অনাস্থা প্রস্তাবে ভোটাভুটি হওয়ার কথা। একইদিন সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে এই রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরির দেওয়া অনাস্থা প্রস্তাব খারিজের রায় পাকিস্তানের আইন এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট ওই রায় বাতিল করেন।

এদিকে রিভিউ পিটিশনে পিটিআই বলেছে, সংসদের ব্যাপারে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

এদিকে পাকিস্তানের আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনীত অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটাভুটি বিলম্বিত করার লক্ষ্যেই এই রিভিউ পিটিশন করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় রাত ৮টার পর অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।

ভোটাভুটি আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে?

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনীত অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটাভুটি আগামী সপ্তাহে হতে পারে বলে জানিয়েছে বেশ কয়েকটি পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের খবরে বলা হয়েছে, ইমরানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটাভুটি আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

রাশিয়া না যেতে বলেছিল যুক্তরাষ্ট্র: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিষদের উপদেষ্টা পাকিস্তানের প্রতিনিধিকে রাশিয়া সফর এড়াতে বলেছিলেন বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি।

তিনি সংসদে বলেছেন, যখন জাতীয় নিরাপত্তা কমিটিকে (এনএসসি) ‘অতিগোপনীয় নথির’ বিস্তারিত সম্পর্কে জানানো হয়েছিল তখন ফোরামটি তাৎক্ষণিকভাবে রাজনৈতিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সংসদে বিষয়টি প্রমাণের জন্য অধিবেশনের নির্দেশ দেয়।

বিকেলের অধিবেশনেও অনুপস্থিত ইমরান খান

প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর আবারও পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন শুরু হয়েছে। সকালের মতোই বিকেলে শুরু হওয়া অধিবেশনে অনুপস্থিত রয়েছেন ইমরান। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ইফতারির পর স্থানীয় সময় রাত আটটার দিকে ভোটাভুটি হতে পারে।

এদিকে, পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আপিল আবেদন করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট্র সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যেই দলের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে একটি পিটিশনের খসড়া তৈরি করেছে। খসড়ার বিষয়ে ইমরান খানের বাসভবনেই আলোচনা হয়েছে।

ইমরান খানের হারার সম্ভাবনা কতটা?

জাতীয় পরিষদের ৩৪২ জন সদস্যের মধ্যে ১৭২ জন মি. খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট দিলে তিনি হেরে যাবেন।

বিরোধী দলের সদস্যরা আজ বিপুল সংখ্যায় পরিষদে উপস্থিত রয়েছেন। বিরোধীরা দাবি করছেন মি. খানের বিপক্ষে ১৮০টি ভোট পড়বে বলে তারা ধারণা করছেন অর্থাৎ তারা আস্থাবান যে মি. খান এই ভোটে টিকতে পারবেন না।

পিএমএলএন বা নাওয়াজ শরীফের পাকিস্তান মুসলিম লিগ পার্টির নেতা শহীদ খাকান আব্বাসি বলছেন বিরোধী দলগুলো থেকে ১৬২টি ভোট নিশ্চিতভাবে মি. খানের বিপক্ষে যাবে এবং এর বাইরে আরও যে দশটি ভোট দরকার তা তারা সহজেই পাবেন বলে মনে করছেন।

অন্যদিকে, ইমরান খানের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দল এমকিউএম, ইমরান খানের তেহরিক-ই ইনসাফের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেবার পর মি. খানের হাতে রয়েছে মাত্র ১৬৪টি ভোট যা তার টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট নয়।

এমনও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে মি. খানের নিজের দলের ডজনখানেকের বেশি সদস্য দলের বিরুদ্ধে গিয়ে ভোট দিতে পারেন।

 

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়