সুপ্রিম কোর্টের হাতে ঝুলছে ইমরান খানের ভাগ্য

আগের সংবাদ

শ্রীলঙ্কায় সর্বদলীয় সরকার গঠনের আহ্বান প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার

পরের সংবাদ

পানি ঢুকছে খলারবন হাওরে, পাঁচ শতাধিক কৃষকের মাথায় হাত

প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২২ , ৮:৪৭ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ৪, ২০২২ , ৮:৫৪ অপরাহ্ণ

সুনামগঞ্জের শাল্লায় খলারবন ও বাঘারবন নামক দু’টি ছোট হাওরে দারাইন নদীর পশ্চিমপাড় উপচে পানি ঢুকে তলিয়ে যাচ্ছে ৬টি গ্রামের অন্তত পাঁচ শতাধিক কৃষকের বোরোধান।

সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে নদীর পানি বেড়ে উপচে ওই দু’টি হাওরে ঢুকে পড়ে। এতে দামপুর, খল্লি, চব্বিশা, রূপসা, মনুয়া ও সহদেবপাশা গ্রামের পাঁচ শতাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানান এলাকাবাসী।

চব্বিশা গ্রামের শের জামাল বলেন ওই হাওরে আমারও আড়াই কেয়ার জমি আছে। রাতের মধ্যেই তলিয়ে যাবে হাওরের কাঁচাধান। এই হাওরে ৬টি গ্রামের পাঁচশ কৃষক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে জানান তিনি। এই দু’টি হাওর তলিয়ে গেলে আরেকটি ছোট হাওর তলিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি। খল্লি গ্রামের রুবেল চন্দ্র সরকার বলেন দুপুরে নদীরপাড় উপচে পানি ঢুকে হাওরে। এতে অনেক কৃষকের কাঁচা ধান তলিয়ে যাবে।

কৃষকদের অভিযোগ প্রতিবছরই ওই হাওরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকল্প দেয়নি। ফলে অরক্ষিত অবস্থায় থাকে ওই হাওরের প্রায় ৩শ’ একর বোরোজমি। অন্যদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ও উপচে হাওর প্রবেশ করায় হাজারো কৃষকের মাঝে আতঙ্কিত রয়েছেন।

এমন অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে উপজেলা সদর সংলগ্ন কইয়ার হাওর, পুট্টিয়ার হাওর ও গোবরহরি হাওর। এই ৩টি হাওরে কয়েক হাজার একর জমিতে বোরোধান আবাদ করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ এসব হাওরে জমির পরিমাণ কম বলে ফসলরক্ষা বাঁধের বাইরে রাখা হয়। কিন্তু এসব হাওরের ফসলি জমির উপরই একমাত্র ভরসা হাজারো কৃষকের। এমন পরিস্থিতিতে অনেকই স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁধ তৈরে করে ফসল রক্ষার চেষ্টা করতে দেখা যায়।

হাওর বাঁচাও আন্দোলন উপজেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাস বলেন মাদারিয়া বাঁধে ১৪লাখ টাকার বরাদ্দ না দিয়ে সুখলাইন ও রঘুনাথপুর গ্রামের মধ্যে বাঁধ দিলে গোবরহরি হাওরটি সুরক্ষিত থাকত। ওই হাওরে ঘুঙ্গিয়ারগাঁও, রঘুনাথপুর ও যাত্রাপুর গ্রামের শতশত কৃষকের জমি রয়েছে। শাল্লা সরকারি ডিগ্রি কলেজের পূর্বদিকে একটি বাঁধ দিলে কইয়ারবন ও পুট্টিয়ারবন হাওরটি রক্ষা করা যেত। এখানে লুটতরাজ চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ব্যাপারে পাউবো’র শাখা কর্মকার্তা আব্দুল কাইয়ুমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভ করেননি তিনি।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকার্তা আবু তালেব বলেন পুটিয়া, রঘুনাথপুর, মোহনখল্লি, মনুয়া আমাদের এলাইনমেন্টের বাইরে (হাওরের বর্ধিতাংশের বাইরে) এরপরও যেহেতু এখানে কিছু ফসল আছে আমি কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছি। যাতে তারা স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি কাটে। আমরাও সহযোগিতা করছি। দাড়াইন নদীর পানি বেড়ে গেছে। পানির ধাক্কায় কিছু পানি মনুয়ার এদিকে ঢুকছে বলে জানান তিনি।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়