ডারবান টেস্টে ইতিহাস গড়তে টাইগারদের চাই ২৭৪ রান

আগের সংবাদ

এপ্রিল মাস থাকবে উত্তপ্ত, কালবৈশাখীর আশঙ্কা

পরের সংবাদ

বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের ৬ কূপ বন্ধ, রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২২ , ৮:৫৩ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ৩, ২০২২ , ৮:৫৩ অপরাহ্ণ

রমজান মাসের প্রথম দিনেই রাজধানীর জুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। দিনভর পাইপলাইনের চুলায় গ্যাস না পেয়ে নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। হঠাৎ করেই গ্যাসের এমন সংকটের কারনে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাসায় রান্না না হওয়ায় শত শত মানুষ নগরীর বিভিন্ন স্থানের রেষ্টুরেন্ট ও খাবারের দোকানগুলোতে ভিড় করেছে। গ্যাস সংকটের কারণে মানুষ বাসায় ইফতার বানাতে পারেনি। বাইরের খাবার দিয়েই প্রথম রোজা খুলতে হয়েছে।

গ্যাস সংকটের কারণ সম্পর্কে পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রের ছয়টি কূপ বন্ধ থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে পাইপলাইনে তীব্র গ্যাস সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকট পুরোপুরি কাঁটতে আরো কমপক্ষে এক সপ্তাহ লাগতে পারে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান জানিয়েছেন, বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রটি দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র। এই গ্যাক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটায় ৬টি কূপ বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা পরিস্থিতি দ্রুততম সময়ের মধ্যেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। রবিবার বিকালের দিকে একটি কূপ মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে। সোমবারের মধ্যে আরো ৩টি কূপ উৎপাদনে আসবে বলে আশা করছি। তবে একটি কূপ মেরামত করতে আরো সময় লাগবে বলে শেভরন জানিয়েছে। ৭০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো ঘাটতি থেকে যাবে। আগামী ৮ এপ্রিল একটি এলএনজির কার্গো জাহাজ দেশে পৌঁছবে। এই গ্যাস জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হলে আগামী ১০ এপ্রিল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।

পেট্টোবাংলা সূত্র জানায়, বিবিয়ানার ছয়টি কূপ থেকে শনিবার রাতে গ্যাস উত্তোলনের সময় বালি উঠতে শুরু করে। তখন কূপগুলো বন্ধ করে দিতে হয়। এতে উৎপাদন কমে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংকট দেখা দেয়।

আবাসিক এলাকায় সাধারণত প্রায় ২৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এখন সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ১৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এদিকে রবিবার দুপুরের দিকে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রের জরুরি মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের জন্য গ্যাস সরবরাহে ঘাটতিজনিত কারণে কিছু কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে কোনও কোনও এলাকায় সাময়িকভাবে সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এই অসুবিধার জন্য মন্ত্রণালয় আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছে।’ একই বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ফেসবুক পেইজের একটি পোস্ট দেয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর, মিরপুর, পল্লবী, কালশী, উত্তরা, বসুন্ধরা, খিলগাঁও, গোপীবাগ, রামপুরা, সেগুনবাগিচা এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গতকাল সকালের দিকেও অনেক স্থানে গ্যাস ছিলো। কিন্তু দুপুর থেকে রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট শুরু হয়। অনেক স্থানে নিভু নিভু অবস্থায় চুলা জ¦ললেও তা পানি গরমের কাজেও আসেনি। এই অবস্থায় অনেকেই গ্যাসের অপেক্ষায় থেকে বিকেল গড়িয়ে যায়। রোজার প্রথম দিনে এসব এলাকার বাসিন্দারা ইফতার বানাতে পারেনি। তারা তখন খাবার কিনতে হোটেল-রেষ্টুরেন্টে ভিড় করতে শুরু করে। সব এলাকার খাবারের দোকানগুলোতে নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়।

হাজারীবাগের বাসিন্দা গৃহবধু শিউলি জানিয়েছেন, দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই চুলায় গ্যাসে আঁচ কমে যায়। রান্নাও তখন শেষ হয়নি। রমজানের প্রথম দিনে এভাবে গ্যাস না পাওয়ায় বিপাকে পড়তে হয়েছে। বাইরে থেকে খাবার কিনে ইফতার করতে হয়েছে।

মোহাম্মদপুরের গৃহবধু তানজিন জানান, রোজার প্রথম দিনে এভাবে গ্যাসের কষ্ট মেনে নেয়া যায় না। গ্যাসের অভাবে সকাল থেকে রান্না করতে পারিনি। নার্গিস অঅক্তার জানান, সকাল থেকেই নিভু নিভু আগুন। গ্যাস না থাকার মতো। কোনো কিছুই করা যাচ্ছে না।

এদিকে এসব এলাকায় হোটেল ও ইফতারের দোকানগুলোতে তীব্র ভিড় দেখা গেছে ক্রেতাদের। অনেক ক্রেতাকেই ইফতার না কিনেই বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়