দ. আফ্রিকায় টেস্টে টস জিতে ফিল্ডিং, নেই তামিম-শরীফুল

আগের সংবাদ

গাইবান্ধায় মাদক মামলায় নারীর মৃত্যুদণ্ড

পরের সংবাদ

আখাউড়া স্থলবন্দরে ঈদকে সামনে রেখে তৎপর লাগেজ পার্টি

প্রকাশিত: মার্চ ৩১, ২০২২ , ২:২১ অপরাহ্ণ আপডেট: মার্চ ৩১, ২০২২ , ২:২১ অপরাহ্ণ

স্বাভাবিকভাবেই কোনো সাধারন যাত্রী আসার সময় তার প্রতিটি ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। অথচ বড়সড় ব্যাগে করে দেদারছে পণ্য নিয়ে আসছে ব্যবসায়ীরা। সেটা কিভাবে সম্ভব হচ্ছে? এমন প্রশ্নে ভারতের এক কাস্টমস কর্তকর্তা জানালেন, এ ধরণের কোনো বিষয় তার জানা নেই। এদিকে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানায়, নিয়মের বাইরে কেউ পণ্য আনলে সেগুলো থেকে শুল্ক আদায় করা হচ্ছে।

তারা জানায়, দেশের অন্যতম রপ্তানিমুখী এ বন্দর দিয়ে এখন দেদারছে আসছে ভারতীয় পোশাক। ঈদকে সামনে রেখে পোশাক আসার পরিমাণ আরো বেড়ে গেছে। এমনকী আসা শুরু করেছে প্রসাধনী। এতে দেশীয় পণ্যের বাজারে প্রভাব পড়ারও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এসব পণ্য আসার বিপরীতে কাস্টমস শুধুমাত্র শুল্ক আদায়ের মাধ্যমে বহনকারীদের ছাড় দিয়ে দিচ্ছে। যে কারণে এসব পণ্য আসা বন্ধ করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। চলতি মাসের ১ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত প্রায় ৩৩ লাখ টাকার পণ্যের বিপরীতে ৪৪ লাখ টাকা শুল্ক আদায় করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

যাত্রীদের ব্যাগেজ সুবিধার আওতায় উল্লেখ আছে, বিদেশ ফেরত যাত্রী যুক্তিসংগত পরিমাণে খাদ্যদ্রব্য, পরিধেয় গৃহস্থালী বা অন্যবিধ সামগ্রী ১৫ কেজি নিতে পারবেন। এর বেশি হলে তাকে নিয়ম অনুসারে শুল্ক সুবিধা দিতে হবে। এক বছরে একজন ব্যক্তি তিনবার ৪০০ ডলার পর্যন্ত দামের পণ্য নিয়ে যেতে পারবেন।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুল্ক আদায়ের বাইরেও অনেক পণ্য এমনিতেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আবার শুল্ক আদায়েও রয়েছে নানা ধরণের ফাঁকি। পণ্য আটকের পর ডিটেনশন মেমো (ডিএম) নামে যে কাগজটিতে জব্দ তালিকা করা হয় সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা নয়। নিজেরা এ ধরণের মেমো তৈরি করে তাতে সিল দিয়ে তালিকা তৈরি করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এছাড়া অনুমান নির্ভরতার কথা উল্লেখ করে নামমাত্র মূল্য দেখিয়ে এসব পণ্যের শুল্ক বসানো হচ্ছে।

একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারত থেকে পণ্য আনার সঙ্গে জড়িতরা এখন শুল্ক দিয়েই নিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কেননা, নামকাওয়াস্তে মূল্য ধরা হয় বলে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আনার চেয়ে অনেক টাকা কম লাগছে। সংশ্লিষ্টদেরকে ম্যানেজ করেই এখন এ পথ বাতলে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়ভাবে এভাবে পণ্য পরিবহনকারীদেরকে ‘লাগেজ পার্টি’ বলা হয়। তারা ওপার থেকে নিয়ে আসে। নিয়ে যায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থানে। এর সঙ্গে জড়িত দুই দেশের একাধিক চক্র। অন্তত ৫০ জন দম্পতি এভাবে পণ্য পরিবহনের কাজে জড়িত রয়েছেন বলে ধারণা পাওয়া যায়। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, ছাত্রনেতা, গণমাধ্যমকর্মী এর সঙ্গে জড়িত আছেন। ম্যানেজ করা হয়েছে কাস্টমসের একাধিক অসাধু কর্মকর্তাকে। তবে এ নিয়ে ভেতরে ভেতরে তৎপর থাকা একাধিক কর্মকর্তার জন্য সেভাবে তারা কুলিয়ে উঠতে পারছেন না।

এদিকে ভারতীয় পোশাক নিয়ে যাওয়ার সময় ২৪ মার্চ চার ভারতীয় নাগরিকসহ পাঁচজন র‌্যাবের হাতে আটক হয়। অথচ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র শুল্ক আদায়ের মাধ্যমে তাদেরকে ছাড় দিয়ে দিচ্ছে। নিয়ম অনুসারে কর্তৃপক্ষ এসব পণ্য জব্দ করারও এখতিয়ার রাখেন। গত ১৭ মার্চ কাপড় আটক হলে এ নিয়ে দিনভর ‘নাটক’ করে কাস্টমস। সাংবাদিকদের চাপের মুখে তারা সব পণ্যের বিপরীতে শুল্ক আদায় করতে বাধ্য হয়। এর আগে কিছু পণ্যের শুল্ক দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়।

আখাউড়া স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা শাহ মো. নোমান সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের কাছে সরবরাহকৃত নির্ধারিত ডিএম মেমো না থাকায় নিজেরাই করে নিচ্ছি। এক্ষেত্রে পণ্য আটকের পর মেমোতে সিল দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যে কারণে এ নিয়ে কোনো ধরণের সমস্যা হওয়ার কথা না। আমরা নিয়মের বাইরে কেউ পণ্য আনলে সেগুলোর উপর শুল্ক বসিয়ে দিচ্ছি।’

বুধবার দুপুরে আখাউড়া স্থলবন্দরে হওয়া সভা শেষে ভারতের আগরতলা স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারি কমিশনার রাকেশ কুমার চন্দ্রেশ বলেন, ‘এ ধরণের কোনো বিষয় আছে বলে আমার মনে হয় না। রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো কর নেই। তবে এক্ষেত্রে আমদানির বেলায় বাংলাদেশ কাস্টমস যদি মনে করে কর আদায় করবে সেটা করতে পারে।’

রি-জেবি/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়