শূন্যরেখায় বিজিবি-বিএসএফের জয়েন্ট রিট্রিট উৎসব

আগের সংবাদ

রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার ‘ক্রমবর্ধমান বাস্তবতা’: জাপানের প্রধানমন্ত্রী

পরের সংবাদ

মঞ্চে সাংসদকে ‘রাজাকারের ভাতিজা’ বললেন উপজেলা চেয়ারম্যান

প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২২ , ১১:৪৯ অপরাহ্ণ আপডেট: মার্চ ২৬, ২০২২ , ১১:৪৯ অপরাহ্ণ

কুমিল্লার বরুড়ায় স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুলকে ‘কুখ্যাত রাজাকারের ভাতিজা’ বলে সম্বোধন করেছেন বরুড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ এন এম মইনুল ইসলাম। এসময় সেই সংসদ সদস্য প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠান মঞ্চেই উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার (২৬ মার্চ) বরুড়া উপজেলা প্রশাসন মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দিতে এ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেয়ার সময় এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে রাজাকার পরিবারের সন্তানকে প্রধান অতিথি করায় মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মা শান্তি পাবে না।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে চেয়ারম্যানের এ বক্তব্যের দুই মিনিট ৫১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও। সেই ভিডিওতে চেয়ারম্যানকে বলতে শোনা যায়, যার নেতৃত্বে রাজাকার, আলবদর, আল শামস গঠন করা হয়েছিল, তিনি ছিলেন টুক্ক মিয়া। তার ভাই ছিলেন বরুড়ার আদ্রা ইউনিয়নের কুখ্যাত রাজাকার সামছুল আলম মিয়া। আর আজ যাকে এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি করা হয়েছে, তিনি আর কেউ নন, ১৯৭১ সালের সিএসপি কর্মকর্তা কুখ্যাত রাজাকার সামছুল আলমের ভাতিজা সাংসদ নজরুল। রাজাকার পরিবারের সন্তানকে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করায় আমি ক্ষোভ প্রকাশ করছি।

উপজেলা চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমার বাবা মরহুম আবদুল হাকিম ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং সাবেক এমপি। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমি তা মানতে পারছি না। প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মা শান্তি পাবে না।

এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যানের এ বক্তব্য নিয়ে কুমিল্লা-৮ আসনের সংসদ সদস্য নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল বলেন, আমার আপন কোনো চাচা নেই। ১৯৭১ সালের সিএসপি কর্মকর্তা ছিলেন আমার বাড়ির সামছুল আলম মিয়া। তাকে আমার সঙ্গে চাচা-ভাতিজা সম্পর্ক উল্লেখ করে অপপ্রচার করা হচ্ছে। উপজেলা চেয়ারম্যানের বক্তব্যের পর আমি এর ব্যাখ্যা দিয়েছি, কিন্তু সেই অংশ ফেসবুকে যায়নি।

জবাবে উপজেলা চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম বলেন, সামসুল আলম একজন স্বীকৃত রাজাকার ছিলেন। ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার নাগরিকত্ব বাতিল করেছিলেন। আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য তার ভাতিজা। এ বিষয়ে যাবতীয় প্রমাণ সরকারি দপ্তরে সংরক্ষিত আছে। এমন প্রমাণ আমার কাছেও আছে। এ বিষয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই, এটা সর্বজনস্বীকৃত এবং আমি যা বলেছি, দায়িত্ব নিয়েই বলেছি।

সেই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরুড়া ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর রাশেদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বরুড়া পৌরসভার মেয়র বকতার হোসেন বখতিয়ার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন লিংকনসহ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা ও তাদের পরিবার।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়