চীনে প্লেন বিধ্বস্ত: ১৩২ আরোহীর কারও বাঁচার সম্ভাবনা নেই

আগের সংবাদ

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় আমলাতন্ত্রের প্রভাব কেমন হওয়া উচিত?

পরের সংবাদ

নীলফামারী সরকারি কলেজের সংকট নিরসন হোক

জাফর হোসেন জাকির

শিক্ষার্থী, নীলফামারী সরকারি কলেজ

প্রকাশিত: মার্চ ২২, ২০২২ , ১:৪১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ২২, ২০২২ , ১:৪১ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি জেলা নীলফামারী। দুই শতাধিক বছর পূর্বে এ অঞ্চলে নীল চাষের খামার স্থাপন করে ইংরেজ নীলকরেরা। এ অঞ্চলের উর্বর ভূমি নীল চাষের অনুকূল হওয়ায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় নীলফামারীতে বেশি সংখ্যায় নীলকুঠি ও নীল খামার গড়ে ওঠে। স্থানীয় কৃষকদের মুখে নীল খামার রূপান্তরিত হয় নীলখামারীতে। আর এই নীলখামারীর অপভ্রংশ হিসেবে উদ্ভব হয় নীলফামারী নামের। নীলফামারী শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ও জেলার প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নীলফামারী সরকারি কলেজ। যার সংক্ষিপ্ত নাম নীলফামারী কলেজ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের চেতনা বুকে ধারণ করে পাঁচ/ছয় জন শিক্ষক আর ৫০-৬০ ছাত্রছাত্রী (২ জন ছাত্রী) নিয়ে ১৯৫৮ সালের ১৬ মে প্রতিষ্ঠিত হয় নীলফামারী কলেজ। পরবর্তীতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, মানসম্মত শিক্ষা প্রদান, শিক্ষার জন্য সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম এবং পরীক্ষায় ফল ভালো করায় ১৯৭৯ সালের ৭ মে এই বিদ্যাপীঠ জাতীয়করণ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার ফলে নাম পরিবর্তন করে নীলফামারী সরকারি কলেজ করা হয়। ধীরে ধীরে জেলার অন্যতম প্রধান কলেজের স্থান দখল করায় বর্তমানে কলেজের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার এবং ১৪টি বিষয়ে অনার্সসহ মোট ১৫টি বিষয়ে পাঠদান করা হয়। নীলফামারী জেলার ৬টি উপজেলার শিক্ষার্থী ছাড়াও অন্য জেলা থেকে এসে এই কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক (সম্মান), স্নাতক (পাস) ও স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে শিক্ষা গ্রহণ করেন। কলেজে শিক্ষক পদ সংখ্যা ৭৬ জন থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ৫০ জন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কোনো কলেজে অনার্স কোর্স থাকলে প্রতি বিষয়ের জন্য ৬-৭ জন শিক্ষক থাকার কথা। কিন্তু গতানুগতিকভাবে অন্যান্য কলেজের মতো নীলফামারী সরকারি কলেজেও শিক্ষক সংকট রয়েছে। রয়েছে পর্যাপ্ত ক্লাসরুম, লাইব্রেরির সেমিনারে বইয়ের সংকট। দুঃখজনক হলেও সত্য জেলার প্রধান বিদ্যাপীঠে প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য নেই কোনো পরিবহন ব্যবস্থা। ক্যাম্পাস থেকে যাদের বাড়ি ৩০-৪০ কিলোমিটার দূরে তাদের থাকতে হয় মেসে। চলতে হয় পরিবারের টাকায় কিংবা টিউশন করে। আর যাদের বাড়ি ১৫-২০ কিলোমিটারের আশপাশ বা তারও বেশি তাদের যাতায়াত করতে হয় গণপরিবহনে কিংবা সাইকেল চালিয়ে। ফলে ক্লাসে সময়মতো উপস্থিত হতে পারে না। দীর্ঘ পথ গণপরিবহনে বা সাইকেলে এসে পরীক্ষায় বসার মানসিকতা হারিয়ে ফেলে। আজকের প্রজন্ম আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আগামী দিনে তারাই দেশকে পরিচালনা করবে, দেশকে নেতৃত্ব দেবে। আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ ও সুন্দর মানসিকতা নিয়ে শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসন ও সরকারের কাজ।
জলঢাকা টেঙ্গনমারী থেকে নীলফামারী সরকারি কলেজের দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে গণপরিহনে যাতায়াত করতে হয়। ডোমার থেকে ২০ কিলোমিটার রাস্তা ৮০ টাকা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। যাদের বাড়ি সৈয়দপুর রোডে ১৫-২০ কিলোমিটার দূরে তাদেরও এরকম ভাড়া প্রতিদিন গুনতে হয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী চাইলেও প্রতিদিন ক্লাসে আসতে পারে না। ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকতে না পেরে বঞ্চিত হয় ক্লাস থেকে শুরু করে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে। শহর থেকে তিনটি রুটে যদি কলেজের পরিবহন ব্যবস্থা থাকত তাহলে শিক্ষার ব্যয় বাবদ প্রতিদিন পরিবহন ভাড়া থেকে মুক্তি মিলত অনেক শিক্ষার্থীর। গণপরিবহনের ভোগান্তি কিংবা সাইকেল চালিয়ে এসে ঘামে ভেজা ক্লান্ত শরীর নিয়ে ক্লাসে কিংবা পরীক্ষার হলে ঢুকতে হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থী ক্লাসে বা পরীক্ষায় বসার মতো মানসিকতা থাকে না।
নীলফামারী সরকারি কলেজের ছাত্রছাত্রীর জন্য ১টি করে হোস্টেল আছে যার সিট সংখ্যা শিক্ষার্থীর তুলনায় অপ্রতুল্য। মেয়েদের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ হলেও এখনো হোস্টেল চালু হয়নি। দূরদূরান্ত থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা হোস্টেলে সিট না পেয়ে মেসে ওঠে। ফলে খরচ বেড়ে যায়। আবাসিক সংকট নিরসনে নতুন ভবন নির্মাণ করতে হবে। বেশির ভাগ বিভাগে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারী একই বাথরুম ব্যবহার করে থাকেন। ফলে বাথরুমে যাওয়ার আগে হিসাব করে যেতে হয়। কলেজে একটি লাইব্রেরি থাকলেও পর্যাপ্ত বই নেই। ফলে ছাত্ররা লাইব্রেরি বিমুখী। মানসম্মত খাবারের জন্য নেই কোনো ক্যান্টিন। ফলে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে কোনোরকম খাবার খেতে পারে না। ক্যাম্পাসে মানসম্মত খাবার ক্যান্টিন স্থাপন করতে হবে। ছাত্র সংসদের ভবন থাকলেও সংসদ নির্বাচন কবে হয়েছে তার তারিখ জানা নেই কারো। ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতি ফেরাতে হলে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে।
শিক্ষায় নিম্নহার থেকে উত্তরণের জন্য, বাড়ি থেকে আসা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত সুস্থ মানসিকতা নিয়ে ক্লাসে উপস্থিত হওয়ার জন্য, সর্বোপরি গণপরিহনের অতিরিক্ত ভাড়া ও ভোগান্তি থেকে মুক্তির জন্য নীলফামারী সরকারি কলেজে বাস চালুসহ সব সংকট ও অব্যবস্থাপনা সমস্যার সমাধান করা সময়ের দাবি।
জাফর হোসেন জাকির
শিক্ষার্থী, নীলফামারী সরকারি কলেজ।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়