পাকিস্তানকে ২৩৫ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশের মেয়েরা

আগের সংবাদ

জল্পনার অবসান, কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধীই

পরের সংবাদ

চীনের কাছ থেকে সামরিক সহযোগিতা চেয়েছে রাশিয়া

প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২২ , ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ১৪, ২০২২ , ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ

চীনের কাছ থেকে রাশিয়া সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা চেয়েছে বলে ফিনান্সিয়াল টাইমস এবং নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছে যে, হামলা শুরুর পর থেকেই রাশিয়া চীনের কাছে সরঞ্জাম চেয়ে অনুরোধ করে আসছে। তবে রাশিয়া কি ধরনের সরঞ্জাম চেয়েছে তা উল্লেখ করতে অস্বীকার করেছেন কর্মকর্তারা। খবর বিবিসির।

চীন সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত হতে পারে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

নিউইয়র্ক টাইমসও মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি যোগ করে জানিয়েছে, রাশিয়া নিজের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব প্রশমনে অর্থনৈতিক সহযোগিতাও চেয়েছে।

এখন পর্যন্ত রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে চীন নিজেকে নিরপেক্ষ হিসেবে তুলে ধরেছে এবং দেশটিতে রুশ হামলা নিন্দা করেনি। আজ সোমবার মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান রোমে চীনা পররাষ্ট্র নীতির শীর্ষ কর্মকর্তা ইয়াং জিচির সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রবিবার এনবিসির সঙ্গে এক বৈঠকে সুলিভান বলেন, চীন কিংবা অন্য কোনো দেশ যাতে রাশিয়াকে তার অর্থনৈতিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে না পারে তা নিশ্চিত করবে যুক্তরাষ্ট্র।

চীন এখনও ইউক্রেনে হামলার নিন্দা জানাননি

চীনের লক্ষ্য যুদ্ধ ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে’ না দেয়া: দূতাবাস

রাশিয়া চীনের কাছে সামরিক সহযোগিতা চেয়েছে- সংবাদমাধ্যমের এমন প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেছেন, ইউক্রেনের যুদ্ধ যাতে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়’ তা নিশ্চিত করতে চায় বেইজিং।

দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেঙ্গ্যুকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, ‘ইউক্রেনের পরিস্থিতি সত্যিই উদ্বেগজনক’। দূতাবাসের মুখপাত্র বলেন, ‘এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সংঘাতময় পরিস্থিতি যাতে না বাড়ে বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় তা নিশ্চিত করা।’

এর আগে রবিবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চীনের কাছে রাশিয়া সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহায়তাও চেয়ে পাঠিয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন।

এসব প্রতিবেদন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ওই মুখপাত্র বলেন, আমি ‘এমন কিছু শুনিনি’। এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, চীন যদি রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তার পদক্ষেপ নেয় তবে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।

যুদ্ধের ১৮তম দিনে যা যা ঘটেছে

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার ১৮তম দিনে, পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইয়াভোরিভের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। প্রাণঘাতী এ হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত ও আরও ১৩৪ জন আহত হয়েছে। এ হামলা ন্যাটোভুক্ত দেশ পোল্যান্ড সীমান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং পয়েন্টের হয়।

হামলার পরের ভিডিও অনলাইনে পোস্ট করা হয়েছে এবং বিবিসি তা যাচাই করেছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে একটি বিশাল গর্ত এবং কাছাকাছি একটি ভবনে আগুন থেকে ধোঁয়া উড়ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বিবিসিকে বলেছেন, কীভাবে ‘রাতের আকাশ লাল হয়ে গেছে’। এ হামলার কারণে ভয় ছড়িয়ে পড়েছে যে এখনও পর্যন্ত পশ্চিমের শান্তিপূর্ণ অঞ্চলে এ সংঘাত শীঘ্রই ছড়িয়ে পড়বে।

রবিবার ইউক্রেনে কিয়েভের বাইরে লড়াই চলাকালে মার্কিন সাংবাদিক ব্রেন্ট রেনৌড রুশ সেনাদের গুলিতে নিহত হন

মার্কিন সাংবাদিক নিহত

রাজধানী কিয়েভের বাইরের লড়াই চলছে এবং ইরপিন শহরে একজন মার্কিন সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত ব্রেন্ট রেনৌড ৫০ বছর বয়সী একজন সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা ছিলেন। এর আগে তিনি নিউইয়র্ক টাইমসে সাংবাদিকতা করেছেন। তবে তিনি ইউক্রেনে পেশাগত কাজে দায়িত্ব পালন করছিলেন না।

কিয়েভের পুলিশ প্রধান আন্দ্রি নেবিতোভ বলেছেন, রুশ সেনারা তাকে টার্গেট করেছিলো। আহত আরও দুই সাংবাদিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এটি ইউক্রেনের যুদ্ধের খবর সংগ্রহ করছিলেন এমন একজন বিদেশি সাংবাদিকের প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।

সামরিক বাহিনীতে কিশোর যোদ্ধা

বিবিসির জেরেমি বোয়েন রাজধানীর ভেতরে কিশোরদের সঙ্গে কথা বলেছেন যারা ইউক্রেনের পক্ষে লড়াইয়ের জন্য কিয়েভের একটি কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

তাদের বেশিরভাগই কৈশোর পার হওয়ার মুখে। স্কুল পেরিয়েছে খুব বেশিদিন হয়নি। তারা জানায়, তিনদিনের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পরে তারা সম্মুখ যুদ্ধে বা এর খুব কাছাকাছি পদক্ষেপ নেবে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাঁটুতে প্যাড পরা ছিলো যা দেখতে খুব ছোট ছিল। কয়েকজনের কাছে স্লিপিং ব্যাগ ছিল। একজনের কাছে যোগ ব্যায়ামের মাদুর ছিলো।

১৮ বছর বয়সী দিমিত্রো তাকে বলেছিলেন, ‘আমি কিছুটা ভয় পাচ্ছি, কারণ কেউ মরতে চায় না, এমনকি তা আপনার দেশের জন্য হলেও। সুতরাং, মৃত্যু আমাদের জন্য কোন বিকল্প নয়’।

যুক্তরাজ্যের শরণার্থী প্রকল্প

যুক্তরাজ্যের গৃহায়ণমন্ত্রী ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের থাকার জন্য নকশা করা একটি প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন। হোমস ফর ইউক্রেন প্ল্যানের অধীনে, যুক্তরাজ্যের বাসিন্দারা ইউক্রেনের একজন ব্যক্তি বা একটি পরিবারকে ভাড়া না নিয়ে কমপক্ষে ছয় মাসের জন্য তাদের সাথে, বা তাদের অন্য সম্পত্তিতে থাকার জন্য মনোনীত করতে পারবে। স্পন্সর হতে আগ্রহীদের জন্য একটি ওয়েবসাইট সোমবার থেকে চালু হবে। এই প্রকল্পের অধীনে ইউক্রেনীয়দের কাজ করার এবং পাবলিক পরিষেবা পাওয়ার অনুমোদনসহ তিন বছরের জন্য থাকার অনুমোদন দেয়া হবে। স্পন্সররা প্রতি মাসে ধন্যবাদ হিসেবে ৩৫০ পাউন্ডের এর একটি কুপন পাবেন।

পরিকল্পনার সমালোচকরা বলছেন, এটি যথেষ্ট নয়।

রেড কার্পেটে, অভিনেতা বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি একজন শরণার্থী নেবেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সকলকে যা করতে হবে তা হল শরণার্থী সঙ্কট যতদিন থাকবে ততদিন আমাদের রাজনীতিবিদদের উপর চাপ অব্যাহত রাখা, পুতিন শাসনের উপর চাপ অব্যাহত রাখা, আমরা যে কোনও উপায়ে সাহায্য করা চালিয়ে যেতে পারি- হোক তা অনুদান বা শরণার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে, এটাই আমি করতে চাইছি- এবং করেছি।’

রাশিয়ার জনগণের দেশত্যাগ

একজন রুশ অর্থনীতিবিদের অনুমান অনুযায়ী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় দুই লাখ রুশ দেশ ছেড়েছে। রুশ ফ্লাইটের জন্য আকাশ সীমা বন্ধ করে দিয়েছে ইইউ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা। তাই তারা সেসব দেশে যাচ্ছে যেখানে ফ্লাইট এখনও অনুমোদিত এবং যেখানে ভিসার প্রয়োজন নেই। যেমন তুরস্ক, মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ ককেশাস। অনেকেই আর্মেনিয়ায় পালিয়ে গেছে।

বিবিসির রায়হান দিমিত্রি প্রতিবেশী জর্জিয়ায় আসা রুশদের সঙ্গে কথা বলেছেন। অনেককে তাদের স্যুটকেস ও প্রায়শই তাদের পোষা প্রাণী নিয়ে রাজধানী তিব্লিসির চারপাশে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।

২৩ বছর বয়সী রাজনীতির স্নাতক ইয়েভজেনি তাকে বলেছিলেন, ‘আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে পুতিনের শাসনের বিরুদ্ধে কাজ করার সর্বোত্তম উপায় হবে রাশিয়া থেকে আমার দেশত্যাগ’।

তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনীয়দের সাহায্যের জন্য আমার সাধ্যের সবটুকু করা আমার দায়িত্ব’।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।