রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে তুরস্কের ভূমিকা আসলে কী

আগের সংবাদ

আজকের সংবাদপত্র পর্যালোচনা

পরের সংবাদ

ইউক্রেন সংকটে এত তৎপর কেন ইসরায়েল

প্রকাশিত: মার্চ ১১, ২০২২ , ১০:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ১১, ২০২২ , ১০:০০ পূর্বাহ্ণ

ইউক্রেন সংকটের সমাধানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটকে ঘন ঘন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। গত শনিবার রাশিয়া সফরে ছিলেন তিনি। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি দাবি করেছেন, ইউক্রেনে সহিংসতা ও প্রাণহানি কমাতে এ পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। কিন্তু এর জন্য তিনি সঠিক মানুষ? মাত্র ৯ মাস আগে ইসরায়েলের ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন তিনি। এছাড়া আন্তর্জাতিক কোনো সংকট সমাধানে তিনি পরীক্ষিতও নন।

অনেকে মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও আরব বিশ্বে ইহুদি স্বার্থ সংরক্ষণ করার জন্যই তিনি এ পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এসব ইস্যুতেই গত শুক্রবার ও শনিবার পুতিনের বৈঠক করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনেট। এরপর জার্মানির বার্লিন সফরে যান এবং জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে একাধিকবার ফোনালাপ করেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে গত মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপ হয় তার। তবে এসব ফোনালাপের কোনোকিছুই প্রকাশ্যে আসেনি।

প্রশ্ন উঠছে, ইউক্রেন সংকটে হঠাৎ কেন তৎপরতা দেখাচ্ছে ইসরায়েল? এসব বৈঠক প্রসঙ্গে ইসরায়েল সরকারের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ইউক্রেনে হামলা বন্ধে বেনেটের নেতৃত্বে যারা কাজ করছেন, তারা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে এবং ব্যবধান কমিয়ে আনতে কাজ করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের উদ্দেশ্য হলো ইউক্রেনের চলমান এ সংকটে প্রায় দুই লাখ ইহুদিকে সরিয়ে নেয়া এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে করা। ইতোমধ্যেই সাড়ে তিন হাজার ইহুদি দেশটিতে আশ্রয় নিয়েছেন। অন্যদিকে সিরিয়ায় ইরানি সেনারা যাতে আর না বাড়ে সেজন্য ক্রেমলিনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বেনেট। গত সপ্তাহে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ার লাপিড বলেন, সিরিয়ায় রুশ সেনা থাকার অর্থ হলো, ইসরায়েলের একটি নিরাপত্তা সীমান্ত রাশিয়ার সঙ্গে রয়েছে।

বিশেষত সিরিয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার আগে রুশ সেনাদের সতর্ক করে থাকে ইসরায়েল। আর পর্যবেক্ষকদের অভিমত হলো, এই কারণেই দেশটি রাশিয়ার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, পুতিনের সঙ্গে বেনেট যে বৈঠক করেছেন তাতে ইসরায়েলের জনগণেরও সমর্থন আছে। ইসরায়েলের লক্ষ্য হলো সিরিয়ায় ইরানিদের হামলা কমাতে রুশ সেনাদের প্রভাবিত করা। অর্থাৎ রুশ সেনাদের ক্ষতির সম্মুখীন না করা। সামরিক বিশ্লেষক অ্যামোস হারেল বলেন, সিরিয়ায় অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসরায়েল যে স্বাধীনতা পায়, তা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা পুতিনের আছে। ইউক্রেন ইস্যুতে ইসরায়েলের মধ্যস্থতায় রাশিয়া যদি কোণঠাসা হয়ে পড়ে, তবে সিরিয়ায় ইসরায়েলের পদক্ষেপ নিতে পারেন তিনি।

ইউক্রেন সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে এবং এ সংকট সমাধানের সামর্থ্যও রয়েছে। এ সংকট সমাধানে পদক্ষেপ নেয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে রাশিয়া। এরপর আজ শুক্রবার (১১ মার্চ) যুদ্ধ ১৬ দিনে গড়িয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তিনবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছে এবং সবগুলোই ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আনাতোলিয়া শহরে তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ফল পাওয়া যায়নি। বৈঠকের আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের তুরস্ক সফরের ফলে সবার মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে, আর তা হলো ইসরায়েলও কি মধ্যস্থতায় তুরস্কের সঙ্গে যোগ দেবে? অবশ্য তিনি এ বৈঠকে মধ্যস্থতা করেননি। কিন্তু পরবর্তীতে যেসব বৈঠক হবে, সেগুলোতে করবেন কিনা সেটিও চিন্তার বিষয়।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়