প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

আগের সংবাদ

অবৈধ সম্পদ অর্জন: রূপগঞ্জের কমিশনার আতিকুরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

পরের সংবাদ

জামিনে মুক্ত হয়েই আত্মগোপনে যাওয়া আসামি ছয় বছর পর গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২২ , ৪:৫৬ অপরাহ্ণ আপডেট: মার্চ ১০, ২০২২ , ৪:৫৬ অপরাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানাধীন মেঘনা ঘাট এলাকা থেকে মোহাম্মদ মামুন শেখ (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। আজ বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত যুবক কদমতলীর টিটু হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও আয়নাবাজ গ্রেপ্তার সোহাগের অন্যতম সহযোগী।

২০১৭ সালে আদালত মামুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। তবে রায়ের আগে জামিনে বের হয়েই আত্মগোপনে চলে যায় সে। এ সময় জাহাজ মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করছিল সে। এর আড়ালেও সে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলো।

বৃহস্পতিবার দুপুরে যাত্রাবাড়ী র‌্যাব-১০ এর কার্যালয়ে মামুন শেখকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে র‌্যাব-১০ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান বলেন, ২০১০ সালের ২৬ নভেম্বর কদমতলী থানাধীন আউটার সার্কুলার রোডে নোয়াখালী পট্টিতে পূর্বশত্রুতার জের ধরে হুমায়ুন কবির ওরফে টিটুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আলোচিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিরা হল- মোহাম্মাদ মামুন শেখ (৩৩), সোহাগ ওরফে বড় সোহাগ (৩৪), সোহাগ ওরফে ছোট সোহাগসহ (৩০) অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজন। মামুন শেখ টিটু হত্যা মামলার দ্বিতীয় আসামি হিসেবে ২০১৪ সালে গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তি লাভ করে। তবে কারাগার থেকে বের হয়েই ফেরারি হয় সে। পরে গত ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর ওই মামলার দ্বিতীয় আসামির অনুপস্থিতিতে আদালত রায় প্রকাশ করেন। আদালত মোহাম্মাদ মামুন শেখের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

র‌্যাব-১০ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি আরও বলেন, ২০১৫ সালে কদমতলী থানাধীন জুরাইন এলাকায় মামুন, হাবু, চান মিয়া ওরফে চানু, শুকুর, দিপু, স্বপন, রকি ও ইব্রা মিলে একসঙ্গে ইয়াবা, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসা করতো। টাকা ভাগাভাগি নিয়ে চান মিয়া ও ইব্রার সঙ্গে মামুনসহ অন্যদের বিরোধ তৈরি হয়। এর ফলে তারা দুই দলে বিভক্ত হয়ে যায়। পরবর্তীতে মামুন ও হাবুদের মাদক ব্যবসায় চান মিয়া বিভিন্নভাবে বাধা দিলে মামুন ও তার দল চান মিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরবর্তীতে চান মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে কদমতলী থানাধীন জুরাইন বাগানবাড়ী এলাকায় ইব্রার পাশের বাড়িতে গেলে চান মিয়াকে না পেয়ে তার ভাই ও সহযোগী ইব্রাকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানায়, সে নিজেকে লুকিয়ে রাখার জন্য মুন্সিগঞ্জে ছয়মাস, যশোরে নয়মাস, মেঘনা ঘাট লাকি ডগইয়ার্ডে পাঁচমাস, ধামুরাইতে চারমাস, নবীনগরে দুইমাস, মেঘনা ঘাট মদিনা ডগইয়ার্ডে সাত মাস করে বিভিন্ন এলাকায় মিথ্যা পরিচয়ে জাহাজ মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করে। এ পেশার আড়ালেও সে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, ডাকাতি ও কন্ট্রাক্ট কিলিংসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলো। এছাড়া তার বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় দুটি হত্যা মামলাসহ চারটি মামলা রয়েছে।

আর- এআরজেড / ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়