মার্কিন যুদ্ধবিমানে চীনের পতাকা লাগিয়ে রাশিয়া হামলার পরামর্শ ট্রাম্পের

আগের সংবাদ

ট্রেনে আজ থেকে দাঁড়িয়ে যাওয়া যাবে

পরের সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ সর্বস্তরের মানুষকে সংগঠিত করে: মসয়ূদ মান্নান

প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২২ , ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ৮, ২০২২ , ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ

তুরস্কের আংকারায় ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। সোমবার (৭ মার্চ) সকালে কর্মসূচির শুরুতে দূতাবাস প্রাঙ্গনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মসয়ূদ মান্নান। এ সময় করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়াংশে জুম অ্যাপে রাষ্ট্রদূত মসয়ূদ মান্নানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মিনিস্টার ও মিশন উপ-প্রধান মিজ শাহ্নাজ গাজী অনুষ্ঠানের সূচী ঘোষণা করেন। শুরুতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও দেশের প্রতি প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। বাণী পাঠের পর আইসিটি বিভাগ থেকে পাওয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের (রঙিন ধারণ করা) ওপর নির্মিত ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

পরে রাষ্ট্রদূতের উপস্থাপনায় অতিথিরা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অংশগ্রহণ করে ৭ মার্চের ভাষণের ওপর আলোচনা ও কবিতা আবৃত্তি করে শোনান।

আলোচনা পর্বে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য এবং বাঙালীর জাতীয় জীবনে এ ভাষণের গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত সূচনা বক্তব্য রাখেন। এই অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর মুহাম্মদ সামাদ, সাংবাদিক ও লেখক সৈয়দ বদরুল আহাসান, বিএসএমএমইউ এর অধ্যাপক মামুন আল মাহাতাব, গ্রীন ইউনিভার্সিটির ডিন অধ্যাপক ফারহানা হেলাল মেহতাব, মেম্বার সেক্রেটারী ভিশন ২০২১ এবং হাঙ্গার ফ্রি ওয়াল্ডের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ আতাউর রহমান মিটন, কানাডা থেকে মুক্তধারা প্রকাশনার স্বত্বাধিকারী জহর লাল সাহা, ৭ মার্চ ১৯৭১ এর ভাষণের ওপর ডকুমেন্টারী চিত্র নির্মাতা শাকিল রেজা ইফতি, জার্মান বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট খান লিটন ও মস্কো থেকে রাশিয়ায় বঙ্গবন্ধু বই-এর লেখক বারেক কায়সার অংশগ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রদূত মসয়ূদ মান্নান তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা ও তার পরিবারের প্রতি স্মৃতিচারণমলূক আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণই ছিল প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। ৭ মার্চের ভাষণের পরই সমগ্র দেশ জুড়ে বাংলার সর্বস্তরের মানুষ সংগঠিত হতে শুরু করে। যা স্বাধীনতার আন্দোলনে যোগদানের রূপ পরিগ্রহ লাভ করে ২৫ মার্চের কালরাত্রে বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তারের পর। একই পথ পরিক্রমায় ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যূদয় ঘটে।

আলোচনাকালে রাষ্ট্রদূত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে ’৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ’৫৪ এর নির্বাচন, ’৬৬ এর ছয়দফা, ’৬৯ এর গণ-অভ্যূত্থান, ’৭০ এর নির্বাচন ও ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস উপস্থিত অতিথিদের সামনে সবিস্তারে তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূত মসয়ূদ মান্নান বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ঐতিহাসিক গুরুত্ব পৃথিবীতে বিরল এবং এ ভাষণের অন্তর্নিহিত সম্মোহনী শক্তির বিকাশ এতই শক্তিশালী ছিল, যার মর্মার্থ সমসাময়িক বিশ্বে যেমন-ভিয়েতনাম, এঙ্গোলাসহ অনেক দেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রেরণা দান করে। যার ফলে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেসকো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার, আ লিস্ট অব ওয়ার্ল্ড’স ইম্পরট্যান্ট ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

এছাড়া তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নে এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে সকলকে দেশে-বিদেশে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে এবং আগামীর সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গঠনে ব্রতি হওয়ার আহবান জানান।

কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে দূতাবাসে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের নিয়ে ৭ মার্চ উপলক্ষে কেক কাটা হয় ও বাংলাদেশের চিরাচরিত খাবার পরিবেশন করা হয়।

টিআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়