সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ আওয়ামী লীগ ব্যবসায়ীদের কারসাজি

আগের সংবাদ

সয়াবিন তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে হাইকোর্টে রিট

পরের সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র করেছিল: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: মার্চ ৬, ২০২২ , ৩:০৭ অপরাহ্ণ আপডেট: মার্চ ৬, ২০২২ , ৪:১১ অপরাহ্ণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ছিল কৌশলী। এ ভাষণ নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র করেছিল বলে মনে করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

রবিবার (৬ মার্চ) দুপুর ১২ টায় জাতীয় জাদুঘরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মিলনায়তনে ‘৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাষণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র যুদ্ধের সৈন্যতে পরিণত করতে পেরেছিলেন। ১৯৭১ সালে একটি প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ সাধারণ মানুষের জনযুদ্ধে পরিণত হয়। শত্রু সেনার সামনে জনসাধারণকে এই ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষমতা ছিল ভাষণে। মেঠো ভাষায় ও সাধারণ মানুষের ভাষায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ছিল খুবই কৌশলী। তিনি ভাষণে নিরস্ত্র মানুষকে স্বাধীনতার ডাক দেন, কিন্তু দেশ স্বাধীন করতে বলেননি। তাই সামরিক বাহিনীর লোকজন পশ্চিম পাকিস্তানে খবর পাঠায়, চতুর শেখ মুজিব স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন। কিন্তু দেশ স্বাধীন ঘোষণা করেননি। তাই কার্যত আমাদের দেখা ছাড়া কিছুই করার নেই। এভাবেই বঙ্গবন্ধু নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেছিলেন।

তাই এ ভাষণের গুরুত্ব কম নয় বলে মন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে বাঙালিরা কখনোই স্বাধীন ছিল না। নবাব সিরাজউদ্দৌলাও দিল্লির বাদশাকে কর দিতেন। এরপর নানা শাসক বাংলার ক্ষমতায় আসলেও বাঙালি জাতি কখনোই স্বাধীন হয়নি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি জাতি স্বাধীন জাতিসত্তা হিসেবে বিশ্বের দরবারে স্বীকৃত। এ স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভাষণের সামনে লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত হয়। বিশ্বের আর কোনো ভাষণে এত মানুষ ছিল না।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ আরও বলেন, কিন্তু বিএনপিসহ তাদের মিত্ররা ৭ মার্চের ভাষণ পালন করে না। ৭ মার্চের ভাষণ বাদে তো আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাবা যায় না।


‘৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাষণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্তসহ অন্য অতিথিরা। ছবি: ভোরের কাগজ

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, বিশ্বনেতাদের যত কালজয়ী ভাষণ আছে তার মধ্যে কেন ৭ মার্চের ভাষণ অনন্য- কারণ এ ভাষণ জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র বাঙালি জাতিকে একত্র করেছিল। বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ লিখিত ছিল না। সামরিক বাহিনীর হুমকি, মাথার ওপর উড়ছে সামরিক হেলিকপ্টার, কামানের গোলা তাক করা। আবার একই সঙ্গে সামনে লক্ষ জনতা। তাদের চাওয়া-পাওয়াও পূরণ করতে হবে। এমন মূহুর্তে বঙ্গবন্ধু দৃঢ়চিত্তে কৌশলীভাবে বাঙালির স্বাধীনতার ডাক দেন। তবে ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে তেমন গবেষণা হয়নি। এটি করার কথা ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, তারা এখনও এটি করতে পারেননি। যারা স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্ক তোলে, তা এ গবেষণার মাধ্যমে শেষ হয়ে যেত।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণে ভাষার শব্দ চয়ন, বাচনভঙ্গি ও দৃঢ়কণ্ঠের বক্তব্য আর কোনো ভাষণে দেখা যায় না। বঙ্গবন্ধু আরও বহু ভাষণ দিয়েছেন কিন্তু ৭ মার্চের ভাষণ অনন্য। কিন্তু দুর্ভাগ্য ৭ মার্চের ভাষণ যথাযথ মূল্যায়িত হয়নি। কিভাবে পেলাম স্বাধীনতা তরুণ প্রজন্মকে জানাতে এ ভাষণ সকল স্তরের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। আজ বঙ্গবন্ধু নেই, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এ ভাষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, সম্পাদক শ্যামল দত্তের মতো আমাদেরও আক্ষেপ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে আওয়ামী লীগের যে গবেষণা করার দরকার ছিল, তা এখনও পূরণ হয়নি। বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমরা দেখেছি বিশ্বে এ ভাষণ কতটা গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। আমাদের দেশে যথাযথ মূল্যায়নের উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

কবি নির্মলেন্দু গুণ ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আজও অমর হয়ে আছে। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণায় যে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তার ওপর আমি একটি কবিতা লিখি। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ১৯৭১ এ যেমন সকলকে উজ্জীবিত করেছিল, তা এখনও করে। তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ৭ মার্চের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপি বলেন, ৭ মার্চ ভাষণে বঙ্গবন্ধু ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বক্তব্যে এক ধরনের অলিখিতভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সেই বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করে তারা দেশের কখনো ভালো চায়নি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সেই ‘আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না’ মতো কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি। তাই নতুন প্রজন্মকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে সোনার বাংলা গড়ার আহবান জানান পপি।

আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় এর আগে বঙ্গবন্ধুসহ বিশ্বনেতাদের কালজয়ী ভাষণের ওপর ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এরপর বিশিষ্ট অভিনেতা ও আবৃত্তিকার জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতা ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ আবৃত্তি করেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক।

টিআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়